শুক্রবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
বিএনপির বিরুদ্ধে গায়েবি মামলার প্রমাণ নেই : আমু  » «   অংশ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য সহযোগিতা করতে প্রস্তুত ইইউ  » «   কমলগঞ্জে ট্রাক চাপায় তরুণী নিহত,চালক পালাতক  » «   বি. চৌধুরীর চায়ের দাওয়াতে যাচ্ছে ন্যাপ–এনডিপি  » «   নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল: ইসি সচিব  » «   ঈশ্বর, মৃত্যু-পরবর্তী জীবন ও স্বর্গ নিয়ে যা ভাবতেন স্টিফেন হকিং  » «   আইয়ুব বাচ্চুর মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শোক  » «   সাম্প্রদায়িক সম্প্রতির দৃষ্টান্ত: এক উঠোনে মসজিদ-মন্দির  » «   খাশোগি হত্যা: যুক্তরাষ্ট্রকে সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকা দিল সৌদি  » «   দুর্গাপূজা যেভাবে হলো হিন্দুদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব  » «   সিলেটে ফোনে কথা বলা অবস্থায় যুবকের হঠাৎ মৃত্যু  » «   ইরান কখনো পরমাণু বোমা বানাবে না: রুহানি  » «   সিলেটে সমাবেশের অনুমতি পেয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট  » «   বাংলাদেশে আরো সৌদি বিনিয়োগ চান প্রধানমন্ত্রী  » «   কানাডায় প্রকাশ্যে গাঁজা বিক্রি শুরু, ক্রেতাদের ভিড়  » «  

চুরির অভিযোগে শিশুকে রাতভর নির্যাতন



নিউজ ডেস্ক::মাত্র ১০ বছরের শিশু ইদু মিয়া। গোটা শরীরেই নির্যাতনের ক্ষতচিহ্ন নিয়ে ভর্তি হয়েছে কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে। পিঠ, হাত, কোমর, কনুই ও পা-সহ শরীরের কোন অংশই বাদ যায়নি। কিশোরগঞ্জ শহরের পূর্বতারাপাশা এলাকার শিশু ইদু এক আইসক্রিম ফ্যাক্টরির পাইপ চুরির কথিত অভিযোগে বেধড়ক মারপিটের শিকার হয়ে এখন হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছে। আইসক্রিম ফ্যাক্টরির মালিকের ছেলে বকুলের অমানবিক নির্যাতনের কথা মনে করে বার বার আঁতকে ওঠছে সে।

অবুঝ শিশুটির ভীতস্মভ্রস্ত চোখে-মুখে উদ্বেগের ছায়া। শিশুটির কাতর অবস্থা পীড়া দিচ্ছে হাসপাতালের দর্শনার্থীদেরও। নির্যাতিত শিশুটির খোঁজে রোববার বিকালে হাসপাতালের চতুর্থ তলায় বারান্দার বেডে গিয়ে এমন দুঃসহ চিত্রই দেখা গেছে। সেখানেই কথা হয় শিশু ইদু, তার মা রেজিয়া খাতুন ও রাজন মিয়ার সঙ্গে।

তারা জানান, তাদের বাড়ি কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন তারাপাশা বন্দের বাড়ি এলাকায়। ইদুর বাবার নাম সোহরাব মিয়া। চার ভাই ও এক বোনের মধ্যে ইদু সবার ছোট। বড় ভাই সুজন মিয়ার শহরের মোরগমহাল এলাকায় ভাঙ্গারির ব্যবসা রয়েছে। সেখানেই কাজ করে ইদু।

শিশু ইদু জানায়, গত ১৬ই ফেব্রুয়ারি রাতে মোরগমহালের ভাইয়ের দোকান থেকে বাড়ি ফিরছিল সে। পথে স্টেশন সংলগ্ন বটতলা এলাকায় সেখানকার আইসক্রিম ফ্যাক্টরির মালিক কেন্তু মিয়ার ছেলে বকুল তাকে আটকে চড়-থাপ্পর দিয়ে পাশের জিআরপি থানায় নিয়ে যান। সেখানে বেশ কিছুক্ষণ আটকে রাখার পর রাতেই রেলওয়ে থানা থেকে তাকে নিজেদের আইসক্রিম ফ্যাক্টরিতে নিয়ে যান বকুল। সেখানে শুরু হয় ইদুর ওপর অকথ্য নির্যাতন। ফ্যাক্টরির প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে বেধড়ক পেটানোর এক পর্যায়ে সেটি ভেঙ্গে গেলে লোহার পাইপ দিয়ে পেটাতে শুরু করেন বকুল। এভাবে ঘণ্টাদু’য়েক চলা মারপিট নির্যাতনে ইদু আত্মচিৎকারে আর অসহ্য যন্ত্রণায় ছটফট করলেও নিস্তার মিলেনি তার। নির্যাতনের পর সারারাত ফ্যাক্টরিতে আটকে রাখা হয় ইদুকে।

এ সময়টাতে ব্যাথার যন্ত্রণায় সর্বক্ষণই সে ছটফট করেছে। কিন্তু তাকে কোন রকম চিকিৎসাও দেয়া হয়নি। পরদিন শনিবার সকালে তাকে ছেড়ে দেয়ার পর খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে কোন রকমে বাড়ি ফেরে শিশুটি। পুনরায় মারপিট-নির্যাতনের হুমকির কারণে তটস্থ ছিল ইদুর পরিবারও। বাড়ির বিছানায় শুয়ে কাতরানো শিশুটির ব্যথা অসহ্য পর্যায়ে ঠেকলে শনিবার রাতে তাকে ভর্তি করা হয় কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে। পরিবার জানায়, পুনরায় নির্যাতন-মারপিটের হুমকির কারণে তারা থানায় গিয়ে অভিযোগ দিতে পর্যন্ত সাহস পাচ্ছেন না। রেলওয়ে থানা হেফাজতে শিশুটি নিরাপদে থাকবে ভেবে ওই রাতে তারা বাড়ি ফিরে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখান থেকে নিয়ে গিয়ে এমন বর্বর নির্যাতন করা হবে, তা তারা কল্পনাও করতে পারেননি।

শিশুটির বড় ভাই রাজন জানান, রেলওয়ে থানা থেকে ইদুকে যেন বকুলদের হাতে তুলে না দেয় এজন্যে তার মা রেলওয়ে থানার মুসা নামের এক কনস্টেবলকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত দিয়েছেন। কিন্তু এরপরও তারা ইদুকে বকুলের হাতে তুলে দিয়েছে।

রোববার বিকালে এ ব্যাপারে কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে থানার ওসি সাইদুল ইসলামের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, ওইদিন তিনি স্টেশনে ছিলেন না। তবে রোববার স্টেশনে এসে তিনি জেনেছেন যে, শিশুটিকে থানায় আনা হলেও পরিবারের হেফাজতে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জিআরপি থানার এসআই আল আসানুল কবির ওই রাতে ফারুক ও আজিজ নামের দুই ব্যক্তির জিম্মায় ইদুকে দিয়ে দেন। পরে বকুল তাদের কাছ থেকে ইদুকে জোর ধরে ছিনিয়ে নিয়ে গিয়ে মারপিট করে।

কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি আবু শামা মো. ইকবাল হায়াত জানান, ঘটনাটি জিআরপি থানা এলাকায়। তাই এ ব্যাপারে যা ব্যবস্থা নেয়ার জিআরপি থানাই নিবে।

তবে জিআরপি থানার ওসি সাইদুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি জিআরপি থানা সংলগ্ন হলেও সেটি থানা এলাকায় পড়েছে। এছাড়া আইসক্রিম ফ্যাক্টরিতে চুরির ঘটনায় সদর থানায় একটি মামলাও হয়েছে। তাই বিষয়টি তাদেরই দেখার কথা।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: