সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৯ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
মুসলিম বিশ্ব বিপজ্জনক চ্যালেঞ্জর মুখে: সৌদি বাদশাহকে এরদোয়ানের হুঁশিয়ারি  » «   ‘জগাখিচুড়ি মার্কা ঐক্য টিকবে না’–কাদের  » «   ইমরানের এক টুইটেই দরজা বন্ধ!  » «   কুচকাওয়াজে হামলার প্রতিশোধে ইরানকে সহযোগিতা করবে রাশিয়া  » «   ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন: ৩ উৎকণ্ঠা ৩ দাবি  » «   টেস্টে উত্তীর্ণ না হলে মূল পরীক্ষায় বসার সুযোগ নেই  » «   সরকার উৎখাতে দুর্নীতিবাজরা জোট বেঁধেছে: প্রধানমন্ত্রী  » «   জাতীয় নির্বাচন শান্তিপূর্ণ না হওয়ার কারণ দেখছি না: বনমন্ত্রী  » «   যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী  » «   মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিরোধীদলের বিজয় দাবি  » «   দেশের তিন শিশুর একটি খর্বকায়  » «   লন্ডনে প্রধানমন্ত্রীর হো‌টে‌লের সাম‌নে বৃষ্টি উপেক্ষা করে বিএন‌পির বিক্ষোভ  » «   বিশ্বের চতুর্থ ভয়ঙ্করতম সংগঠন মাওবাদী!  » «   ফেঁসে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড আবেদনকারীরা  » «   শাবিপ্রবিতে ছাত্রী হলের পানিতে মিলছে কেঁচো-জোঁক!  » «  

জাপানীরা কেন সবার থেকে আলাদা?



বিচিত্র ডেস্ক::জাপানে বড় নেতা তৈরি হয়না কিন্তু গড়ে এরা সবার সেরা মানুষ। জাপানী দল বিশ্বকাপে হেরে গেলেও জাপানী দর্শকরা গ্যালারী পরিষ্কার করে স্টেডিয়াম ত্যাগ করেন। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে হেরে গিয়ে জাপানের সম্রাট হিরোহিতো আমেরিকার প্রতিনিধি ম্যাক আর্থারের কাছে গেলেন। প্রতীকি আইটেম হিসাবে নিয়ে গেলেন এক ব্যাগ চাল। হারাকিরি ভঙ্গিতে হাটু গেড়ে মাথা পেতে দিয়ে বললেন, আমার মাথা কেটে নিন আর এই চালটুকু গ্রহণ করুন। আমার প্রজাদের রক্ষা করুন। ওরা ভাত পছন্দ করে। ওদের যেন ভাতের অভাব না হয়।

সম্রাট হিরোহিতোর এই ক্যারেক্টার আমেরিকানদের পছন্দ হলো। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের কুখ্যাত মহানায়কদের মধ্যে কেবলমাত্র হিরোহিতোকে বিনা আঘাতে বাচিয়ে রাখা হলো। ২০১১ সালের ১১ই মার্চ। টি’সুনামির আগাম বার্তা শুনে এক ফিশারি কোম্পানীর মালিক সাতো সান প্রথমেই বাচাতে গেলেন তার কর্মচারীদের। হাতে সময় আছে মাত্র ৩০ মিনিট। প্রায়োরিটি দিলেন বিদেশি (চাইনিজ) দের। একে একে সব কর্মচারীদের অফিস থেকে বের করে পাশের উচু টিলায় নিজ হাতে রেখে এলেন। সর্বশেষে গেলেন তার পরিবারের খোজ নিতে। ইতিমধ্যে টি’সুনামি এসে হাজির। সাতো সানকে চোখের সামনে কোলে তুলে ভাসিয়ে নিয়ে গেল। আজও নিখোজ হয়ে আছে তার পরিবার। সাতো সান অমর হলেন চায়নাতে।

চাইনিজরা দেশে ফিরে গিয়ে শহরের চৌরাস্তায় ওনার প্রতিকৃতি বানিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন। যাদের জাপান সম্পর্কে ধারণা আছে তারা সবাই জানেন, যদি ট্রেনে বা বাসে কোন জিনিস হারিয়ে যায়, অনেকটা নিশ্চিন্তে থাকতে পারেন, ঐ জিনিস আপনি অক্ষত অবস্থায় ফেরত পাবেন। গভীর রাতে কোন ট্রাফিক নেই, কিন্তু পথচারী ঠিকই ট্রাফিক বাতি সবুজ না হওয়া পর্যন্ত পথ পার হচ্ছেন না। ট্রেনে বাসে টিকিট ফাকি দেয়ার হার (%) প্রায় শুন্যের কোঠায়। একবার ভুলে ঘরের দরজা লক না করে এক ভারতীয় দেশে গেলেন। মাস খানেক পর এসে দেখেন, যেমন ঘর রেখে গেছেন, ঠিক তেমনই আছে। এই শিক্ষা জাপানীরা কোথায় পায়? সামাজিক শিক্ষা শুরু হয় কিন্ডারগার্টেন লেভেল থেকে। সর্বপ্রথম যে তিনটি শব্দ এদের শেখানো হয় তা হলো- কননিচিওয়া (হ্যালো) – পরিচিত মানুষকে দেখা মাত্র হ্যালো বলবে। আরিগাতোউ (ধন্যবাদ) – সমাজে বাস করতে হলে একে অপরকে উপকার করবে। তুমি যদি বিন্দুমাত্র কারো দ্বারা উপকৃত হও তাহলে ধন্যবাদ দিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবে। গোমেননাসাই (দুঃখিত) – মানুষ মাত্রই ভুল করবে এবং সেই ভুলের জন্য ক্ষমা চাইবে। এগুলো যে শুধু মুখস্ত করে শেখানো হয় তা না। বাস্তবে শিক্ষকরা দক্ষতার সাথে সুযোগ পেলেই ব্যবহার করবেন এবং করিয়ে ছাড়বেন।

সমাজে এই তিনটি শব্দের গুরুত্ব কত তা নিশ্চয়ই অনুধাবন করতে পারছেন। এই শিক্ষাটা ওরা বাল্যকাল থেকে পায়। আমাদের রাজনীতিবিদরা এবং আমরা সবাই বাল্যকালটা যদি কোন রকমে জাপানের কিন্ডারগার্টেনে কাটিয়ে আসতে পারতাম! কিন্ডারগার্টেন থেকেই স্বনির্ভরতার ট্রেনিং দেয়া হয়। সমাজে মানুষ হিসাবে বসবাস করার জন্য যা দরকার – নিজের বই খাতা, খেলনা, বিছানা নিজে গোছানো; টয়লেট ব্যবহার, পরিষ্কার করা; নিজের খাবার নিজে খাওয়া, প্লেট গোছানো ইত্যাদি। প্রাইমারী স্কুল থেকে এরা নিজেরা দল বেধে স্কুলে যায়। দল ঠিক করে দেন স্কুল কর্তৃপক্ষ। ট্রাফিক আইন, বাস ট্রেনে চড়ার নিয়ম কানুন সবই শেখানো হয়। আপনার গাড়ি আছে, বাচ্চাকে স্কুলে দিয়ে আসবেন, উল্টে আপনাকে লজ্জা পেয়ে আসতে হবে। ক্লাস সেভেন থেকে বাচ্চারা সাইকেল চালিয়ে স্কুলে যেতে পারে। ক্লাসে কে ধনী, কে গরীব, কে প্রথম কে দ্বিতীয় এসব বৈষম্য যেন তৈরী না হয় তার জন্য যথেষ্ট সতর্ক থাকেন স্কুল কর্তৃপক্ষ। ক্লাসে রোল নং ১, মানে এই নয় যে একাডেমিক পারফরম্যান্স সবচেয়ে ভাল। রোল নং তৈরী হয় নামের বানানের ক্রমানুসারে। বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগীতার সমস্ত আইটেম গুলো থাকে গ্রুপ পারফরম্যান্স দেখার জন্য – ইন্ডিভিজুয়াল নয়। সারা স্কুলের ছেলে মেয়েদের ভাগ করা হয় কয়েকটা গ্রুপে- সাদা দল, লাল দল, সবুজ দল ইত্যাদি। গ্রুপে কাজ করার ট্রেনিংটা পেয়ে যায় খেলাধুলা থেকে। এই জন্যই হয়তো জাপানে বড় নেতা তৈরি হয়না কিন্তু গড়ে এরা সবার সেরা মানুষ, বড় মানুষ!

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: