শুক্রবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
২৪ ডিসেম্বর মাঠে নামছে সেনাবাহিনী, থাকবেন ম্যাজিস্ট্রেটও  » «   ইন্টারনেটে ধীর গতি ও মোবাইল ব্যাংকিং বন্ধ চায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী  » «   প্রার্থিতা নিয়ে শুনানি: আদালতের প্রতি খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের অনাস্থা  » «   আওয়ামী লীগ ১৬৮ থেকে ২২০ আসনে জিতবে: জয়  » «   সিলেট-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী তাহসিনা রুশদীর লুনার মনোনয়ন স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট  » «   আম্বানি কন্যার বিয়েতে নাচলেন হিলারি ক্লিনটন [ভিডিও ]  » «   সিলেট-১ আসনে ধানের শীষের প্রচারণার একসঙ্গে মুক্তাদির-আরিফ  » «   সহিংসতার ঘটনা খতিয়ে দেখতে সিইসির নির্দেশ  » «   ‘ইডিয়ট’ লিখে গুগলে সার্চ দিলে কেনো আসে ট্রাম্পের ছবি?  » «   বিশ্ব ভ্রমণ করবে বাংলাদেশের প্রথম বিদ্যুৎচালিত গাড়ি  » «   খাশোগি হত্যাকাণ্ডে সৌদি আরব ছাড়পত্র পাবে না: নিক্কি হ্যালি  » «   গুগলে সবচেয়ে বেশি খোঁজ খালেদা ও হিরো আলম  » «   আস্থা ভোট, নেতৃত্বের পরীক্ষায় উতরে গেলেন তেরেসা মে  » «   ফোনালাপ ফাঁস: খন্দকার মোশাররফের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ  » «   নির্বাচনে এজেন্ট পাওয়া নিয়ে চিন্তায় বিএনপি  » «  

চেঙ্গিস খানের চরিত্রের অজানা দিক



নিউজ ডেস্ক:: সারা পৃথিবী দোর্দণ্ড প্রতাপশালী চেঙ্গিস খানের নাম সম্পর্কে সকলেই অবগত। মঙ্গল এই অধিপতি ঘোড়ায় চড়ে অর্ধেক বিশ্ব শাসন করেছিলেন। কাস্পিয়ান সাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্যবর্তী প্রায় ২৩ মিলিয়ন স্কয়ার কিলোমিটার অঞ্চল তার অধীনে ছিল।রোমান সাম্রাজ্য ৪০০ বছরে যা পারেনি, চেঙ্গিস ২৫ বছরে তা করে দেখিয়েছিলেন।তার বাহিনী ছিল খুবই হিংস্র। যুদ্ধে যারা পরাজিত হতো মঙ্গলদের সঙ্গে, তাদের এমনি এমনি ছেড়ে দেয়া হতো না।কাউকে শিরশ্ছেদ কাউকে বা জ্বলন্ত আগুনে নিক্ষেপ করা হতো।বর্বরতার অন্যতম মূর্ত প্রতীক হিসেবে চেঙ্গিস খানের নাম উচ্চারিত হলেও, তার চরিত্রের মাঝে কিছু সদগুণাবলী ছিল।আসুন, তারই কিছু জেনে নেয়া যাক-

ব্যক্তি চেঙ্গিস খান অমায়িক ছিলেন
নিজের সাফল্যের ওপর ভিত্তি করে তিনি কোনো মূর্তি কিংবা ভাস্কর্য তৈরি করেননি। এমনকি, মৃত্যুর পরও তিনি এমনই থাকতে চেয়েছিলেন। মিশরের ফারাওদের দিকে তাকালে যেমন দেখা যায় যে তারা পিরামিড তৈরি করেছিল সমাধি হিসেবে, চেঙ্গিস এমনটা করতে চাননি। সঙ্গীদের নির্দেশ দিয়েছিলেন যাতে মৃত্যুর পর একটি অজানা স্থানে তাকে সমাধিস্থ করা হয়। তার ইচ্ছা পালন করতে সঙ্গীরা একটি অদ্ভুত কাজ করেছিল।

সমাধিস্থলে যেতে যেতে রাস্তায় যত মানুষের সঙ্গে দেখা হয়েছিল, সকলকে হত্যা করেছিল নির্মমভাবে। চেঙ্গিসের সমাধি যাতে কেউ চিনতে না পারে, সেটিই ছিল উদ্দেশ্য। মঙ্গোলিয়ার মরুভূমিতে কিংবা কোনো অজানা সমতল ভূমিতে সমাধিস্থ করা হয় চেঙ্গিসকে। কবরের ওপর শত শত ঘোড়ার খুরের চিহ্ন দিয়ে ঢেকে দেয়া হয় সে স্থান। যেসব শ্রমিক কবর খুঁড়তে সাহায্য করেছিল, তাদেরকে হত্যা করা হয় যাতে পরবর্তীতে কেউ সমাধির খবর কাউকে দিতে না পারে। চেঙ্গিস কিন্তু কখনোই এই রক্তের হোলি খেলতে সঙ্গীদের নির্দেশ দেননি। তারা নিজেরাই উদ্বুদ্ধ হয়ে এই কাজ করেছিল।

মঙ্গোলিয়াতে লেখনী পদ্ধতি প্রতিষ্ঠা
১২০৪ সালে মঙ্গোলিয়াতে চেঙ্গিস একধরনের লেখনী পদ্ধতি আবিষ্কার করেন, যার নাম উইঘুর স্ক্রিপ্ট। এই পদ্ধতি আজও ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এই উইঘুর জাতিকে মঙ্গোলীয়রা যুদ্ধে পরাজিত করেছিল। চেঙ্গিস ছিলেন একজন বুদ্ধিমান শাসক।তিনি বুঝেছিলেন যে,এই সুযোগটি হাতছাড়া করা উচিত হবে না।উইঘুরদের এই লেখনী পদ্ধতিসহ আরো কিছু প্রথা তিনি নিজেদের মাঝে পালন করা শুরু করেন। বিশেষ করে এমন সব প্রথা, যেগুলো মঙ্গোলীয়দের থেকে বৃহৎ ছিল এবং ফায়দা লাভ করা যেত।

একটি জাতিকে শুধু জয় করেই ক্ষান্ত হতেন না তিনি।সে জাতির মাঝে ভালো ভালো যা রয়েছে, সেগুলো নিজ জাতির মাঝে ছড়িয়ে দিতেন। লেখাপড়ার প্রতি খুব গুরুত্ব দিয়েছিলেন চেঙ্গিস। মঙ্গোলীয় সব শিশুরা যেন লিখতে এবং পড়তে জানে, এমন নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। এমনকি মঙ্গোলীয় আইন কানুন যাতে লৈখিকরুপে থাকে, এমনটাও চেয়েছিলেন তিনি। তবে চেঙ্গিস নিজে লিখতে কিংবা পড়তে জানতেন না।

যোগ্যতার ভিত্তিতে সুযোগ প্রদান
অনেক রাজ্য ও গোত্র জয় করেছিলেন চেঙ্গিস। তার অধীনে অনেক মানুষ ছিল। বিশাল এই জনসংখ্যাকে সামাল দিতে দরকার ছিল বৃহৎ ও যোগ্য সেনাবাহিনীর।চেঙ্গিস এই সেনাবাহিনীর প্রতিটি পদে আসীন ব্যক্তিকে নিযুক্ত করেছিলেন যোগ্যতা অনুসারে। তিনি বলতেন, “একজন শাসক কখনো সুখী হতে পারে না, যদি তার প্রজারা সুখী না হয়।”কেবলমাত্র যোগ্যতা দিয়েই চেঙ্গিসের সেনাবাহিনীতে ঢুকতে হতো। এমনকি নিজের পরিবারেও একই ব্যবস্থা চালু করেছিলেন তিনি।যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে অমাত্যদের সঙ্গে কথা বলে নিতেন। কোন সদস্য কোন পদের জন্য যোগ্য, সেটি আলোচনা করেই ঠিক করা হতো। মোট কথা, চেঙ্গিস স্বজনপ্রীতি করতেন না।

ডাক ব্যবস্থার উন্নতি
চেঙ্গিস খানের অন্যতম একটি সাফল্য হচ্ছে পুরো সাম্রাজ্যে ডাক ব্যবস্থার প্রচলন করা। দাপ্তরিক কাজের জন্য প্রতিটি স্টেশনে ডাকঘর স্থাপন করা হয়েছিল। তবে সাধারণ জনগণ, সৈনিক এবং প্রদর্শনার্থীরাও এগুলো ব্যবহার করতে পারত। এই ডাকব্যবস্থা অর্থনীতি, ব্যবসা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে খুবই উপকার বয়ে আনে।এছাড়াও তথ্য আদান প্রদানের জন্য এই স্টেশনগুলো ছিল খুবই সহায়ক।

প্রতিটি স্টেশন একটি অপরটি থেকে অন্তত ২৪ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থান করত।কেউ খবর নিয়ে গেলে তাকে খাবার ও অন্যান্য সেবা দিয়ে আপ্যায়ন করা হতো। মার্কো পোলোর মতো অভিযাত্রীক এই ব্যবস্থায় খুবই চমৎকৃত হয়ে গিয়েছিলেন। মঙ্গল শাসনের শেষ দিকে দেখা যায় সমগ্র রাজ্যজুড়ে অন্তত এক হাজার পোস্টাল ষ্টেশন তৈরি করা হয়েছে।

ধর্ম পালনে স্বাধীনতা দিতেন চেঙ্গিস
তৎকালীন সময়ে অন্যসব মঙ্গলদের মতো চেঙ্গিসও শামান ধর্মে বিশ্বাসী ছিলেন। তা সত্ত্বেও নিজ রাজ্যে তিনি ধর্মীয় দিকে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা প্রদর্শন করেননি। এমনকি প্রত্যেক ধর্মের গুরুদের তিনি নিয়মিত কর প্রদানের পাশাপাশি নিজ ধর্ম পালনে ব্রতী হতে সকলকে নির্দেশ দিতেন।

বিভিন্ন ধর্মগুরুদের তিনি ডেকে আলাপ আলোচনা করতেন এবং তাদের মতামত শুনতে চাইতেন। কোন ধর্মে কী বলা আছে, সেগুলো মন দিয়ে শুনতেন চেঙ্গিস।এমনকি সেনাপ্রধানকে নিযুক্ত করার ক্ষেত্রে কেবলমাত্র যে শামানদেরই নিযুক্ত করতেন, তা নয়। তিনি সকল ধর্মের থেকে সেনা প্রধান, উপদেষ্টা নিযুক্ত করতেন। নানা ধর্মাবলম্বীর লোক চেঙ্গিসের রাজ্যে বসবাস করত। সেখানে কোনো বাঁধা বিপত্তি ছাড়াই যে যার ধর্ম পালন করত।

নারীদের স্বাধীনতা দিতেন চেঙ্গিস
চেঙ্গিস তার সময়ে নারীদের যথেষ্ট স্বাধীনতা দিয়েছিলেন। চীন কিংবা পারস্যের মতো দেশের চেয়ে মঙ্গোলিয়ার নারীরা অনেক বেশি বাঁধাহীন ছিল। ঘোড়ায় চড়া, যুদ্ধে অংশ নেয়া, কৃষিকাজ করা এমনকি নারীরা রাজনীতিতেও অংশগ্রহণ করতে পারত। যদিও পুরুষের চেয়ে বেশি ক্ষমতা নারীদের কখনো দেয়া হতো না, তারপরও মঙ্গোলিয়ার শাসনে বেশ কিছু নারী দোর্দণ্ড প্রতাপের সঙ্গে ক্ষমতার চাকা হাতে ধরেছিলেন। চেঙ্গিসের সময়ে নারীদের অপহরণ করা এবং ইচ্ছের বিরুদ্ধে বিয়ে দেয়া নিষেধ ছিল।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: