শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়িয়ে দুই পুরস্কার পাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী  » «   ডিজিটাল পাঠ্যবই শিক্ষার্থী ও শিক্ষক উভয়ের জন্য সহায়ক হবে: শিক্ষামন্ত্রী  » «   কাল পবিত্র আশুরা, তাজিয়া মিছিলে ছুরি-তলোয়ার নিষিদ্ধ  » «   জেল থেকে বাসায় ফিরলেন নওয়াজ-মরিয়ম  » «   রোহিঙ্গাদের জন্য বিশ্বব্যাংকের ৫ কোটি ডলার সহায়তা  » «   রান্নাঘরের গ্রিল কেটে শাবির ছাত্রী হলে চুরি,নিরাপত্তাহীনতায় ছাত্রীরা  » «   এখনও জঙ্গি হামলার ঝুঁকিতে বাংলাদেশ : যুক্তরাষ্ট্র  » «   মোদিকে ইমরানের চিঠি: পুনরায় শান্তি আলোচনা শুরুর তাগিদ  » «   খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতেই বিচার চলবে: আদালত  » «   ফুটপাতের খাবার বিক্রেতা থেকে সিঙ্গাপুরের রাষ্ট্রপতি!  » «   বিএনপি নেতাদের ওপর ক্ষুব্ধ তারেক রহমান!  » «   পায়রা বন্দরের নিরাপত্তায় পুলিশের বিশেষ আয়োজন  » «   সরকারের চাপের মুখে দেশত্যাগ করতে হয়েছে: এসকে সিনহা  » «   পুতিন আমাকে হত্যার চেষ্টা করেছে : রাশিয়ান মডেল  » «   বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ: ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত  » «  

খালেদার বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন ফখরুল



full_1822478332_1458547601নিউজ ডেস্ক: বিএনপির ষষ্ঠ কাউন্সিলে খালেদা জিয়া তার বক্তব্যে শেখ হাসিনাকে বাদ দিয়ে নির্বাচন করার কথা বলেননি বলে দাবি করেছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়া বলেছেন- আগামীতে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ যে নির্বাচন হবে, সেখানে সকলেই অংশ নেবে। অর্থাৎ সে নির্বাচন শেখ হাসিনার অধীনে হবে না। অথচ আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা এটাকে বিকৃত করে জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা করছেন।

সোমবার বেলা ১১টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল তার দলীয় চেয়ারপাসনের বক্তব্যের এই ব্যাখ্যা দেন।

এর আগে শনিবার বিএনপির কাউন্সিলের সমাপনী অধিবেশনে ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাদ দিয়েই ভবিষ্যতে নির্বাচন হবে’- এমন মন্তব্য করে খালেদা জিয়া নেতাদের উদ্দেশে বলেছেন, সেজন্য এখন থেকেই কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, বিএনপি জনগণের দল তাই জনগণকে সঙ্গে নিয়েই সবকিছু করবে। বিএনপি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে, তাই হাসিনা মার্কা কোনো নির্বাচনে কখনো কোনো দিন অংশ নেবে না। বরং শেখ হাসিনাকে বাদ দিয়েই নির্বাচন করা হবে। যে নির্বাচন হবে জনগণের নির্বাচন।

খালেদা জিয়ার এ বক্তব্যের ব্যাপারে রোববার গণভবনে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, খালেদা জিয়া ‘হাসিনাবিহীন নির্বাচনের’ কথা বলেছেন। ‘হাসিনাবিহীন নির্বাচন’ বলতে খালেদা জিয়া কী বোঝাতে চাইছেন? ২১ আগস্টের মতো আবার গ্রেনেড হামলা বা আবার হত্যার পরিকল্পনা করছেন কিনা? সেটাই হচ্ছে আমার প্রশ্ন। তার মানে আরও কিছু একটা ষড়যন্ত্রের ঘোঁট পাকাচ্ছে সে (খালেদা জিয়া)। কারণ, আর কোনো পথ তার নেই।

এ বক্তব্যের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি মনে করেছিল খালেদা জিয়ার বক্তব্যে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া আরও বেগবান হবে বলে শেখ হাসিনা ধন্যবাদ জানাবেন। অথচ দুর্ভাগ্য তিনি বক্তব্য বিকৃত করেছেন।

তিনি দাবি করেন, কাউন্সিলে খালেদা জিয়া যে বক্তব্য দিয়েছেন তাতে রাজনীতির ইতিবাচক সূচনা হয়েছে। তার বক্তব্যে একদিকে দিক নির্দেশনা অন্যদিকে রাষ্ট্রের যে সমস্ত বিষয়ে সংস্কার জরুরি তা তুলে ধরা হয়েছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি প্রত্যাশা করে আওয়ামী লীগ প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, মন্ত্রীবর্গ খালেদা জিয়ার বক্তব্য বিকৃত না করে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতা করে সকল দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের উদ্যোগ নিবেন।

কাউন্সিল কতটা সফল হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আল্লাহর অশেষ রহমতে শৃংখলা ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পূর্ণ করতে পেরেছি। আর নেতাকর্মীদের সংখ্যা প্রত্যাশার চেয়েও বেশি হয়েছে যা বিভিন্ন পত্রপত্রিকায়ও প্রকাশিত হয়েছে।

কাউন্সিলের মাধ্যমে নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে জাগরণ সৃষ্টি হয়েছে। তারা গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে নিজেকে নিবেদন করার শপথ নিয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব।

কাউন্সিলের পর কখন নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কাউন্সিলাররা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ক্ষমতা দিয়েছেন, তাই তিনি শিগগিরই কমিটি ঘোষণা করবেন।

এদিকে সংবাদ সম্মেলনের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ষষ্ঠ কাউন্সিলে যে সকল বিষয়ে বিএনপির গঠনতন্ত্র সংশোধনী হয় তা তুলে ধরেন।

এ সময় তিনি বলেন, ‘এক ব্যক্তির এক পদ’-এর ধারা সম্বলিত বিধানের কারণে স্থায়ী কমিটি ও নির্বাহী কমিটির কর্মকর্তারা অন্য কোনো পদে থাকতে পারবেন না। একইভাবে যারা জেলা, উপজেলা, থানা ও পৌরসভায় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে থাকবেন তারা অন্য কোনো পদে থাকতে পারবেন না।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা নজরুল ইসলাম খান, আবদুল্লাহ আল নোমান, ডা.এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ফজলুল হক মিলন, আবদুস সালাম, আসাদুল করিম শাহীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: