সোমবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ পৌষ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
সিলেটে বিএনপি নেতাকর্মীদের মারধর ও ধরপাকড়ের অভিযোগ  » «   আটকে রেখে তিন সাংবাদিককে পেটালো বুয়েট ছাত্রলীগ  » «   সিরিয়ায় মসজিদ ধ্বংস করল মার্কিন জোট  » «   বাবার স্বপ্ন পূরণে বড় চাকরি ছেড়ে আপনাদের সেবায় এসেছি: রেজা কিবরিয়া  » «     » «   নির্বাচনে ‘সংঘাত’ একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না: সিইসি  » «   জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ২৫ সদস্যের সমন্বয়ক কমিটি  » «   আফগানিস্তানে মার্কিন বিমান হামলায় ১২ শিশুসহ নিহত ২০  » «   মহান বিজয় দিবসে জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা  » «   চমক থাকছে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে  » «   দুই-তিন দিনের মধ্যে ইসিতে যাবে বিএনপি  » «   কাদের সিদ্দিকী রাজাকার, বদমাইশ : মির্জা আজম  » «   নির্বাচনের ৭ দিন আগে ব্যালট পৌঁছে যাবে: ইসি সচিব  » «   রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করতে চান ড. কামাল  » «   যুক্তরাষ্ট্র-অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড কানাডায় বোমা হামলার হুমকি  » «  

জলপাই চাষে স্বাবলম্বী মিন্টু



jhenidah-jolpay20161026103027`১৯৮৮ সালে টাঙ্গাইলের মধুপুর গারো পাহাড় গ্রামে বন্ধু উত্তম কুমারের বোনের বিয়েতে বেড়াতে যায়। সেখানে গিয়ে দেখি ওই গ্রামের এক চাষী ৮টি গাছের জলপাই ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। সেখান থেকেই স্বপ্ন দেখা শুরু, তারপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি।`

কথাগুলো জানালেন ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সাগান্না ইউনিয়নের সাগান্না গ্রামের ষাটতলা পাড়ার জলপাই বাগানের মালিক আব্দুল লতিফ শিকদার মিন্টু।

তিনি আরো জানান, বাণিজ্যিক ভিত্তিতে নিজের ১১ বিঘা জমিতে জলপাই চাষ করছেন। প্রতি বছর জলপাই বিক্রি করে ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা আয় করছেন। এলাকায় অনেক নারী-পুরুষের কর্মস্থানের সুযোগ সুষ্টি হয়েছে। বাগানের জলপাই যাচ্ছে ঢাকা, যশোর খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।

ভাদ্র, আশ্বিন, কার্তিক ও অগ্রহায়ণ এই ৪ মাস তিনি জলপাই বিক্রির কাজে ব্যস্ত সময় পার করেন। প্রতিটি গাছ থেকে তিনি বছরে ৪/৫ মণ জলপাই পাচ্ছেন। যার বাজার মূল্য পাইকারি দর ১ হাজার টাকা। বাগানে জলপাই গাছের পেছনে বছরে সেচ, সার, কীটনাশক ও শ্রমিক বাদে খরচ হয় প্রায় লক্ষাধিক টাকা।

১৯৮৯ সালে টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর গারো পাহাড় থেকে মিন্টু মিয়া প্রথমে একশ চারা ৩শ টাকা করে মোট ৩০ হাজার টাকায় কিনে আনেন। চারাগুলো লাগানোর পর ৬০টি চারা মারা যায়। এতে তিনি আশাহত না হয়ে পরের বছর একই জায়গা থেকে আরো ১৫০টি চারা কিনে আনেন। ৩ বছর পর জলপাই গাছে জলপাই ধরতে শুরু করে। আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। এই গাছের আয়ু কাল প্রায় ৫ হাজার বছর।

স্থানীয় আব্দুর রউফ ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক শাহনুর আলম জানান, মিন্টু মিয়ার জলপাই বাগান এলাকার গর্ব। তার দেখাদেখি অধিকাংশ চাষী উদ্বুদ্ধ হয়ে জলপাই চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

তিনি আরো জানান, জলপাই চাষকে সম্প্রসারিত করার জন্য নিজের উদ্যোগেই গড়ে তুলেছেন জলপাই চারার নার্সারী। এই নার্সারীর প্রতি চারা তিনি বিক্রি করছেন ১০০ টাকা দরে। এই চারা থেকেও তিনি মোটা অংকের টাকা আয় করছেন।

ঝিনাইদহ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. খান মো. মনিরুজ্জামান জানান, খুলনা ও রাজশাহী বিভাগে এই রকম বাণিজ্যিক ভিত্তিতে কোথাও চাষ হয় না। কৃষক মিন্টু জলপাই চাষ করে এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

 

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: