শনিবার, ২৩ জুন ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৯ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
যমুনা নদীতে বিলীন হচ্ছে বসত বাড়ি, দেখার কেউ নেই!  » «   নতুন চলচ্চিত্রের জন্য ইরানে অনন্ত  » «   নেইমারের জার্সি গায়ে অপু ও জয়  » «   সিসিক নির্বাচন: আ.লীগ মেয়র প্রার্থী হলেন কামরান  » «   বাসায় ঢুকে অভিনেত্রীকে শ্লীলতাহানি!  » «   আর্জেন্টিনার হার, বেরিয়ে এলো বিস্ফোরক তথ্য!  » «   দুর্ঘটনা সড়কে মৃত্যুর মিছিল, নিহত ৩০, আহত ৪৭  » «   ‘নির্বাচনে জয়ী হতে গিয়ে যেন দলের বদনাম না হয়’  » «   হাসপাতালে পরীমনি  » «   আর্জেন্টিনার হার, ‘সুইসাইড নোট’ লিখে নিখোঁজ মেসি ভক্ত  » «   সাপাহারে ট্রাক ও ভ্যানের মুখো-মুখি সংঘর্ষে নিহত-২  » «   দুর্ঘটনার দিন ঢাকাতেই ছিলাম না’  » «   ভক্তদের হতাশ করেনি ব্রাজিল : অতিরিক্ত সময়ই বিশ্বকাপে টিকিয়ে রাখল নেইমারদের  » «   হাসপাতালের এক্সরে রুমে রোগীর মাকে ধর্ষণের চেষ্টা!  » «   গজারী বনে যুবতীর অর্ধগলিত লাশ  » «  

ঘরের বারান্দায় স্ত্রীর লাশ, স্বামীর লাশ গাছে



নিউজ ডেস্ক ::রাজশাহীর বাঘা উপজেলার উপজেলার পাকুড়িয়া গ্রামে এক বাড়ির বারান্দা থেকে এক গৃহবধূ এবং বাড়ির পাশের এক গাছ থেকে তার স্বামীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক ধারণা থেকে পুলিশ বলছে, স্ত্রীকে হত্যার পর স্বামী আত্মাহত্যা করেছেন বলে তাদের মনে হয়েছে।
নিহতরা হলেন, ওই গ্রামের আবদুল মান্নান (৪৮) ও তার স্ত্রী কাজলী বেগম (৪৪)।
স্থানীয়রা জানান, বাঘা উপজেলার পাকুড়িয়া গ্রামের আবদুল মান্নান ও তার স্ত্রী কাজলী বেগম বুধবার রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত সাড়ে তিনটার দিকে কাজলী হঠাৎ চিৎকার দিয়ে ওঠেন। এরপর পাশের ঘর থেকে আবদুল মান্নানের মা আফরোজা বেগম ও ছেলে সাব্বির হোসেন (১৩) গিয়ে দেখেন কাজলী বেগমের অবস্থা বেগতিক। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে বাঘা থানা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনার পর সকাল নয়টার দিকে বাড়ির পাশে একটি লিচু বাগানে ঝুলন্ত অবস্থায় আবদুল মান্নানের লাশ উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয়রা আরো জানান, আবদুল মান্নান ও কাজলী বেগমের দুই ছেলে রয়েছে। বড় ছেলে রিশন আহম্মেদ লালপুরে নানার বাড়ি থেকে মঞ্জিলপুকুর কলেজে লেখাপড়া করে।
ছোট ছেলে সাব্বির হোসেন কালিদাসখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র। বৃহস্পতিবার রাতে সাব্বির বাড়িতেই ছিল। তার ভাষ্য, রাত সাড়ে তিনটার দিকে তার মা চেঁচিয়ে ওঠেন। ওই সময় পাশের ঘরে শুয়েছিলো সে। চিৎকার পেয়ে দাদি আফরোজা বেগমের সঙ্গে সেও মায়ের ঘরে যায়। অচেনতন অবস্থায় দ্রুত মাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নেয়া হয়। সেখানে নেয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে মরদেহ বাড়িতে নেয়া হয়। এরপর তার বাবা বাাড়ির অদূরে লিচু বাগানে গলায় ফাঁস দেন। তার দাবি, মাকে হত্যার পর বাবা আত্মহত্যা করেছেন।
জানতে চাইলে বাঘা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল হাসান বলেন, মরদেহ দুটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল মর্গে নেয়ার প্রস্তুতি চলছে।
তিনি আরো বলেন, আবদুল মান্নান আত্মহত্যা করেছেন, এটি নিশ্চিত। তবে তিনি স্ত্রীকে খুন করেছেন এটি নিশ্চিত নয় পুলিশ। ওই গৃহবধূর শরীরে আঘাতের চিহ্ন নেই। এনিয়ে আইনত ব্যবস্থা নিচ্ছে পুলিশ।
ওসি বলেন, আবদুল মান্নানের পরিবার দাবি করছে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে কাজলী বেগম মারা গেছেন। তাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কোনো বিরোধও ছিলো না। রাতে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে মৃত বাবার চল্লিশা আয়োজনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করেন আবদুল মান্নান। আবদুল মান্নানের আত্মহত্যার কারণও জানাতে পারেনি পরিবার।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: