রবিবার, ২৪ জুন ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ১০ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
বাংলাদেশকে বাঁচাতে হলে আওয়ামী লীগকে বাঁচাতে হবে : ওবায়দুল কাদের  » «   নিজস্ব ভবন পেল আওয়ামী লীগ  » «   বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ : শুরু হচ্ছে নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তরের কাজ  » «   ‘রাতের অন্ধকারে বছরের পর বছর ধর্ষণ করেছে বাবা’  » «   প্রধানমন্ত্রীর উপলব্ধি যথার্থ : রিজভী  » «   স্কুলের গেটে জলাবদ্ধতা, ছাত্রদের সড়ক অবরোধ  » «   তানোরে পুলিশের স্ত্রীর আত্মহত্যা  » «   কুমিল্লায় যুবকের গলা কাটা লাশ উদ্ধার  » «   সরিষাবাড়ীতে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু  » «   শ্রীপুরের বাড়িটিতে ৪টি বোমার বিস্ফোরণ  » «   প্রেমিকের খোঁজ নিতে গিয়ে প্রেমিকার করুণ পরিণতি!  » «   সমকামী বিয়ে ব্রিটিশ রাজ পরিবারে  » «   এবার বিমানেও ভিক্ষাবৃত্তি!  » «   প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সেনা প্রধানের সাক্ষাৎ  » «   মিয়ানমারকে আল্টিমেটাম  » «  

চাহিদার চেয়ে মজুদ কমডিজেল সঙ্কটে পরতে যাচ্ছে দেশ



নিউজ ডেস্ক::সারা দেশে ডিজেল ও পেট্রোলের সংকট দেখা দিতে পরে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) সব ডিপোয় ডিজেলের মজুত আছে এক মাসের কম। বুধবার (১০ জানুয়ারি) ডিজেল মজুত ছিল ৩ লাখ ৮০ হাজার টন। বর্তমানে সেচ মৌসুমে প্রতিদিন ১৫ হাজার ১০ টন করে ডিজেল বিক্রি হচ্ছে। আর মজুত ডিজেল দিয়ে চলবে ২৫ দিন।

তেল কোম্পানির সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বোরোর মৌসুম শুরু হলেও এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে। জানুয়ারির শেষ দিকে এবং ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ডিজেলের চাহিদা আরো বাড়বে। তখন দৈনিক চাহিদা ১৯ হাজার টন ছাড়াতে পারে। এ অবস্থায় ডিপোগুলোয় ডিজেলের মজুত অন্তত সাড়ে ৪ লাখ টন পর্যন্ত রাখা জরুরি। অন্যথায় দেশে ডিজেল সংকটের আশঙ্কা থেকেই যাবে।

বিপিসির পরিচালক (অপারেশন্স অ্যান্ড প্ল্যানিং) সৈয়দ মোজাম্মেল হক জানান, ডিপোতে যে পরিমাণ ডিজেল মজুত থাকার কথা, তা-ই আছে। আমাদের হিসাবে ২৫ দিনের নয়, ৩২ দিন চলবে বর্তমান মজুত দিয়ে। ডিজেলের বর্তমান মজুত আরো বাড়বে। বিদেশ থেকে ডিজেলবাহী কয়েকটি অয়েল ট্যাঙ্কার ভিড়বে চট্টগ্রাম বন্দরে। এরপর মজুত বেড়ে যাবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যে হারে বিদেশ থেকে ডিজেলবাহী অয়েল ট্যাঙ্কার আসার কথা; তাতে কোনো সংকট হবে না বলে মনে করি।

সূত্র জানায়, বিপিসির ডিজেলের চাহিদা সামাল দেয়া হয় বিদেশ থেকে আমদানি করে। মালয়েশিয়ার পেট্রোনাস ট্রেডিং করপোরেশন (পেটকো), কুয়েত পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (কেপিসি), মিসরভিত্তিক মিডলিস্ট অয়েল রিফাইনারিসহ (মাইডোর) মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন তেল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান থেকে ডিজেল আমদানি করা হয়ে থাকে। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে পেট্রোল-অকটেনসহ আরো কয়েক ধরনের জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়।

জুন থেকে নভেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরে ডিজেলবাহী চার থেকে পাঁচটি অয়েল ট্যাঙ্কার ভিড়ে। ডিসেম্বর থেকে পরবর্তী বছরের মে পর্যন্ত বিপিসির হিসাবে সেচ মৌসুম। এ সময় প্রতি মাসে চট্টগ্রাম বন্দরে ছয় থেকে সাতটি অয়েল ট্যাঙ্কার ভিড়ে। প্রতিটি ট্যাঙ্কার ৩২ হাজার টন থেকে ৩৩ হাজার টন ডিজেল ধারণক্ষমতার।

এক সময় আমদানি করা জ্বালানি তেলে প্রচুর ভর্তুকি দেয়া হতো। অর্থাৎ আমদানি করা জ্বালানি তেল দেশে বিক্রি করা হতো আমদানি মূল্যের চেয়ে কম মূল্যে। কিন্তু প্রায় পাঁচ বছর ধরে আমদানি করা জ্বালানি তেল বিক্রিতে কোনো ধরনের লস নেই। আমদানির তেল দেশের বাজারে প্রতি লিটার বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিপিসি যখন লোকসান গুনে জ্বালানি তেল আমদানি করত; তখন ভরা সেচ মৌসুমে ডিজেল সংকট দেখা দিত। এখন আমদানি তেল বিক্রিতে কোনো ধরনের লোকসান নেই। এখন দেশের ডিপোগুলোয় জ্বালানি তেল প্রয়োজনের সমান মজুত রাখা কিংবা বেশি রাখা কোনো সমস্যা নয়। কোনো ধরনের অব্যবস্থাপনা কিংবা আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে ডিপোয় মজুতক্ষমতার সমান ডিজেল রাখা হচ্ছে না।

পতেঙ্গায় দেশের একমাত্র তেল শোধনাগার ইষ্টার্ণ রিফাইনারি লিমেটেড (ইআরএল) অবস্থিত। আমদানি করা অপরিশোধিত জ্বালানি তেল (ক্রুড) পরিশোধন করে এখানে ডিজেলসহ কয়েক ধরনের জ্বালানি তেলে রূপান্তর করা হয়।

এগুলোর মধ্যে রয়েছে জেট ফুয়েল, পেট্রল, কেরোসিন, অকটেন, ফার্নেস অয়েল ও ন্যাফতা। এখানে উপজাত জ্বালানি হিসেবে এলপি গ্যাস, বিটুমিনসহ কয়েক ধরনের জ্বালানি তেলও রূপান্তর করা হয়। প্রতি মাসে অন্তত এক লাখ টন ক্রুড আমদানি করে বিপিসি।

ইআরএল থেকে প্রতিদিন ডিজেলের সরবরাহ আসছে বিপিসির ডিপোগুলোয়। সেই সরবরাহ পর্যাপ্ত নয়। প্রতিদিন মাত্র ১ হাজার ২০০ টন করে ডিজেল উৎপাদন হচ্ছে; যা বর্তমান দৈনিক চাহিদার ১৫ ভাগের এক ভাগ। ইআরএলে আপৎকালীন সময়ে ডিজেলের উৎপাদন আর বাড়ানোর সুযোগ নেই বলে জানান প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টরা।

ইআরএলের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, স্বাভাবিক সময়ে অর্থাৎ যখন সেচ মৌসুম নয় তখন প্রতিদিন ১ হাজার টন করে ডিজেল উৎপাদন হয়। ভরা সেচ মৌসুমে বিশেষ করে জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মার্চে প্রতিদিন ডিজেল উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়া হয়। কিন্তু তা কখনো বিপিসির চাহিদার সমান নয়। আমদানি তেল দিয়েই সেচ মৌসুমে ডিজেলের চাহিদা সামাল দেয়া হয়। ইআরএলে ডিজেল উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে দ্বিতীয় পর্যায়ের একটি ইউনিট নির্মাণ হবে। এটি নির্মাণ শেষ হলে ডিজেল উৎপাদন ক্ষমতা বাড়বে।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: