বৃহস্পতিবার, ২৬ এপ্রিল ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ১৩ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
প্রধানমন্ত্রী অষ্ট্রেলিয়া যাচ্ছেন বৃহস্পতিবার  » «   রুয়েট বাস চালককে হত্যা  » «   কান চলচ্চিত্র উৎসবে ‘পোড়ামন ২’  » «   ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতির মূলহোতা গ্রেফতার  » «   বিএনপির মানববন্ধনে নেতাকর্মীরর ঢল  » «   সমকামী তরুণীকে বিয়ে করলেন সাবেক মিস আমেরিকা!  » «   আতঙ্কিত হয়েই খালেদা জিয়াকে জেলে বন্দি  » «   পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিজেই গর্তে পড়েছেন  » «   ময়মনসিংহ-৩ গৌরীপুরআসন ধরে রাখতে মরিয়া আ.লীগ, পুনঃরুদ্ধার চায় বিএনপি  » «   বিডি জবসের সিইও ফাহিম মাশরুর গ্রেফতার  » «   চেকপোস্ট বসিয়ে : রোহিঙ্গা তল্লাশির নামে স্থানীয়দের হয়রানি, সড়ক অবরোধ  » «   বিএনপির হুঁশিয়ারি : খালেদাকে মুক্তি না দিলে দেশে নির্বাচন হবে না  » «   তারেক জিয়া পাকিস্তানের নাগরিক  » «   পতাকা অবমাননা ও ভুয়া জন্মদিন পালন : খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি ১৭ মে  » «   সিনেমায় এসে নাম বদলেছেন যেসব নায়ক-নায়িকা  » «  

গোপনীয়তা রক্ষা করবেন যেভাবে



নিউজ ডেস্ক::তথ্য ফাঁসের কেলেংকারী চলছে বহুদিন ধরেই। এই তো ক’দিন আগে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ফেসবুক ব্যবহারকারীর তথ্য তাদের অজান্তেই ফাঁস হয়ে যায়।

প্রায় ৫ কোটি ফেসবুক ব্যবহারকারীর প্রোফাইল ঘেঁটে, তাদের অনুমতি ছাড়াই সেখান থেকে ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করে ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা একটি সিস্টেম দাঁড় করিয়েছিল। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় তারা ব্যবহারকারীদের সাইকোলজিক্যাল প্রোফাইলের ভিত্তিতে তাদের টার্গেট করে রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন পাঠাতে থাকে।

আপনার কি সঠিক ধারণা আছে, ফেসবুক বা গুগল আপনার সম্পর্কে কতটা জানে?

অনলাইনে আপনার শেয়ার করা তথ্যের গোপনীয়তা সম্পর্কে যদি আপনার মধ্যে কোন উদ্বেগ থাকে, তাহলে সহজ কিছু পদক্ষেপ নিয়ে আপনি নিজেকে নিরাপদ রাখতে পারেন।

এক্ষেত্রে আপনাকে কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে:

ফেসবুক প্রোফাইল ঠিক করুন:

ফেসবুক আপনাকে সব তথ্য ডাউনলোড করার অপশন দেয়। এর মধ্যে আপনার ছবি থেকে শুরু করে এ যাবত যত মেসেজ আপনি আদান-প্রদান করেছেন, সবকিছু।

যদি এসব তথ্যের কপি পেতে চান, তাহলে জেনারেল একাউন্ট সেটিং এ যান। সেখানে ‘ডাউনলোড এ কপি অব ইউর ফেসবুক ডাটা’তে ক্লিক করুন। এরপর সব ডাটা আপনার ইমেল ঠিকানায় চলে যাবে।

জেনারেল একাউন্ট সেটিং থেকে আপনি ‘অ্যাপস’ এ ক্লিক করে দেখতে পারেন কোন অ্যাপসগুলি অপ্রয়োজনীয়। এসব অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ ডিলিট করতে পারেন। হয়তো বহু বছর আগে ফেসবুবকে একটি কুইজ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। সেই অ্যাপটি হয়তো আপনার অনেক তথ্য সংরক্ষণ করে রেখেছে।

এরকম কোন অ্যাপ ডিলিট করার আগে দেখে নিতে পারেন, আপনার সম্পর্কে কত কিছু এই অ্যাপ জানে। আপনি নিজেই অবাক হয়ে যাবেন!

এছাড়াও আপনাকে ট্যাগ করা হয়েছে এরকম বহু ছবি থেকেও নিজেকে আন-ট্যাগ করতে পারেন।

প্রোফাইল পেজে গিয়ে অ্যাকটিভিটি লগ ভালো করে দেখুন। স্ক্রল করে যত ছবি আর পোস্টে আপনাকে ট্যাগ করা হয়েছে সেগুলো দেখুন। আপনার অপছন্দের ছবি আর পোস্ট ডিলিট করুন।

গুগল আপনাকে কতোটুকু চিনে?

এমন সম্ভাবনা খুব বেশি যে আপনি প্রতিদিন অন্তত একবার গুগলের কোন না কোন কিছু ব্যবহার করেন। এবং বিশ্বের আর যে কোন কোম্পানির চেয়ে গুগল আপনাকে অনেক ভালোভাবে চেনে।

আপনার গুগল একাউন্টে লগ ইন করুন। আপনার লোগোর ওপর ক্লিক করুন। এরপর প্রাইভেসি চেক আপ পেজে গিয়ে আপনার সম্পর্কিত সমস্ত তথ্য নিজের নিয়ন্ত্রণে নিন।

সেখানে তিন নম্বর ধাপে পার্সোনালাইজ ইউর গুগল এক্সপেরিয়েন্সে যান। এর মাধ্যমে গুগলের নিয়ন্ত্রণ আপনি নিজের হাতে নিয়ে নিতে পারেন। ভবিষ্যতে গুগল আপনার কোন তথ্য ‘লগ’ করবে, তার সীমা আপনি ঠিক করে দিতে পারেন।

আপনার কী কী তথ্য গুগলের কাছে আছে, সেটা জানতে চাইলে এই লিংকটিতে যেতে পারেন: google.com/takeout

লোকেশন ডাটা সম্পর্কে কতটা জানেন?

আপনার যদি একটি স্মার্টফোন থাকে, তাহলে এমন সম্ভাবনা খুব বেশি যে আপনার অনেক তথ্য চলে যাচ্ছে থার্ড পার্টি অ্যাপসের কাছে। আপনি কে, কোথায় থাকেন, কোথায় যান, সব তাদের জানা।

আপনার লোকেশন হিস্ট্রি জানতে আপনাকে যা করতে হবে:

• Android: Open Google Maps > menu > Your timeline. Select individual items for more detail.

• iPhone: Settings > Privacy > Location Services > scroll down and select System Services >scroll down and select Frequent/Significant Locations. Select individual items for more detail.

যদি আপনি থার্ড পার্টি অ্যাপসকে আপনার ওপর নজরদারি করতে দিতে না চান তাহলে যেখানে গিয়ে সেটিং বদলাতে পারেন:

• Android: Settings > Apps > App permissions > Location.

• iPhone: Settings > Privacy > Location Services > manage location access on a per-app basis.

প্রাইভেট ব্রাউজার ব্যবহারের চেষ্টা করুন:

কোন একটা শপিং সাইটে গিয়ে কিছু কেনার চেষ্টার পর নিশ্চয়ই খেয়াল করেছেন এরপর যে পেজেই যাচ্ছেন, সেই পণ্যের বিজ্ঞাপন দেখতে পাচ্ছেন?

কিছু থার্ড পার্টি কোম্পানি আপনাকে টার্গেট করে এসব পাঠাচ্ছে।

এরা পর্দার আড়ালে থেকে আপনার সম্পর্কে অনেক তথ্য জোগাড় করে। আপনি কি সার্চ করছেন, কোন ওয়েবসাইটে যাচ্ছেন এবং আপনার আইপি এড্রেস কি, সব তাদের জানা।

আপনার জন্য একটা দুঃসংবাদ হলো, বাজার চলতে কোন ব্রাউজারের ডিফল্ট সেটিংই আসলে প্রাইভেট বা গোপনীয় নয়। এরা সবাই কুকিজ থেকে শুরু করে ব্রাউজিং হিস্ট্রি, ওয়েব ফর্ম এন্ট্রি থেকে শুরু করে আরও নানা তথ্য মওজুদ করতে থাকে।

তবে গুগল, ফায়ারফক্স এবং সাফারিতে প্রাইভেট বা ‘ইনকগনিটো’ ব্রাউজিং মডের সুযোগ আছে। এই মডে আপনার ব্রাউজিং হিস্ট্রি, কুকিজ, টেম্পোরারি ফাইল এবং ওয়েব এন্ট্রি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডিলিট হয়ে যাবে।

নিজে চেষ্টা করে দেখতে পারেন:

Open your browser (Firefox, Chrome, Chromium or Safari) and go to Menu > New Private/Incognito Window (depending on the browser).

To set Private Browsing permanently in Firefox or Safari, go to:
Firefox: menu > Preferences > Privacy > History: Firefox will: select Use custom settings for history > check Always use private browsing mode.

Safari: Safari in the top bar > Preferences > General > Safari opens with: select A new private window.
প্রশ্ন করুন: আসলে কী এত রকমের অ্যাপস দরকার আছে?

আপনি কি জানেন আপনার ফোনে কত রকমের অ্যাপস আছে? অনুমান করুন তো? এরপর নিজে গুনে দেখুন।

যা ভেবেছিলেন তার চেয়ে বেশি? কোনটা রাখবেন কোনটা ডিলিট করবেন সেই সিদ্ধান্ত নেয়া সত্যিই কঠিন। তবে নীচের প্রশ্নগুলোর উত্তর আপনাকে সাহায্য করবে:

এটা কি আপনার আসলেই দরকার?
কবে আপনি এটি শেষ ব্যবহার করেছেন?
এই অ্যাপটি কি ডাটা সংগ্রহ করে?
এই অ্যাপটি কাদের?
আপনি কি তাদের বিশ্বাস করেন?
আপনি কি তাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার নীতি সম্পর্কে জানেন?
এসব তথ্যের বিনিময়ে আপনি নিজে কি সুবিধা পাচ্ছেন?

এখন হয়তো আপনি সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন কোন অ্যাপগুলো ডিলেট করা যেতে পারে। তাই সবদিক বিবেচনা করে এখনি নিজের নিরাপত্তার বিষয়ে সচেতন হন।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: