শনিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ ফাল্গুন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩৫ করার খবরটি ‘টোটালি ফলস’  » «   শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে: খাদ্যমন্ত্রী  » «   জামায়াত নতুন নামে পুরনো চরিত্রে ফিরে আসে কিনা তা ভাবনার বিষয়  » «   সুস্থ থাকলে শেখ হাসিনার বিকল্প দরকার নেই  » «   নন্দলালের ভূমিকায় অবতীর্ণ হবেন না: ইসি রফিকুল  » «   এমপি হিসেবে শপথ নিলেন সৈয়দ আশরাফের বোন ডা. জাকিয়া  » «   রোহিঙ্গাদের নৃশংসতার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান মিয়ানমার সেনাপ্রধানের!  » «   যেসব শর্তে আত্মসমর্পণ করছেন ১০২ ইয়াবা ব্যবসায়ী  » «   নাসা আ্যপস চ্যালেঞ্জে বিশ্বসেরা শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়  » «   বাংলা একাডেমিতে আল মাহমুদের মরদেহ, শ্রদ্ধা নিবেদন  » «   আখেরি মোনাজাতের মধ্যদিয়ে জোবায়ের অনুসারীদের ইজতেমা শেষ  » «   যেভাবে ভারতীয় সেনাবহরে হামলা চালায় জঙ্গিরা  » «   রোহিঙ্গা নিপীড়ন তদন্তে মার্চে বাংলাদেশ আসছে আইসিসি প্রতিনিধিদল  » «   ব্যাটিং ব্যর্থতায় সিরিজ হার বাংলাদেশের  » «   যুক্তরাষ্ট্রে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করলেন ট্রাম্প  » «  

কেনিয়ার নারীবেশী পুরুষদের গোপন জীবন



অনলাইন ডেস্ক:: কেনিয়ায় সমকাম বিরোধী আইন অত্যন্ত কড়া।আর সে কারণে সমকামীদের যথেষ্ট কঠিন পরিস্থিতিতেই থাকতে হয়। সামাজিকভাবেও মাঝেমধ্যেই নিগ্রহের মধ্য পড়তে হয় তাদের।কিন্তু এর মধ্যেই দেশটিতে এমন অনেকে আছেন যারা পুরুষ হয়েও নারীর রূপ ধারণ করে পুরুষদেরই আনন্দ দিতে পছন্দ করেন। গোপনে নানা আয়োজন হয়ে থাকে তাদের নিয়ে।

একজন বলছিলেন, আমি আসলেই কেনিয়ায় এই ছদ্মবেশী নারীদের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। আমরা সেখানে গিয়েছি এবং তারাও জানে যে আমরা আছি কিন্তু সমস্যা হলো তাদের স্বীকার করা হয়না।

এখানে যাদের কথা বলা হচ্ছে তারা হলে ড্র্যাগ কুইন অর্থাৎ সমকামী পুরুষ। এসব ব্যক্তিরা নারীদের পোশাক পরিধান করেন। কেনিয়ায় এমন অনেক তরুণ সমকামী যুবককে নিয়ে গোপনে পার্টির আয়োজন করা হয়।

তারা সেখানে মেয়েদের মতো করে হাঁটেন বা তাদের কার্যক্রম হয় অনেকটা মেয়েদের মতো। দেশটিতে ভিন্ন লিঙ্গের পোশাক পরিধান অবৈধ নয় কিন্তু সেখানে রয়েছে সমকাম বিরোধী কড়া আইন।সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনেকেই এজন্য শাস্তি পেয়েছেন। অনেকের ১৪ বছর পর্যন্ত জেল হয়েছে।

কেনিয়ায় বেশিরভাগ মানুষ সমকাম বিরোধী। এমনকি কেউ যদি বুঝতে পারে যে আপনি পুরুষ হয়ে নারীর পোশাক পড়েছেন তাহলে মারধরও করা হয়। কেউ হয়তো প্রশ্ন করবে তোমার বাবা মা নেই? যদি আপনি না বলেন তাহলে হুমকি শুরু হবে এবং আপনাকে ছেড়ে দেয়ার জন্য শর্ত হিসেবে চাঁদাও চাইবে।
এদের নিতান্তই যৌনকর্মী মনে করেন কেনিয়ার বহু মানুষ।

যেসব সমকামী পুরুষরা এটি করছেন তারা মনে করেন এটি তাদের মেধার ও বৈচিত্র্যতার বহিঃপ্রকাশ। যদিও পরিবার ও সমাজে তাদের সহজভাবে নেয়া হয়না।

আরেকজন তরুণ বলছিলেন, ‘আমার পরিবার সম্পর্কে আমি কি বলতে পরি। আসলে তারা এখনো কিছুই জানেনা। আমি এমনভাবে হঁটতে ভালোবাসি যা থেকে আমি অনুভব করি- হ্যাঁ, এটাই আমি। আর আমি যেখানে যাই লোকজন পছন্দ করে বলে যে তুমি যেটা সেটাকেই আমরা সম্মান করি। তুমি এটা বেছে নাওনি, বরং এভাবেই জন্ম নিয়েছো।’তবে বাস্তবতা হলো দেশটিতে এ ধরনের মানুষের চরম বৈষম্য নিগ্রহের শিকার হয়ে থাকে।

এরকম একজন নারীরূপী পুরুষ বলেন, ‘এটা বিবেচ্য নয় যে আমরা কারা, আমরা মানুষ। আর পোশাক দিয়ে আপনি কাউকে সংজ্ঞায়িত করতে পারেননা। আমরা চাই যে সাধারণ মানুষ এমনভাবে দেখুক যে এরা একটি ভিন্ন এবং বিশেষভাবেই জন্মগ্রহণ করেছে। আর সেজন্যই আমাদের প্রতি বৈষম্য বন্ধ হওয়া উচিত।’

তারা মনে করেন যৌন আচরণ দ্বারাও কাউকে চিহ্নিত করা উচিত নয়। তাদের বিশ্বাস এটি নিশ্চিত হলেই মানুষ হিসেবে তাদের অধিকার যেমন প্রতিষ্ঠিত হবে তেমনি দুর হবে সামাজিক সমস্যাগুলোও।

বিবিসি বাংলা

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: