রবিবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ১৩ মাঘ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
লন্ডনে দ্বিতীয় জনপ্রিয় ভাষা বাংলা  » «   ঘুষের টাকাসহ হাতেনাতে সাব-রেজিস্ট্রার আটক  » «   আর কোনো হায়েনার দল বাংলার বুকে চেপে বসতে পারবে না  » «   সিলেটে মুক্তিযুদ্ধের পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ করলেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী  » «   ফের জাতীয় পার্টির ঢাকা জেলা শাখার সভাপতি সালমা ইসলাম এমপি  » «   বিয়ানীবাজারে ৯৯০ পিস ইয়াবাসহ পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী আটক  » «   আয়কর দিবস উপলক্ষে সিলেটে বর্ণাঢ্য র‌্যালি  » «   এবার শ্রীমঙ্গলে ট্রেনের ইঞ্জিনে আগুন  » «   বেলজিয়ামে মসজিদে তালা দেওয়ায় বাংলাদেশিদের প্রতিবাদ  » «   পায়রা উড়িয়ে জাতীয় পার্টির ঢাকা জেলা শাখার সম্মেলন উদ্বোধন  » «   ভারতের অর্থনীতির দুরবস্থা, জিডিপি কমে সাড়ে ৪ শতাংশ  » «   পায়রা উড়িয়ে সম্মেলন উদ্বোধন করলেন শেখ হাসিনা  » «   লন্ডন ব্রিজে আবারও সন্ত্রাসী হামলা, নিহত ২  » «   চীন থেকে মা-বাবার জন্য পেঁয়াজ নিয়ে এলেন মেয়ে  » «   রক্তে ভাসছে ইরাক, নিহত ৮২  » «  

চট্টগ্রামে পাহাড় কেটে কারখানা



নিউজ ডেস্ক:: পাল্টে গেছে পাহাড় কাটার ধরন। হরেক রকম কায়দায় কাটা হচ্ছে পাহাড়। ওপরের অংশ ন্যাড়া করে রাতের আঁধারে কাটা হচ্ছে পাহাড়। পাহাড় নিধনযজ্ঞ চললেও রহস্যজনক কারণে প্রশাসন ও বনবিভাগ রয়েছে নীরব ভূমিকায়। প্রতিনিয়ত পরিবেশের ওপর এই আগ্রাসন চললেও কারও যেন কোনো মাথাব্যথা নেই। এই দৃশ্যে চট্টগ্রাম নগরীর ৯ নং উত্তর পাহাড়তলী আকবর শাহ থানার শাপলা আবাসিক এলাকার।
অভিযোগ পাওয়া গেছে, সরকারি পাহাড় দখল করে গড়ে তোলা হচ্ছে পাস্তুরিত দুধ, বায়োগ্যাস ও জৈবসার উৎপাদনের কারখানা। অপরিকল্পিতভাবে বহুতল ভবন ও প্রক্রিয়াজাত করার জন্য কারখানা নির্মাণ করতে পাহাড় কাটার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে ভারি ড্রেজার মেশিন। গভীর রাত পর্যন্ত চলে এই পাহাড় কাটা। পরিবেশ বিধ্বংসী এই কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছে এলাকার চিহ্নত মাটি পাচারকারী চক্র। দীর্ঘদিন ধরে মাটি পাচার করে অবৈধ টাকা আয় করছে এ চক্রটি। সম্প্রতি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। একদিকে পাহাড় কেটে মাটি ভরাট করে কারখানা নির্মাণ, অন্যদিকে মাটি পাচার। পাহাড় কাটার ফলে চট্টগ্রামে প্রতিবছর পাহাড় ধসে প্রচুর মানুষ মারা যায়। এ কারণে পরিবেশ বিপর্যয়ের পাশাপাশি বর্ষাকালে পাহাড়ি ঢালুতে বসবাসকারী লোকজনদের জীবন হুমকির মুখে পতিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। কিন্তু দিন দুপরে পাহাড় কাটার কর্মযজ্ঞ চললেও কথিত প্রভাবশালী ব্যক্তির ভয়ে কেউ কথা বলার সাহস পাচ্ছে না।
পরিবেশবিদদের মতে, কারখানা নির্মাণ করলে শব্দ দূষণ এবং কালো ধোঁয়ায় এলাকার স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার ক্ষতিসহ পরিবেশ বিপর্যয়ের সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে।
স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ওই পাহাড়ের ওপরের অংশ যেভাবে কাটা হয়েছে তাতে বৃষ্টি হলে এই পাহাড়ের মাটি পানির ঢলের সঙ্গে নিচের দিকে নেমে পড়বে। পাহাড়ের আশেপাশে অন্তত দুইশ’ পরিবার রয়েছে। ফলে এই বর্ষাকালে বড় ধরনের প্রাণহানির অাশঙ্কা তৈরি হবে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, এই নির্মাণাধীন কারখানার মালিকের হচ্ছেন সৈয়দ আলম ওরফে এম এস আলম। এলাকার সবাই তাকে আলম সাহেব নামে চেনে। কারখানা ছাড়াও ওই এলাকায় এম এস আলমের মামিয়া ড্রিংকিং ওয়াটার নামে মিনারেল পানির কারখানা রয়েছে। এ ছাড়াও গবাদি পশুর খাদ্য উৎপাদনের কারখানাও রয়েছে।
ফটিকছড়ির সাবেক এমপি রফিকুল আলমের চাচাতো ভাই হিসেবে পরিচয়দানকারী এম এস আলম সাবেক মেয়র মনজুর আলমের বেয়াই বলেও জানা গেছে। তার দাপটে ওই এলাকার লোকজন এখন কোনঠাসা।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিশাল একটি এলাকা উচুঁ টিন দিয়ে ঘেরাও করে রেখেছে। ভেতরে কী হচ্ছে বাইরে থেকে তা দেখার কোনো সুযোগ নেই। আশপাশে গুটিকয়েক দোকানপাট রয়েছে। কাছে গিয়ে দেখা গেছে, পশ্চিমে পাহাড়, উত্তরে ও দক্ষিণে বসতি এবং সামনে কাঁচা সড়ক পূর্ব দিকে চলে গেছে। বেশ কয়েকজনকে দেখা গেল ভবনের কাজ করতে। জানতে চাইলে দায়িত্বরতরা বলেন, এটা অফিসের কাজ চলতেছে।
পেছনে পাহাড়ের বিশাল একটি অংশ কেটে পরিষ্কার করা হয়েছে। ওই সময় কয়েকজনকে কাজ করতে দেখা যায়। গবাদি পশুর খামারের পাশে তৈরি করা হচ্ছে বায়োগ্যাস প্রকল্প। এর পাশেই কেমিক্যাল কারখানা।

বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের উদ্ভিদ বিজ্ঞানী ছৈয়দুল আলম বলেন, পরিবেশ ধ্বংসের অন্যতম কারণ হচ্ছে পাহাড় কাটা। আমাদের দেশে প্রকৃতি রক্ষায় পাহাড়ের ভূমিকা রয়েছে। গাছ-পালা যেমন প্রকৃতিকে আগলে রাখে পাহাড়ও তার একটি অংশ।
তিনি আরও বলেন, পাহাড় কাটার কারণে অতি বৃষ্টি ও অনাবৃষ্টি হতে পারে। যারা পাহাড় কাটে তাদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর আইন করেছে। আইনে কমপক্ষে ১০ বছরের সাজার বিধান রেখেছে। পাহাড় ধ্বংসকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
পরিবেশ রক্ষার দায়িত্বে থাকা চট্টগ্রামের পরিবেশ অধিদপ্তরের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে, চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তরের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তাসহ প্রশাসনের যোগসাজশেই এখানে পরিবেশ বিপর্যয়ের তাণ্ডব চলছে। নিধন করা হচ্ছে ছোট বড় অসংখ্য গাছপালা। শাপলা আবাসিকে পরিদর্শনকালে ফুটে ওঠে পরিবেশ বিনষ্টকারী চক্রের অশুভ তৎপরতা। দেখা যায়, এম এস আলমের কেমিক্যাল কারখানা নামক স্থানে শ্রমিক লাগিয়ে বিশাল পাহাড় কেটে পরিষ্কার করা হয়েছে।
যোগাযোগ করা হলে এ বিষয়ে মো. সৈয়দ আলম ওরফে এম এস আলম বলেন, ‘আমার নিজের জায়গার ওপর কারখানা করতেছি’।
পাহাড় কেটে কারখানা নির্মাণে পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বায়োগ্যাসের জন্য পরিবেশের ছাড়পত্র লাগে না। কিছুদিন আগে আমাকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করেছিল পরিবেশ অধিদপ্তর। প্রতিষ্ঠানগুলা পুরোদমে চালু করার পর অনুমোদন নিয়ে চিন্তা করব। আমি যা করছি জনগণের কল্যাণের জন্য করছি।’ এখানে মামিয়া পাস্তুরিত দুধ, বায়োগ্যাস ও জৈবসার উৎপাদনের কারখানা করা হবে বলে জানান আলম। কথার এক ফাঁকে তিনি সাবেক মেয়র মনজুর আলমের বেয়াই বলে পরিচয় দেন।
আবারও পাহাড় কাটার বিষয়টি নিয়ে কথা বললে আলম বলেন, ‘নিউজ করবেন কোন পত্রিকায়? করেন! কিচ্ছু হবে না।’
এসব বিষয় নিয়ে জানতে চাইলে পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক আজাদুর রহমান মল্লিক বলেন, ‘পাহাড় কেটে কোনো কিছু করার জন্য ছাড়পত্র দেওয়া হয় না। শুধু পাহাড় কাটা নয়, পরিবেশ বিপর্যয় হবে এমন কিছু ঘটলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এম এস আলমের বিষয়টি নজরে আনলে আজাদুর রহমান মল্লিক বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর আলমকে ৮ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এরপরও যদি পাহাড় কাটে তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। যে যাই করুক পরিবেশের ক্ষতি হলে কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না।’

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: