শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ১২ ফাল্গুন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
ইন্সটাগ্রাম ভিডিওতে মিউজিক অ্যাড করবেন যেভাবে!  » «   বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন মাওলানা মোস্তফা আজাদের ইন্তেকাল  » «   ছুটির বিকেলে নাতি-নাতনিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর খুনসুটি  » «   নতুন স্ত্রীকে ঘরে তুললেন হৃদয় খান  » «   জামালগঞ্জে মসজিদের ইমামের বাড়ির রাস্তায় চলাচলে বাধার অভিযোগ  » «   সব কর্মসূচি পালন করতে অনুমতি নিতে হবে কেন?  » «   সংগ্রামের পথ ধরেই আমাদের সব অর্জন : প্রধানমন্ত্রী  » «   যে অসুস্থতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে আপিল আবেদনে  » «   হবিগঞ্জে মাকে বেঁধে মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগ  » «   মাশরাফির ফেরার সম্ভাবনা নেই!  » «   কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা হতে পারে ভয়ানক  » «   শিশুকে ধর্ষণের পর মাথা থেঁতলে হত্যা  » «   শ্রীপুরে পৃথক দুর্ঘটনায় নিহত ২  » «   যেভাবে মিলবে কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি!  » «   বিএনপি কার্যালয়ের সামনে পুলিশের লাঠিপেটা, আটক ১১  » «  

চট্টগ্রামে অধিকাংশ সিসি ক্যামেরা নষ্ট, অপরাধী শনাক্তে ব্যর্থ



নিউজ ডেস্ক:: অপরাধী শনাক্তসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা (সিসি ক্যামেরা)। বিভিন্ন বাসা বাড়ি অফিস আদালতের সামনে এখন সর্বত্র শোভা পাচ্ছে সিসি ক্যামেরা। অপরাধী ধরতেই সিসি ক্যামেরা এখন ‘মূল অস্ত্র’। আর এই সিসি ক্যামেরা না থাকার কারণে চট্টগ্রামে অপরাধ করেও পার পেয়ে যাচ্ছে অপরাধীরা। সম্প্রতি একের পর এক খুনের ঘটনা ঘটে চলেছে বন্দর নগরী চট্টগ্রামে। গুটিকয়েক আসামি ধরা পড়লেও সিসি ক্যামেরা না থাকায় অপরাধী ধরতে বেগ পেতে হচ্ছে প্রশাসনকে।

অন্যদিকে একাধিক ক্যামেরা নষ্ট থাকার কারণে আসামি শনাক্ত করতে পারছে না পুলিশ। নগরীতে প্রতিদিন কোথাও না কোথাও চুরি ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটলেও ক্যামেরা নষ্ট থাকায় আসামি ধরতে ব্যর্থ হচ্ছে পুলিশ। ফলে এসব ঘটনা ঘটানোর পরও পার পেয়ে যাচ্ছে অপরাধীরা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, নগরীতে যেসব ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা রয়েছে এদের অধিকাংশই নষ্ট। বাকি যেগুলো রয়েছে সেগুলোর মধ্যেও যন্ত্রাংশ ত্রুটির কারণে নষ্ট হতে বসেছে। ২০১৪ সালে সিএমপি’র উদ্যোগে নগরীর সাতটি প্রবেশমুখসহ গুরুত্বপূর্ণ সাতটি স্থানে লাগানো হয় ১৩৯টি ক্যামেরা। বর্তমানে ক্যামেরা রয়েছে ১১৩টি। ১১৩টির মধ্যে ৬০টি ক্যামেরাই নষ্ট। এ ছাড়া গড়ে প্রতিদিন ৪০টির মতো ক্যামেরা নষ্ট থাকে। যত্রতত্র বৈদ্যুতিক খুঁটি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ডের কারণে গতিবিধি ঠিকভাবে কাভার করা যাচ্ছে না। ফলে অপরাধীরা অপরাধ করেই পার পেয়ে যাচ্ছে অনাশয়ে।

নগরীর বহদ্দারহাট এলাকায় সিসি ক্যামেরা লাগানো হলেও তা অযত্নে অকেজো হয়ে পড়েছে।
দেশের সবচেয়ে আলোচিত খুনের ঘটনা নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের পর ২০১৪ সালে নগরীতে সিসি ক্যামেরা লাগানোর উদ্যোগ নেয় চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি)। তখন সিএমপি’র পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, পুুরো নগরীকে সিসি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসা হবে। এতে চোর, ছিনতাইকারী কিংবা প্রকাশ্যে আইন-শৃঙ্খলা অবনতির সঙ্গে জড়িতদের সহজে চিহ্নিত করা যাবে। কিন্তু একের পর এক খুনের ঘটনা ঘটলেও তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। গত ৬ অক্টোবর নগর ছাত্রলীগের সহ-দপ্তর সম্পাদক সুদিপ্ত বিশ্বাস খুনের ঘটনার পর সিসি ক্যামেরা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশ কর্মকর্তারা বলেছেন, যেখানে সুদিপ্তকে খুন করা হয়েছে সেখানে কোনো সিসি ক্যামেরা নেই।

তাছাড়া যে রাস্তা দিয়ে আসামিরা পালিয়েছেন, সেদিকেও কোনো সিসি ক্যামেরা নেই। তবে পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, একটি ভিডিও ফুটেজ পাওয়া গেছে। সেখানে অস্পষ্ট ও বেশি রিক্সা চলাচলের কারণে আসামি শনাক্ত করা যায়নি। এর আগে ২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে ছেলেদের স্কুলে নেওয়ার পথে নগরীর জিইসি মোড়ের বাসার কাছেই অস্ত্রধারীদের হাতে খুন হন সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার মিতু। ঘটনার পর উদ্ধার হওয়া ভিডিও ফুটেজ নিয়ে চলে আসামি ধরার তৎপরতা। পরে ওই ফুটেজের সুবাদে চাঞ্চল্যকর এ মামলার আসামিদের শনাক্ত এবং গ্রেফতার করা সম্ভব হয়। এর পর চলতি বছরের ১৩ জুন নগরীর জামালখানে রিকশাারোহী শিরিন আক্তারের ভ্যানিটি ব্যাগ টান দেয় ছিনতাইকারী। এতে চলন্ত রিকশা থেকে পড়ে আহত শিরিন ছয় দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে ঘটনার কয়েকদিনের মাথায় ঘাতক ছিনতাইকারী এরশাদকে গ্র্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসি ক্যামেরা লাগানো হলেও তা কম আলোতে কোন ছবিই ধারণ করতে পারে না।
সম্প্রতি খুলশী ও আগ্রাবাদে দুই বিদেশির ছিনতাইয়ের ঘটনাও সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে শনাক্ত করা হয়েছে আসামিদের। তবে প্রতিটি ঘটনার সঙ্গে অপরাধী শনাক্ত করা হয়েছে বিভিন্ন ভবনে লাগানো ব্যক্তি মালিকানাধীন সিসি ক্যামেরা থেকে। আর যেসব বাসা বাড়ি ও অফিসের সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে, সেগুলোর রেজুলেশন অনেক কম বলে অনুসন্ধানে জানা যায়। আর এ কারণে দূরের ভিডিওগুলো অনেকটা অস্পষ্ট।
এদিকে খুন, ছিনতাই, অপহরণসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে বিস্মিত হয়েছেন নগরবাসী। তারা ক্ষোভ ঝাড়ছেন পুলিশের ভূমিকা নিয়ে।

চট্টগ্রামের মুরাদপুরে বসানো সিসি ক্যামেরা অকার্যকর হয়ে পড়েছে।
একাধিক নগরবাসী অভিযোগ করেন, মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পারি কিছুদিন পর পর সিএমপিতে রদবদল। কিছু ক্ষেত্রে সততা ও নিষ্ঠাবানদের স্বীকৃতি স্বরুপ ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। এত পদোন্নতি ক্রেস্ট কীসের জন্য। যেখানে রক্ষকরা মানুষের জীবনের নিরাপত্তা দিতে পারে না, সেখানে এত কিছু কেন? এতকিছুর পরও যেন ঘুম ভাঙছে না সিএমপি’র। বার বার এসব বিষয় উঠে আসলেও প্রকৃতপক্ষে কোনো উদ্যেগই নিচ্ছে না সিএমপি।
বিষয়টি অকপটে স্বীকার করলেন নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (আইসিটি) অলক বিশ্বাস। তিনি বলেন, ‘নগরীতে যেসব ক্যামেরা বসানো হয়েছে সেগুলো আস্তে আস্তে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ২০১৬ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে বিলবোর্ড উচ্ছেদের সময় অধিকাংশ ক্যামেরা বন্ধ হয়ে যায়। ওই বন্ধ হওয়া ক্যামেরাগুলো পরবর্তীতে আর সচল করা সম্ভব হয়নি।’
বর্তমানে ১১৩টি ক্যামেরার মধ্যে প্রতিদিন ৪০টির মতো ক্যামেরা বন্ধ থাকে বলেও জানান তিনি।

নগরীর অক্সিজেন এলাকায় সিসি ক্যামেরায় বাক্স থাকলেও ক্যামেরা নেই।
শিগগিরই নষ্ট হওয়া ক্যামেরাগুলো প্রতিস্থাপন করা হবে জানিয়ে নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) সালেহ মো. তানভির বলেন, ‘আসামি শনাক্ত করতে সিসি ক্যামেরার কোনো বিকল্প নেই। আমরা চেষ্টা করছি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নষ্ট ক্যামেরা পরিবর্তন করে নতুন ক্যামেরা বসাতে। পাশাপশি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টেও দ্রুত সিসি ক্যামেরা বসানো হবে।’

সিএমপি সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে নগরীর ৩০টি স্থানে ১১৩টি সিসি ক্যামেরা রয়েছে। স্থানগুলো হলো- নিউ মার্কেট, শাহ আমানত গোল চত্বর, জিইসি মোড়, মুরাদপুর মোড়, আকবরশাহ মোড়, রাহাত্তারপুল, বহদ্দারহাট, চকবাজার, সাগরিকা, অক্সিজেন, পিএইচপি স্পিনিং মিল, সিটি গেট, কাজীর দেউড়ি, কাপ্তাই রাস্তার মাথা, দেওয়ানহাট ব্রিজ, সিইপিজেড, ইস্পাহানি মোড়, অলংকার মোড়, বাদামতলী, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, বড়পোল, প্রবর্তক মোড়, নিমতলা বিশ্বরোড, টেরিবাজার, সল্টগোলা, দুই নম্বর গেট, নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটি, অক্সিজেন চেকপোস্ট, সিটি গেট চোকপোস্ট ও কোর্ট বিল্ডিং।

এরমধ্যে নগরীর প্রবেশমুখ অক্সিজেন মোড়ের লাগানো চারটি ক্যামেরার মধ্যে চারটিই নষ্ট রয়েছে এক বছরের অধিক সময় ধরে। একইভাবে নিউমার্কেট মোড়ে লাগানো চারটি ক্যামেরার মধ্যে একটি, জিইসি মোড়ের তিনটির মধ্যে একটি, মুরাদপুর মোড়ে চারটির মধ্যে চারটিই, আকবরশাহ মোড়ের তিনটির মধ্যে তিনটি, রাহাত্তারপুল মোড়ের তিনটি, বহদ্দারহাট মোড়ে চারটি, সাগরিকা মোড়ে তিনটি, পিএইচপি স্পিনিং মিলে দুটি, সিটি গেটে একটি, কাপ্তাই রাস্তার মাথা তিনটি, দেওয়ানহাট ব্রিজে চারটির মধ্যে দুটি, সিইপিজেড মোড়ে চারটির মধ্যে চারটি, অলংকার মোড়ে চারটির মধ্যে চারটি, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে দুটি, আটটির মধ্যে দুটি, বড়পোল মোড়ে চারটির মধ্যে চারটি, প্রবর্তক মোড়ে চারটির মধ্যে চারটি, দুই নম্বর গেটে চারটির মধ্যে চারটি, নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটির দুটির মধ্যে দুটি, অক্সিজেন চেকপোস্টের তিনটির মধ্যে দুটিসহ মোট ৬০টি ক্যামেরা নষ্ট রয়েছে।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: