শুক্রবার, ২২ মার্চ ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ চৈত্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
সিলেটে নির্মাণ হতে যাচ্ছে স্মৃতিসৌধ,পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ডিও লেটার  » «   সুখী দেশের তালিকায় বাংলাদেশের ১০ ধাপ অবনতি  » «   জাফর ইকবালকে হত্যাচেষ্টা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু  » «   আইডিয়া’র ২৫ বছর পূর্তি উৎসবে র‍্যালি, আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান  » «   উন্নয়ন করতে গিয়ে জীবন ও জীবিকার যেন ক্ষতি না হয় : প্রধানমন্ত্রী  » «   আজ দিন রাত সমান, আকাশে থাকবে সুপারমুন  » «   সহকর্মীর হাতে খুন হলেন তিন ভারতীয় সেনা  » «   মসজিদে হামলাধারী ব্রেন্টন আইএস থেকে ভিন্ন কিছু নয়: এরদোগান  » «   সিলেটে মেশিনে আদায় হবে যানবাহনের মামলার জরিমানা  » «   গ্যাসের দাম ১৩২% বৃদ্ধির প্রস্তাব হাস্যকর  » «   মেয়রের আশ্বাসে ২৮ মার্চ পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত  » «   দরিদ্র বলে এদেশে কিছু থাকবে না : প্রধানমন্ত্রী  » «   এক সপ্তাহের মধ্যে আবরারের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ  » «   গুলিবিদ্ধ বাংলাদেশি ওমরের মুখে মসজিদে হামলার লোমহর্ষক বর্ননা…  » «   আজ প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী,আ. লীগের শ্রদ্ধা  » «  

কৃষকের প্রতি সম্মান জানান : প্রধানমন্ত্রী



full_1418861259_1461077535নিউজ ডেস্ক: কৃষকের প্রতি সম্মান জানানোর আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, অনেকেই কৃষকের ঘরে জন্ম নিয়ে পড়াশোনা করে আর কৃষক হতে চায় না। এমনকি বাবা কৃষক এমন পরিচয় দিতেও স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। আমাদের সমাজের জন্য এটি কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। কৃষকের প্রতি যথাযথ সম্মান জানাতে পারলেই সমাজের উন্নয়ন ত্বরানিত হবে।

কৃষি কাজকে কেউ যাতে খাটো করে দেখতে না পারে, সে লক্ষ্যে কৃষিতে ব্যবহারিক শিক্ষা গ্রহণকারী শিক্ষার্থীদেরকে অতিরিক্ত নম্বর প্রদানের পরামর্শ দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরকে কৃষিতে ব্যবহারিক শিক্ষা দেয়ার জন্য ক্ষেত-খামারে নিয়ে যেতে হবে এবং প্রয়োজনে তাদেরকে অতিরিক্ত ব্যবহারিক নম্বর দিতে হবে যাতে কৃষি শিক্ষাকে কেউ খাটো করে দেখতে না পারে।

শেখ হাসিনা বলেন, শিক্ষার্থীদেরকে জানতে হবে, কি ভাবে কৃষি পণ্য উৎপাদিত হয়। তারা সব সময়ে ঘরে বসে কৃষি পণ্য ভোগ করবে অথচ এ সকল কৃষি পণ্য কোথা থেকে আসে, সে সম্পর্কে তারা কিছুই জানবে না, তা তো হতে পারে না।

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা আজ বিকেলে রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে বাংলাদেশ কৃষক লীগের ৪৪তম প্রতিষ্ঠাবাষির্কী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ কৃষক লীগের সভাপতি মোতাহার হোসেন মোল্লার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, যুগ্ম-সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ এবং বাংলাদেশ কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক রেজা।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বঙ্গবন্ধু এবং জাতীয় চার নেতার ও বিএনপি জামায়াত জোট সরকারের সময়ে সারের জন্য আন্দোলনে নিহত কৃষকদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।
এর আগে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কবুতর ও বেলুন উড়িয়ে কৃষক লীগের ৪৪তম প্রতিষ্ঠা বাষির্কীর উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

খাদ্য উৎপাদনের মাধ্যমে জনগণকে ক্ষুধা মুক্তকারী কৃষকদের সর্বোচ্চ সম্মান প্রদানের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দরিদ্র কৃষকদের সন্তানরা অনেক সময় তাদের বাবার পরিচয় দিতে লজ্জা বোধ করে।

তিনি বলেন, মাঠে কাজ করায় কৃষকদের সন্তানরা অনেক সময় শিক্ষা গ্রহণ ও বড় চাকরি পাওয়ার কথা ভুলে যায়। তিনি আরো বলেন, ‘তাদের পিতার কর্দমাক্ত পা ছুুঁয়ে সালাম করতে তাদের লজ্জা পাওয়া উচিত নয়, বরং খাদ্য উৎপাদন করে জনগণকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য তাদের পিতাকে সর্বোচ্চ সম্মান প্রদান করা উচিত।’
শেখ হাসিনা বলেন, ক্ষুধার ভোগান্তি কত বড় এবং কৃষকরা তা কিভাবে দূর করে জনগণ তা জানে। তাই তাদের সর্বোচ্চ স্থান দিতে হবে।

কৃষি খাতের প্রতি যথাযথ মনোযোগ না দেয়ার জন্য বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, সে সময় কৃষকদের ভর্তুকি ও সহায়তা দেয়া হয়নি। তারা বিআইডিসি’কে প্রায় বন্ধ করে দিয়েছিলো। কৃষির উন্নয়নে তাদের কোনো পরিকল্পনা ছিলো না। কারণ, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে তারা বাণিজ্য করে রাতারাতি সম্পদশালী হতে পারবে না।

প্রধানমন্ত্রী ১৯৯৫ সালে বিএনপি শাসনামলে সারসহ কৃষি পণ্য বিতরণে ব্যাপক দুর্নীতির প্রতিবাদকালে ১৮ জন কৃষকের জীবনদানের মর্মান্তিক ঘটনার কথা স্মরণ করেন।

তিনি বলেন, সার চাওয়ায় ১৮ জন কৃষককে হত্যা করা হয়। বিএনপি শাসনামলে ন্যায্য মজুরি দাবি করায় রমজান মাসে ১৭ জন শ্রমিককে খুন করা হয়। কৃষকদের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হয়।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে কৃষক ও কৃষিবান্ধব সরকার হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, তাঁর সরকার ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে খাদ্য উৎপাদনে একটি বহুমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করে। শেখ হাসিনা বলেন, ‘সে সময় আমরা খাদ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করি। কিন্তু পরবর্তী বিএনপি-জামায়াত সরকার বাংলাদেশকে আবার খাদ্য ঘাটতির দেশে পরিণত করে।’

তিনি বলেন, কৃষক ও কৃষি খাতের ব্যাপক উন্নয়ন নিশ্চিতকরণে আওয়ামী লীগ সরকার ভর্তুকি মূল্যে সার, বীজ ও যন্ত্রপাতি প্রদানের মাধ্যমে গত ৭ বছরে বিভিন্ন বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

তিনি বলেন, ‘দেশে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব।’

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: