বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
বিএনপির বিরুদ্ধে গায়েবি মামলার প্রমাণ নেই : আমু  » «   অংশ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য সহযোগিতা করতে প্রস্তুত ইইউ  » «   কমলগঞ্জে ট্রাক চাপায় তরুণী নিহত,চালক পালাতক  » «   বি. চৌধুরীর চায়ের দাওয়াতে যাচ্ছে ন্যাপ–এনডিপি  » «   নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল: ইসি সচিব  » «   ঈশ্বর, মৃত্যু-পরবর্তী জীবন ও স্বর্গ নিয়ে যা ভাবতেন স্টিফেন হকিং  » «   আইয়ুব বাচ্চুর মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শোক  » «   সাম্প্রদায়িক সম্প্রতির দৃষ্টান্ত: এক উঠোনে মসজিদ-মন্দির  » «   খাশোগি হত্যা: যুক্তরাষ্ট্রকে সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকা দিল সৌদি  » «   দুর্গাপূজা যেভাবে হলো হিন্দুদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব  » «   সিলেটে ফোনে কথা বলা অবস্থায় যুবকের হঠাৎ মৃত্যু  » «   ইরান কখনো পরমাণু বোমা বানাবে না: রুহানি  » «   সিলেটে সমাবেশের অনুমতি পেয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট  » «   বাংলাদেশে আরো সৌদি বিনিয়োগ চান প্রধানমন্ত্রী  » «   কানাডায় প্রকাশ্যে গাঁজা বিক্রি শুরু, ক্রেতাদের ভিড়  » «  

চলছে অবরোধফের উত্তাল শাহবাগ



নিউজ ডেস্ক::সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া কোটা বাতিলের ঘোষণা গেজেট আকারে প্রকাশের দাবিতে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

সোমবার (১৪ মে) সকালে ১০টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারের সামনে থেকে একটি বিশাল মিছিল বের করে। এসময় আন্দোলনকারীরা কলাভবনের প্রধান ফটক বন্ধ করে দেয় এবং সেখানে থেকে মিছিল নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনের রাস্তা দিয়ে বের হয়ে রাজু স্মৃতি ভাস্কর্য হয়ে নীলক্ষেত ও কাঁটাবন ঘুরে শাহবাগের মোড়ে এসে অবস্থান নেন তাঁরা।

বর্তমানে শাহবাগ এলাকায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। অচল হয়ে পড়েছে শাহবাগ। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। হাজার হাজার শিক্ষার্থীর স্লোগানে প্রকম্পিত শাহবাগ।শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীরা শাহবাগের মূল রাস্তায় অবস্থান নেওয়ায় যানজটের সৃষ্টি হয়।

কোটা সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নুর বলেন, সারা বাংলার ছাত্রসমাজ আজ একতাবদ্ধ। তারা তাদের অধিকার নিয়ে রাজপথে। ছাত্রসমাজ কখনও ব্যর্থ হতে পারে না। প্রজ্ঞাপন না নিয়ে তারা ঘরে ফিরবে না।

এদিকে কোটা সংস্কারের প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়ায় আজ থেকে দেশের সকল কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে লাগাতার ধর্মঘট পালন করছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শাটল ট্রেন অবরোধ করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচি হিসেবে আজ সকাল সোয়া ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়গামী শাটল ট্রেনটি ষোলশহর স্টেশনে পৌঁছালে শিক্ষার্থীরা রেললাইন অবরোধ করেন। এতে বন্ধ হয়ে পড়েছে ট্রেন চলাচল।

এর আগে দেশে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারী সংগঠন সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ সরকারকে হুঁশিয়ার করে বলেছে, রবিবার বিকেলের মধ্যে কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপন জারি করা না হলে সোমবার সবকটি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে অনির্দিষ্টকালের জন্যে ছাত্র ধর্মঘট ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করবে। পরিষদের নেতারা এসময় শিক্ষার্থীদেরকে সব ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনেরও আহ্বান জানিয়েছেন।

গতকাল ১৩ মে কোটা সংস্কার ও প্রজ্ঞাপনের দাবিতে সারা দেশের সকল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে একযোগে বিক্ষোভ মিছিল পালন করছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এর আগে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছিল শিক্ষার্থীরা। সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের নির্দেশনা না পেয়ে আবার কর্মসূচি ঘোষণা করে শিক্ষার্থীরা।

গত ৮ এপ্রিল থেকে পাঁচ দিন ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের প্রায় সব পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করেন। পরদিন সচিবালয়ে দেড় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে বৈঠক করেন আন্দোলনকারীরা।

বৈঠক শেষে মন্ত্রীর আশ্বাসে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুনও ৭ মে পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দেন। এ ঘোষণার পর ৯ এপ্রিল রাতে আন্দোলন স্থগিত হয়ে যায়। তবে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর এক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ১০ এপ্রিল থেকে ফের আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। তারা কোটা সংস্কারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে সিদ্ধান্ত আসার দাবি জানান।

পরে ১২ এপ্রিল জাতীয় সংসদের অধিবেশনে কোটা পদ্ধতি বাতিল ঘোষণা করে সব চাকরিতে শতভাগ মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর পর শিক্ষার্থীরা আন্দোলন স্থগিত করার ঘোষণা দেন। এর দুই সপ্তাহ পরে গত ২৬ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলন করে কোটা বাতিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশের দাবি জানান আন্দোলনকারী। না হলে ফের আন্দোলনে নামার ঘোষণা দেন তারা।

পরদিন ২৭ এপ্রিল আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানকের সঙ্গে বৈঠকে বসেন কোটা সংস্কার আন্দোলনের ১৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল। সর্বশেষ গত ২ মে সরকারি বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে কোটা বাতিলের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো ধরনের ক্ষোভ থেকে সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ছাত্ররা কোটা ব্যবস্থা বাতিল চেয়েছে, বাতিল করে দেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ ১০ মে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মোজাম্মেল হক খান জানান, কোটা সংস্কার বা বাতিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে কমিটি গঠনের প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পাঠানো হয়েছে।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: