শুক্রবার, ২৪ মে ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
পাবলিক পরীক্ষার সব ফি দেবে সরকার  » «   বাচ্চারা সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে ইভিএম, দাবি লালুপুত্রের  » «   আগামীকাল প্রাথমিকের প্রথম ধাপের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা  » «   পরাজিত হওয়া মানেই হার নয়: মমতা  » «   কুলাউড়ায় ওজন বাড়াতে চিংড়িতে বিষাক্ত জেলি!  » «   শতবর্ষী বৃদ্ধাকে ধর্ষণ: ‘আমাকে ছেড়ে দাও, আমি রোজা রাখছি’  » «   কিছুটা সময় লাগলেও ইসরাইল-আমেরিকার পতন অনিবার্য: ধর্মীয় নেতা  » «   মেয়াদোত্তীর্ণ সেমাই ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার তৈরি: সিলেটে ওয়েল ফুডকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা  » «   একক দল হিসেবেই ম্যাজিক ফিগারে মোদির বিজেপি!  » «   পারিবারিক কলহে সৎ মাকে কুপিয়ে জখম করেছে ছেলে  » «   রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে ১০ হাজার শিক্ষার্থীকে নিয়োগ দেয়া হবে: অর্থমন্ত্রী  » «   পবিত্র কোরআন কেটে ভেতরে ইয়াবা পাচার, ৩ রোহিঙ্গা আটক  » «   গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে একই পরিবারের চার জন নিহত  » «   খালেদার কারামুক্তি, এবারও ‘হ্যান্ডল’ করতে পারেনি বিএনপি!  » «   বালিশ মাসুদের খোলা চিঠি  » «  

ছেলে হত্যার বিচার চেয়ে খেলার মাঠে মায়ের বিলাপ



নিউজ ডেস্ক:: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী সমিতির বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা চলছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে। গতকাল সকাল নয়টায় শুরু হওয়া প্রতিযোগিতার বেশ কয়েকটি পর্ব শেষ হয়েছে তখন। মাঠজুড়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভিড়। কেউ দর্শক, কেউবা প্রতিযোগী। ঠিক তখন খেলার মাঠের আনন্দঘন পরিবেশের সুরটা যেন কেটে গেল। উপস্থিত দর্শক আর প্রতিযোগীরা দেখলেন, বিলাপ করতে করতে ছেলে হত্যার বিচার চাইছেন এক নারী। একপর্যায়ে নিজেকে সামলাতে না পেরে মাঠে পড়ে যান তিনি। লুটিয়ে পড়েও তাঁর বিলাপ থামেনি। স্রষ্টার কাছে চাইছিলেন ছেলে হত্যার বিচার।

কে তিনি? কিছুক্ষণের মধ্যেই সবার কাছে পরিষ্কার হলো বিষয়টি। তিনি ২০১৬ সালে খুন হওয়া কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহসম্পাদক দিয়াজ ইরফান চৌধুরীর মা জাহেদা আমিন চৌধুরী। জাহেদা নিজেও বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ছাত্রী হলের কর্মচারী। ক্রীড়া প্রতিযোগিতা উপলক্ষে আর সবার মতো তিনিও মাঠে এসেছিলেন। কিন্তু প্রতিযোগিতা উপলক্ষে প্রকাশিত স্যুভেনিরে ছেলে হত্যা মামলার প্রধান আসামি মোহাম্মদ আলমগীর টিপুর ছবি দেখে নিজেকে আর সামলাতে পারেননি এই মা। স্যুভেনির হাতেই ছুটে যান মাঠে। গতকাল বুধবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠে এমন দৃশ্য দেখে আবেগে আক্রান্ত হন কয়েক শ কর্মকর্তা-কর্মচারীও।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কর্মচারী সমিতির ক্রীড়া প্রতিযোগিতা উপলক্ষে প্রকাশিত স্যুভেনিরে দিয়াজ হত্যার প্রধান আসামি আলমগীর টিপুর ছবিসংবলিত শুভেচ্ছাবাণী ছাপা হয়েছিল।খেলার মাঠে এসে বিষয়টি দেখে সমিতির সভাপতির কাছে কারণ জানতে চান এই মা।কিন্তু কোনো সদুত্তর পাননি।এরপর ছেলের শোকে হতবিহ্বল মা ক্রীড়া প্রতিযোগিতার ভেন্যু বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে লুটিয়ে পড়েন।পরে অসুস্থ অবস্থায় তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁকে নগরের জিইসি এলাকার বাসায় নেওয়া হয়।

জাহেদা আমিন চৌধুরীর মেয়ে জুবাঈদা ছরওয়ার চৌধুরী বলেন, ম্যাগাজিনে আলমগীর টিপুর ছবি দেখে তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী সমিতির সভাপতি আনোয়ারের কাছে এ বিষয়ে জানতে চান তাঁর মা। কিন্তু আনোয়ার হোসেন মায়ের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন।এতে তাঁর কষ্ট আরও বেড়ে যায়।তিনি তখন মাটিতে লুটিয়ে পড়ে কাঁদতে থাকেন এবং ছেলে হত্যার বিচার চান।

তবে খারাপ ব্যবহারের বিষয়টি অস্বীকার করেন আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় সমিতির সদস্যদের জন্য জার্সি বানানো হয়েছে। জার্সিতে জাহেদা আমিন চৌধুরীর ডাকনাম লেখা হয়। যেটা তিনি মেনে নিতে পারেননি। এ কারণে তিনি অভিযোগ দিয়েছিলেন। স্যুভেনির নিয়ে কোনো কথা হয়নি।

এবারই প্রথম নয়, ছেলে হত্যার বিচারের দাবিতে একাধিকবার কর্মসূচি পালন করেছেন দিয়াজের মা জাহেদা আমিন। গত বছরের ৩০ অক্টোবর সন্তান হত্যার বিচার চেয়ে ক্যাম্পাসে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তিনি। ২০১৭ সালের ২৮ নভেম্বর থেকে ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত অনশন পালন করে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানেও তিনি অনশন করেন। সেই সময় কর্তৃপক্ষ ছেলে হত্যার বিচারের আশ্বাস দিলেও এখনো বিচার পাননি।

২০১৬ সালের ২০ নভেম্বর জাহেদা আমিন চৌধুরীর ছেলে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহসম্পাদক দিয়াজ ইরফান চৌধুরীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। দুই দফা ময়নাতদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যায় তাঁকে হত্যা করা হয়েছিল। ওই বছরের ২৪ নভেম্বর জাহেদা আমিন বাদী হয়ে ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি আলমগীর টিপু, সাবেক সহকারী প্রক্টর আনোয়ার হোসেন চৌধুরীসহ ১০ জনকে আসামি করে আদালতে মামলা করেন।

দিয়াজের মরদেহের প্রথম ময়নাতদন্ত হয় ২০১৬ সালের ২১ নভেম্বর। দুই দিন পর পুলিশ জানায়, তাঁকে হত্যা করার আলামত ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে মেলেনি। পরে ওই বছরের ৬ ডিসেম্বর লাশ কবর থেকে তুলে পুনরায় ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেন আদালত। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, দিয়াজকে শ্বাসরোধ করে হত্যার আলামত পাওয়া গেছে।

বর্তমানে মামলাটি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তদন্ত করছে। তবে তদন্তের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। জানতে চাইলে সিআইডি চট্টগ্রাম অঞ্চলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কুতুব উদ্দিন বলেন, আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: