শনিবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ ফাল্গুন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
আদালতে হাজির করা হবেনা খালেদা জিয়াকে  » «   আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হলো আঞ্চলিক ইজতেমা  » «   খালেদা জিয়ার জেল অস্বাভাবিক কিছু নয়  » «   কানাইঘাটে স্বামীর হাতে স্ত্রী খুন,শ্বশুড়-শ্বাশুড়ি আটক  » «   আজ নায়ক মান্নার মৃত্যুবার্ষিকী  » «   সুপারসহ ৫ ভুয়া পরীক্ষার্থী আটক  » «   অনার্স ৪র্থ বর্ষের ফল প্রকাশ  » «   শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু  » «   প্রেসক্লাবে সমাজকল্যাণমন্ত্রী‘খালেদাকে কারাগারের রোজনামচা পাঠানো উচিৎ’  » «   পদত্যাগ করার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি : শিক্ষামন্ত্রী  » «   প্রিয়াতে বেসামাল লুঙ্গি!  » «   বিশ্বকাপের জন্য দল ঘোষণা করল ব্রাজিল  » «   শিশু জয়নবের ধর্ষকের মৃত্যুদণ্ড  » «   অবসরে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী  » «   বিএনপির গণস্বাক্ষর অভিযান আজ  » «  

গুলিতে প্রাণ গেল পাকিস্তানি ব্লগারের



4আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বাংলাদেশে গত কয়েক মাসে কয়েকজন ব্লগারের খুনের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু পাকিস্তানে এবার খুন হলেন খুররম জাকি নামের একজন ব্লগার। মানবাধিকার কর্মী ও প্রাক্তন সাংবাদিক জাকি দেশটিতে পরিচিত এবং জনপ্রিয় মুখ। কট্টর ধর্মীয় নীতির বিরুদ্ধে বরাবর মুখ খুলেছেন, ব্লগেও লিখতেন তিনি।

ফেসবুকে ‘লেট আস বিল্ড পাকিস্তান’ (এলইউবিপি) নামে একটি পেজও খুলেছিলেন খুররম। গতকাল রাতে উত্তর করাচির সেক্টর ১১-জি-র একটি রেস্তোরাঁয় খেতে গিয়েছিলেন বছর চল্লিশের খুররম। তার সঙ্গে ছিলেন রাও খালিদ নামে এক সাংবাদিক। দুষ্কৃতিদের গুলিতে মারা গিয়েছেন তিনিও।

রেস্তোরাঁটির চারপাশ খোলা। সেখানেই দু’টি মোটরবাইকে চড়ে অজ্ঞাত পরিচয়ের দুর্বৃত্তরা আসে। খুররমকে নিশানা করে কয়েক রাউন্ড গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায় তারা। গুলিবৃষ্টির মধ্যে পড়ে মারাত্মক জখম হন খুররমের সঙ্গী রাও খালিদ। আহত হয়েছেন আসলাম নামে আরো একজন। ঘটনার সময় ওই রেস্তোরাঁর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি।

এই ঘটনার পর পরই খুররমদের স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে রাতের দিকে খুররমকে অন্য হাসপাতালে সরানো হয়। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। তার সেঙ্গ বাঁচানো যায়নি সঙ্গী খালিদকেও।

পাক সংবাদমাধ্যমের একটি সূত্রের দাবি, তালিবানের হাকিমুল্লাহ মেহসুদের শাখা সংগঠন এই ঘটনার দায় স্বীকার করেছে। লাল মসজিদের মৌলবি মৌলানা আবদুল আজিজের সমালোচনা করাতেই খুররমকে মরতে হলো দাবি তাদের। তবে এলইউবিপি-র প্রধান সম্পাদক আব্বাস তাজ জামায়াত-এ-ইসলামি পাকিস্তানের দিকে আঙুল তুলেছেন।

জামায়াত নেতা শামসুদ্দিন আমজাদ দীর্ঘদিন ধরে খুররমের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে নানা উস্কানিমূলক কথা বলে আসছেন বলেও দাবি করেছেন তাজ। জামায়াতের সঙ্গেই ‘সিপাহ-এ-সাহবা পাকিস্তান’- নামে অন্য একটি উগ্র মৌলবাদী সংগঠনের সদস্যরাও খুররমের বিরুদ্ধে কথা বলত বলে জানিয়েছেন তিনি।

তবে করাচির পুলিশ জানিয়েছে, যেখানে কাল খুররমদের উপর আক্রমণ হয়, সেখানে ফরেন্সিক দল গিয়ে তদন্ত সেরেছে। নাইন এমএম বোর পিস্তল থেকেই যে কাল গুলি চলেছিল সে বিষয়েও একপ্রকার নিশ্চিত পুলিশ।

খুররমের মৃত্যুর পরে অবশ্য বিক্ষোভে উত্তাল হয়েছে করাচি। আজ খুররমের শেষ যাত্রায় সামিল হয়েছিলেন হাজার হাজার মানুষ। করাচির মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনেও তারা বিক্ষোভ করেছেন। টুইটারে হ্যাশ ট্যাগ দিয়ে ‘জাস্টিস ফর পিস অ্যাক্টিভিস্ট টু কনডেম দ্য কিলিং’ নামে প্রচারও শুরু করেছন ইতিমধ্যে।

খুররম জাকির স্ত্রী বলেছেন, ‘আমার গোটা পরিবার খুনের হুমকি পেত। আমার স্বামীকে এ ভাবে ছিনিয়ে নেয়া হল।’ আমার স্বামীর খুনিরা যাতে শাস্তি পায়, তার আর্জিও জানাচ্ছি।

তবে খুররমকে খুন করে তার পরিবারকে যে দমিয়ে রাখা যাবে না, সেই বার্তা আজ দিয়েছেন খোদ খুররম কন্যা। ‘‘আমার বাবাকে এভাবে খুন করে শহিদের মর্যাদা দিয়েছে ওরা। এই রকম একজন শহীদের মেয়ে হিসেবে নিজেকে গর্বিত মনে হচ্ছে।’’

সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: