শনিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ আশ্বিন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
উ. কোরিয়ায় কম্পন, ফের পারমাণবিক পরীক্ষা!  » «   পানিতে ডুবে স্বামী পরিত্যক্তার মৃত্যু  » «   দেবের আচরণে রোশানের হতাশা  » «   পুলিশের খোয়া যাওয়া অস্ত্র উদ্ধার  » «   মহানন্দায় বালুভর্তি ট্রলার ডুবি, নিখোঁজ ১  » «   বিএনপির সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতা নয় : প্রধানমন্ত্রী  » «   কুমিল্লা-৫ আসনে সমান অবস্থানে আ’লীগ বিএনপি, জামায়াতের ভোটব্যাংক  » «   পাক ব্যাংকে দুর্নীতি, অভিযুক্ত ৭ বাংলাদেশি  » «   ‘বাবার সঙ্গে হানিপ্রীতকে নগ্ন অবস্থায় দেখেছি’  » «   ব্রিফকেসের ভেতর যুবকের লাশ!  » «   ছুটি নিয়ে রাজনৈতিক প্রচারণায় সাকিব: অর্থায়নে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়  » «   ভয়ংকর ভাবে ছড়িয়ে পড়ছে ‘সুপার ম্যালেরিয়া’  » «   আমেরিকান প্রবাসী পরিবার কর্তৃক রোহিঙ্গাদের ত্রাণ সহায়তা  » «   নবীগঞ্জে ভয়াবহ অগ্নিকান্ড, কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি  » «   চাপে আছেন মুসা, দেশ ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা  » «  

গাইবান্ধার ৬ জনের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ



download-4একাত্তরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গাইবান্ধা সদর উপজেলার আব্দুল জব্বার মন্ডলসহ (৮৬) ছয়জনের বিরুদ্ধে চার অভিযোগে তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। এটি তদন্ত সংস্থার ৪৪তম তদন্ত প্রতিবেদন।

আসামিদের বিরুদ্ধে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) মো. হেলাল উদ্দিন ছয় খন্ডে নয়শ ৫৮ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছেন। ২০১৫ সালের ১২ অক্টোবর থেকে তদন্ত শুরু করে ২১ ডিসেম্বর শেষ করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে ৪০ জনকে প্রসিকিউশনের সাক্ষী করা হয়েছে।

আব্দুল জব্বার মন্ডল ছাড়া এ মামলায় অন্য পাঁচ আসামি হলেন, জাছিজার রহমান অরফে খোকা (৬৪), আজগর হোসেন খান (৬৬), মোন্তাজ আলী ব্যাপারী (৬৮), আব্দুল ওয়াহেদ মন্ডল (৬২) ও মো. রনজু মিয়া (৫৯)। আসামিদের মধ্যে শুধু রনজু মিয়া গ্রেফতার রয়েছেন। বাকিরা সবাই পলাতক।

আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা, নির্যাতন ও অগ্নিসংযোগসহ মানবতাবিরোধী চার অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে চূড়ান্ত প্রতিবেদনে। ওই প্রতিবেদন আজই প্রসিকিউশনের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

বুধবার তদন্ত সংস্থার ধানমন্ডি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেন সংস্থার সমন্বয় কর্মকর্তা সানাউল হক।

এরা সবাই জামায়াতে ইসলামীর সক্রিয় কর্মী ছিলেন বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গত ২৯ মে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। পরে তাদের মধ্যে রনজু মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়।

আসামীদের মধ্যে আনা চার অভিযোগ :

প্রথম অভিযোগ : ১৯৭১ এর জুন মাসের প্রথম দিকে আজগর হোসেন খানের নেতৃত্বে ৮-১০ জন রাজাকার এবং ১৫-২০ জন পাকিস্তান দখলকার সেনাবাহিনী গাইবান্ধার সদরে সাহাপাড়া ইউনিয়নের বিঞ্চপুর গ্রামে হিন্দুদের বাড়িতে হামলা করে। তারা অম্বিকা চরন সরকার, দ্বিজেন চন্দ্র সরকার ও আব্দুল মজিদ প্রধানকে নির্যাতন করে। আসামিরা ফুল কুমারী রানী ও তার জা সাধনা রানী সরকার (বর্তমানে মৃত) আটক করে নির্যাতন করে। তারা মুসলমান হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলে কপালের সিদুর এবং হাতের শাখা ভেঙ্গে দিয়ে ছেড়ে দেয়।

দ্বিতীয় অভিযোগ :
গাইবান্ধা জেলার সদর থানাধীন সাহাপাড়া ইউনিয়নের নান্দিনা গ্রামে সশস্ত্র হামলা চালিয়ে আবু বক্কর, তারা আকন্দ, আনছার আলী এবং নছিম উদ্দিন আকন্দসহ মোট ৯ জনকে গুলি করে হত্যা করে এবং ৪০-৫০টি বাড়ির মালামাল লুণ্ঠন করে আগুনে পুড়িয়ে দেয়।

তৃতীয় অভিযোগ :
গাইবান্ধা জেলার সদর থানার সাহাপাড়া ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামে সশস্ত্র হামলা চালিয়ে লাল মিয়া বেপারী, আব্দুল বাকী এবং খলিলার রহমানসহ ৫ জনকে গুলি করে হত্যা করে।

চতুর্থ অভিযোগ :
গাইবান্ধার সাহাপাড়া ইউনিয়নের নান্দিনা, মিরপুর, সাহারবাজার, কাশদহ, বিসিক শিল্প নগরী, ভবানীপুর এবং চকগায়েশপুর গ্রামে সশস্ত্র হামলা চালিয়ে নিরস্ত্র মুক্তিযোদ্ধা ওমর ফারুক, ইসলাম উদ্দিন এবং নবীর হোসেনসহ মোট ৭ জনকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

 

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: