সোমবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭ খ্রীষ্টাব্দ | ১০ আশ্বিন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
সুনামগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী হব –জয়নুল জাকেরীন  » «   ৫৫ বছরের শিক্ষিকার পিছু ধাওয়া করায় ৬২ বছরের বৃদ্ধের কারাদণ্ড!  » «   রোহিঙ্গা ইস্যু ‘জাতির জন্য বড় চ্যা‌লেঞ্জ’  » «   স্পর্শিয়া-রাফসানের সংসারে বিচ্ছেদ  » «   বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির গণশুনানি সোমবার  » «   জেহাদুলের মুখে মা বাবা ভাই হারানোর লোমহর্ষক বর্ণনা  » «   আবারও মের্কেলের জয়  » «   রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞের ১ মাস  » «   শ্রীমঙ্গলে রোহিঙ্গা শিশু উদ্ধার  » «   যুক্তরাষ্ট্র থেকে জরুরি ফাইলে স্বাক্ষর প্রধানমন্ত্রীর  » «   প্রধান শিক্ষকের বদলি ঠেকাতে কানাইঘাটে শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জন  » «   মেডিকেল ছাত্রীর সতীত্ব বিক্রির বিজ্ঞাপন!  » «   ঢামেক হাসপাতাল‘মর্গের ভিতরে যেতে পারি না’  » «   বোরকা পরেও নিজেকে লুকাতে পারলেন না এই অভিনেত্রী  » «   ‘যুক্তরাষ্ট্র শয়তানের হেডকোয়ার্টার’  » «  

খালেদা জিয়ার লন্ডন সফরেই বিএনপির শেষ প্রতিষেধক?



প্রায় একযুগ ধরে ক্ষমতার বাইরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। সর্বশেষ ২০০১ সালের নির্বাচনে ক্ষমতায় এসেছিল বিএনপি।এরপর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফখরুদ্দিন-মঈন উদ্দিন দেশ চালালেন। আওয়ামী লীগ-বিএনপি প্রধানকে জেলে ঢোকালেন। দীর্ঘদিন নির্বাচন না দিয়ে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রকে ধংসের দিকে নিয়ে গিয়েছিলেন। অবশেষে আওয়ামী লীগ-বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও দেশের মানুষের প্রচেষ্টায় আবার গণতন্ত্র ফিরে পায় বাংলার জনগণ।

তবে একটা প্রশ্ন রয়েই গেল। যেই ফখরুদ্দিন-মঈন উদ্দিনের কাছ থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করতে সবাইকে যুদ্ধ করতে হয়েছে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে যারা সরকার গঠন করেছে তারা কিভাবে এমন ব্যক্তিদের বিচার না করে পারলেন? অনেকে তো এখনও বলছেন,ফখরুদ্দিন-মঈন উদ্দিন শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় বসিয়ে দিয়ে তারা তাদের পাপ থেকে মুক্তি পেয়েছেন? এবং এখন দেশ থেকে পালিয়ে গিয়ে বিদেশে থাকছেন। সরকার তাদের বিরুদ্ধে কোন ধরনের অভিযোগ আনছেন না কিন্তু ক্ষমতায় যাওয়ার আগে আওয়ামী লীগেরও কম অভিযোগ ছিল না এই দুজনের বিরুদ্ধে।

তবে সবচেয়ে অবাক হওয়ার বিষয় হলো এই দুই ব্যক্তিকে খালেদা জিয়াই বড় করেছিলেন। ওয়ার্ল্ড ব্যাংকে চাকরি করত ফখরুদ্দীন, খালেদা জিয়া তাঁকে এনে গভর্নর বানাল। নয়জন সেনা অফিসারকে ডিঙিয়ে মঈন উদ্দিনকে সেনাপ্রধান বানিয়েছিলেন। আর এই দুই ব্যক্তি ওই সময়ে হয়তো নিজেদের ইমেজ রক্ষা করতেই আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় বসিয়ে দেশ ছেড়েছেন। আর ২০০৮ সালে যদি বিএনপি ক্ষমতায় আসতো তাহলে জনগণের কাছে এই দুজনের জাবাব দেয়ার মতো হয়তো কিছুই থাকতো না।

যাইহোক সেই থেকেই যে বিএনপি হারিয়ে গেল আজ পর্যন্ত আর দাঁড়াতে পারেনি। এরপর হামলা-মামলা আর হতাশা ও ভুল সিদ্ধান্তেই রয়ে গেছে দলটি। ২০১৪ সালের নির্বাচনে না যাওয়া বড় ভুল ছিল বিএনপির। যা এখন বিএনপির অনেক নেতাই হরহামেশাই স্বীকার করছেন। সরকার যখন আলোচনার জন্য ফোন করেছিল তখন আলোচনায় বিএনপির অংশগ্রহন অতীব জরুরি ছিল। এই আলোচনা ও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে না গিয়ে দ্বিতীয় ভুল ছিল দলটির।

৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আন্দোলনে নেমে বার বার ব্যর্থ হয়েছে বিএনপি।কত আন্দোলন করেছে কিন্তু কোনভাবেই সরকারের সঙ্গে এঁটে উঠতে পারে নি। সরকারের কৌশলের কাছে বারবার পারজিত হয়েছে গণতন্ত্র রক্ষা করতে গিয়ে গড়ে ওঠা এই দলটি।

তবে হতাশাগ্রস্থ বিএনপি হতাশা ঝেড়ে ফেলে একাদশ জাতীয় নির্বাচনের জন্য তৈরী হচ্ছে। যেকোন ভাবেই হোক একাদশ জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহন করবে দলটি। সর্বশেষ গত (জুলাই) মাসে বিএনপি প্রধান খালেদা জিয়া আগামী নির্বাচন ও দল পরিচালনাসহ নানান ইস্যু নিয়ে লন্ডনে অবস্থানরত দলের দ্বিতীয় কর্তা ব্যক্তি বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনা করতে গেছেন। আগামী নির্বাচনের আগে হয়তো আর খালেদা জিয়ার লন্ডন সফর করা নাও হতে পারে। তাহলে নিশ্চয়ই খালেদার এই সফর খুবই গুরুত্বপূর্ণ অর্থ বহন করে বিএনপির নেতাকর্মীদের জন্য।

তাছাড়া বিএনপি প্রধান এই সফর থেকে দেশে ফিরেই সহায়ক সরকারে রুপরেখাসহ নানান বিষয় তুলে ধরবেন বর্তমান সরকারসহ দেশ ও জাতির কাছে।সে হিসেবে খালেদা জিয়ার এই লন্ডন সফরেই রয়েছে প্রায় একযুগ ধরে হতাশাগ্রস্ত বিএনপির মুক্তির প্রতিষেধক? যদি তাই হয় তাহলে বিএনপির জন্য শুভ। অন্যথায় ২০১৯ সালের পর বিএনপি গহীন অন্ধকারে হারিয়ে যাবে।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: