রবিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭ খ্রীষ্টাব্দ | ৯ আশ্বিন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
রোহিঙ্গা সংকটদিনে সড়কে রাতে জঙ্গলে  » «   ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে আপত্তি ঐশ্বরিয়ার  » «   কুলাউড়ায় ‘পাগলা হাতির’ আক্রমণে প্রাণ গেল মাহুতের  » «   রোহিঙ্গা সংকটফের বসছে নিরাপত্তা পরিষদ, আসতে পারে কঠোর চাপ  » «   আজ থেকে ত্রাণ বিতরণ করবে সেনাবাহিনী  » «   স্বামীর পরকীয়া দেখে ফেলায় স্ত্রীর সঙ্গে অদ্ভুত কান্ড!  » «   চীনের পাতা ফাঁদে মিয়ানমার  » «   আইটেম গানে নাচবেন শাকিব-মিম  » «   মডেল থেকে জঙ্গি : ল্যাপটপে চাঞ্চল্যকর তথ্য!  » «   ‘উত্তর কোরিয়ার পাগলকে শিক্ষা দিতে যাচ্ছি’  » «   বাড্ডায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১, দগ্ধ ২  » «   সাপাহারে দূর্গা পূজার প্রতিমা তৈরীর কাজ শেষ: বাঁকী প্রতিমার সাজ সজ্জা  » «   দিনাজপুরে বজ্রপাতে ৮ জনের মৃত্যু  » «   এবার ধর্ষণের অভিযোগে ফলপ্রিয় ‘ফলাহারি বাবা’ গ্রেফতার  » «   ‘হালে পানি না পেয়ে প্রধানমন্ত্রীর নিখুঁত প্রচেষ্টায় খুঁত ধরার অপচেষ্টা বিএনপির’  » «  

কোরবানির বাজারকুমিল্লায় ৩ শতাধিক হাটে ৩ লক্ষাধিক গরু



আসন্ন ঈদুল আযহা উপলক্ষে কুমিল্লায় এ বছর ৩৬৩টি স্থানে গরুর হাট বসবে। এতে ৭৭টি মেডিক্যাল টিম কাজ করবে। অন্যদিকে এ বছর ১৭ উপজেলার পশুর হাটে ৩ লাখ ৪৬ হাজার ২৬৬টি গরু তোলার প্রস্তুতি নিয়েছে। এর মধ্যে ২ লাখ ৪০ হাজার ১৮১টি ষাঁড়, ১৬৭টি মহিষ, ৬৩ হাজার ৭৭৯ বলদ ও ২৭ হাজার ৪০৮টি গাভীসহ ও ৩ লক্ষ ৪৬ হাজার ২৬৬টি পশু কোরবানীর জন্য বিক্রি করতে হাটে তোলা হবে। এছাড়াও খাসি, ছাগল ও ভেড়া বিক্রির জন্য বাজারে আসবে ৪৪ হাজার ১৬৪টি।

সূত্র জানায়, কুমিল্লার ১৭টি উপজেলায় প্রায় ৩৬৩টি গরুর হাটে আসন্ন ঈদ-উল- আজহা উপলক্ষে গরু ও ছাগলের চাহিদা রয়েছে তিন লাখ ৪৭ হাজার ২৯৭টি। চাহিদার বিপরীতে মজুদ আছে ৩ লাখ ৪৬ হাজার ২৬৬টি। জেলার মধ্যে বেশি কৃষক ও খামারি রয়েছে হোমনা উপজেলায় নয় হাজার ৫৩৭ জন, গরু-ছাগলের সংখ্যা ২৭ হাজার ৭৭৫টি। খামারি কম মনোহরগঞ্জ উপজেলায় দুই হাজার ৭০ জন। গরু-ছাগল কম রয়েছে লাকসাম উপজেলায় ১২ হাজার ১৯৯টি। কুমিল্লার খামারগুলোতে ২০ হাজার থেকে শুরু করে তিন লাখ টাকারও বেশি দামের গরু রয়েছে। দেশি জাতের সাথে রয়েছে হরিয়ানা, সিন্ধি ও নেপালি জাতের গরু।

কুমিল্লার প্রাণী সম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবারে হৃষ্টপুষ্টকরণ প্রক্রিয়ার আওতায় কুমিল্লার ১৭ উপজেলায় এক লাখ ৯৩ হাজার ৯৫২টি ষাঁড়, ৭৪ হাজার ৩২০টি বলদ, ২৭৬ হাজার ৬৮২টি গাভীসহ দুই লাখ ৯৪ হাজার ৯৫৪টি পশু কুরবানির জন্য বিক্রি করতে হাটে তোলা হবে। এছাড়াও হাটে ছাগল, ভেড়া স্থান পাবে ৫১ হাজার ১২৯টি। কুরবানিকে সামনে রেখে হৃষ্টপুষ্টকরণ প্রক্রিয়ায় এবারে গবাদীপশু লালনে এগিয়ে রয়েছে মুরাদনগর, হোমনা, বরুড়া, নাঙ্গলকোট, দাউদকান্দি, চৌদ্দগ্রাম, দেবিদ্বার, মেঘনা, সদর দক্ষিণ, বুড়িচং, আদর্শ সদর ও তিতাস উপজেলা। কুরবানির হাটে বিক্রির উদ্দেশ্যে কুমিল্লার যেসব খামারি, খন্ডকালিন ও পারিবারিকভাবে এসব ষাঁড়, বলদ, গাভী, ছাগল, ভেড়া পালন করেছেন তাদেরকে হৃষ্টপুষ্ট করার বিষয়ে পরামর্শসহ সবধরণের সহযোগিতা দিয়েছেন কুমিল্লা জেলা প্রাণী সম্পদ অফিসের ও উপজেলাসহ মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা কর্মচারিরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভয়ঙ্কর বিষাক্ত খেলায় মেতে উঠেছেন একশ্রেণীর অতিলোভী ব্যবসায়ী। ঈদের দুই থেকে তিন মাস আগে অল্প টাকায় গরু কিনে তারা বিষাক্ত হরমোন, ইনজেকশন ও রাসায়নিক ওষুধ প্রয়োগ করে মোটাতাজা করছেন। স্থানীয় খামারিরা আশংঙ্কা করে বলেন, ভারত থেকে গরু আসলে আমরা খামারিদের ব্যবসা পথে বসার অবস্থা হবে। কারণ গরুর খাবারের দাম বেড়েছে। প্রতি বছরের মত এবারো ভারতীয় গরু আসলে আমরা কাঙ্খিত মূল্য পাবো না। এ সব কারণেই লাভ না হওয়ার শংঙ্কায় দিন কাঁটছে স্থানীয় খামারিদের। বুধবার কুমিল্লা সিভিল সার্জন ডাঃ মুজিবুর রহমান বলেন, গ্রামের পল্লী চিকিৎসক ও বিভিন্ন ঔষধ কোম্পানির প্ররোচনায় পড়ে গ্রামের সাধারণ মানুষ বিষাক্ত রাসায়নিকের হাই ডোজ প্রয়োগ করে গরুকে মোটাতাজাকরন করছেন। ফলে এসব গরুর মাংস খেলে লিভার, কিডনি, হৃদযন্ত্র ও মস্তিষ্কের ক্ষতি মারাত্মক আকার ধারণ করে। কমে যায় শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। সুস্থদেহেও ডায়াবেটিকস এর আশঙ্কা রয়েছে, আর যাদের ডায়াবেটিক আগ থেকেই রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে মৃত্যু ঝুঁকি অনেকাংশেই বেশি। তাই অবশ্যই সকলকে এসব অপরাধমূলক কাজ থেকে নিজেদের বিরত থাকতে হবে। এ ব্যাপারে নিজ উদ্যোগে সবাইকে সচেতন রাখতে হবে। রাসায়নিক ওষুধ প্রয়োগে মোটাতাজাকরন গরুর গোস্ত শিশু স্বাস্থের জন্যও মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ বলেও সিভিল সার্জন বলেন।

কুমিল্লার প্রাণী সম্পদ অফিসের কর্মকর্তা ডা. আবদুল মান্নান বলেন,‘কুমিল্লা অঞ্চলের হৃষ্টপুষ্ট প্রায় তিন লাখ গবাদীপশু এবারে কোরবানির হাটে উঠবে। এসব গবাদীপশুর অধিকাংশই শংকর জাতের। এছাড়া মৌসুমী ব্যবসায়িরাও দেশের অন্যান্য জায়গা থেকে কুমিল্লার হাটগুলোতে প্রচুর গরু তুলবে। তাই আশা করা হচ্ছে, হাটে এবার গরুর সঙ্কট দেখা দেবে না। আরেকটি বিষয়ে এবার আমরা বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি, এটি হচ্ছে হাটে যাতে কোন অবস্থাতেই রোগা, জীর্ণশীর্ণ এবং নিষিদ্ধ পাম্প ট্যাবলেট, স্টেরয়েড ও ডেক্সামিথাসনের মতো ভয়ঙ্কর ক্ষতিকারক ওষুধ, ইনজেকশন প্রয়োগের মাধ্যমে মোটা-তাজা করা নাদুস-নুদুস গরু বিক্রি করতে না পারে। এধরণের গরু বিক্রিরোধে হাটগুলোতে ৬৮টি ভেটেনারী মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিক নিয়োজিত থাকবে।’

তিনি আরো বলেন, কোরবানীর হাটে বিক্রিয়ের উদ্দেশ্যে পারিবারিক খামারি বা মৌসুমী খামারিরা বানিজ্যিকভাবে গরু লালন পালন করছেন তাদেরকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও গরু রিষ্টপুষ্ট করার বিষয়ে সাবির্ক সহযোগীতা আমরা করছি। ডা. আবদুল মান্নান আরো বলেন, গরু মোটাতাজাকরণ একটি নিয়মিত ও প্রচলিত পদ্ধতি। এটি একটি স্বল্পমেয়াদি লাভজনক পদ্ধতি। প্রাকৃতিক এ পদ্ধতি যুগ যুগ ধরে প্রচলিত। এটি বৈজ্ঞানিক ও আধুনিক পদ্ধতি এবং অল্প সময়ে গরু মোটাতাজা যায়। এ ক্ষেত্রে আমরাও সহযোগীতা করে থাকি।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: