রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
প্রবাসী স্ত্রীকে লাইভে রেখে সিলেটের স্বামীর আত্মহত্যা!  » «   খাশোগি হত্যা: যুক্তরাষ্ট্র-সৌদির নীল নকশা ও তুরস্কের উদ্দেশ্য  » «   দুই নম্বরি কেন ১০ নম্বরি হলেও ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে থাকবে: ড. কামাল  » «   বোরকার বিরুদ্ধে সৌদি নারীদের অভিনব প্রতিবাদ  » «   আজ থেকে শুরু হচ্ছে প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী সমাপনী পরীক্ষা  » «   সিডরে নিখোঁজ শহিদুল বাড়ি ফিরলেন ১১ বছর পর!  » «   ভাওতাবাজির জন্য সরকারকে গোল্ড মেডেল দেওয়া উচিৎ: ড. কামাল  » «   দিল্লির লাল কেল্লা দখলের হুমকি পাকিস্তানের!  » «   সত্য বলায় এসকে সিনহাকে জোর করে বিদেশ পাঠানো হয়েছে: মির্জা ফখরুল  » «   নির্বাচনী কর্মকর্তারা পক্ষপাতিত্ব করলে শাস্তি হবে: নির্বাচন কমিশনার  » «   গোলান মালভূমিতে সিরিয়ান মালিকানা জাতিসংঘে অনুমোদন  » «   শ্রীলংকার পার্লামেন্টে স্পিকারের চেয়ার দখল, সংঘর্ষে আহত একাধিক এমপি  » «   আজ মওলানা ভাসানীর ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী  » «   কে হবেন প্রধানমন্ত্রী: উত্তরে যা বললেন ড. কামাল  » «   ক্যালিফোর্নিয়া দাবানল: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৯  » «  

গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা চালু হবার পরএই প্রথম কোনো সাবেক প্রধানমন্ত্রী এতদিন কারাগারে



নিউজ ডেস্ক::জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত হয়ে কারাগারে বন্দি রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক ৩ বারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। ৮ ফেব্রুয়ারি বিকেল থেকে কারাগারে রয়েছেন তিনি। সংসদীয় গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা চালু হবার পর এই প্রথম কোনো সাবেক প্রধানমন্ত্রীর এতদিন কারাগারে কাটানোর নজির সৃষ্টি হলো।

খালেদা জিয়া কারান্তরীণ রয়েছেন ৬দিন হতে চললো। আরও কতদিন তাকে কারাগারে কাটাতে হবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এর মধ্যে কুমিল্লার নাশকতা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে দুর্নীতির মামলায় কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কুমিল্লা ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর ফিরোজ গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।

তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের ইন্সপেক্টর ফিরোজ হোসেন জানান, খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার দেখানোর কোন আবেদন এখনো পর্যন্ত পাননি। এর আগে, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেন ঢাকার বকশীবাজারে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক আখতারুজ্জামান। এরপর থেকেই খালেদা জিয়া কারাগারে রয়েছেন।

কুমিল্লার মামলায় খালেদা জিয়ার ঠিকানা রাজধানীতে হওয়ায় কুমিল্লা থেকে গ্রেফতারি পরোয়ানা ঢাকায় পাঠানো হয়। অন্য মামলায় তার সাজা হওয়ার পর কারাগারে থাকায় আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিল করার জন্য ওই মামলায় তাকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়। এতে করে দীর্ঘই হচ্ছে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর কারাজীবন।

জানা যায়, বিএনপি-জামায়াতসহ ২০ দলীয় জোটের ডাকা হরতাল-অবরোধ চলাকালে ২০১৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে জগমোহনপুর নামক স্থানে কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী আইকন পরিবহনের একটি নৈশ কোচ (ঢাকা মেট্টো-ব-১৪-৪০৮০) নং বাসে পেট্টোল বোমা নিক্ষেপ করে। বাসে ঘুমিয়ে থাকা যাত্রীরা কোন কিছু বুঝে উঠার আগে আগুনে পুড়ে ঘটনাস্থলে ৭জন ও হাসপাতালে নেয়ার পর ১জনসহ মোট ৮ ঘুমন্ত যাত্রী মারা যায়।

নারকীয় ওই হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় চৌদ্দগ্রাম থানার এসআই নুরুজ্জামান হাওলাদার বাদি হয়ে পরদিন ৩ ফেব্রুয়ারি রাতে বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি ও বিস্ফোরক আইনে একটিসহ থানায় পৃথক ২টি মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হুকুমের আসামি করা হয়।

তদন্ত শেষে চলতি বছরের ৬ মার্চ কুমিল্লার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে খালেদা জিয়াসহ মোট ৭৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। ঘটনায় কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের সাবেক সংসদ সদস্য জামায়াত নেতা ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে প্রধান আসামি করা হয়। এছাড়াও ৫৬ জনের নাম উল্লেখ এবং আরও ২০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়।

ওই ঘটনায় চৌদ্দগ্রাম থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য এবং বিশেষ ক্ষমতা আইনে আরও দুটি মামলা করে পুলিশ। গত বছরের ১৬ নভেম্বর জেলা ডিবি’র ইন্সপেক্টর ফিরোজ হোসেন ওই মামলার অধিকতর তদন্ত শেষে বেগম খালেদা জিয়া, বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী, মনিরুল হক চৌধুরী, জামায়াত নেতা ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহেরসহ ৭৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

চলতি বছরের ২জানুয়ারি দুপুরে কুমিল্লার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ও ৫নং আমলী আদালতের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারক বেগম জয়নব বেগম বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ বিএনপি-জামায়াতের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় ৫৫ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেন।

জামিনে আছে ২৯ জন এবং জেল হাজতে একজন রয়েছে। এ মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য কোন আবেদন দাখিল করা হয়নি। সোমবার বিকাল পর্যন্ত এ সংক্রান্ত কোন আবেদন নিয়ে কেউ আদালতে আসেননি বলে কোট সূত্রে জানা গেছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের ইন্সপেক্টর ফিরোজ হোসেন জানান, এখনো পর্যন্ত কোন আবেদন জানানো হয় নি।

কুমিল্লা সদর কোর্টের জিআরও আবুল কালাম জানান, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ঢাকার গুলশান থানায় পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল করবেন একজন নিযুক্ত কর্মকর্তা।

খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার দেখানোর কোন আবেদন আদালতে আসে নি। অপর দিকে চৌদ্দগ্রাম থানার জিআরও নুরুন্নবী জানান, একই ঘটনায় দুটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলা উচ্চ আদালত থেকে স্থগিত রয়েছে। হত্যা মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি আছে। আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি এ মামলার তারিখ নির্ধারিত আছে।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী কাইমুল হক রিংকু জানান, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা সিডাব্লিও (কাষ্টডি ওয়ারেন্ট) এর মাধ্যমে তামিল করা হয়ে থাকতে পারে। আমরা ওকালতনামা পাঠিয়েছি তিনি স্বাক্ষর করে দিলে আমরা আদালতে জামিনের আবেদন জানাবো। তিনি জানান, কুমিল্লার তিনটি মামলার মধ্যে দুটি মামলা উচ্চ আদালতে স্থগিত রয়েছে।

আদালত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিলকারি পুলিশ কর্মকর্তা কুমিল্লার আদালতে একটি আবেদন দাখিল করার কথা। সেই আবেদন আদালতে উপস্থাপিত হলে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হওয়ার কথা তিনি এ মামলায় গ্রেপ্তার কি গ্রেপ্তার নন।

বিষয়টি একটি আনুষ্ঠানিকতা। তাছাড়া দুর্নীতির মামলায় জামিন পেলে বের হওয়ার সময় পুলিশ তাঁকে আবার গ্রেপ্তার দেখাতে পারবে। অথবা খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা বিষয়টি আদালতের নজরে এনে কুমিল্লার মামলায় জামিন চাইবেন। ফলে দুর্নীতি মামলায় যদি জামিন পান তাহলেও কুমিল্লার মামলায় জামিন না পেলে খালেদা জিয়ার মুক্তির সম্ভাবনা নেই।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: