বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
বাংলাদেশে আরো সৌদি বিনিয়োগ চান প্রধানমন্ত্রী  » «   কানাডায় প্রকাশ্যে গাঁজা বিক্রি শুরু, ক্রেতাদের ভিড়  » «   ৩৮৭ কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার হবে সিলেট ওসমানী বিমানবন্দর  » «   ৪০ ঘণ্টা পর মানারত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী দুই নারী জঙ্গির আত্মসমর্পণ  » «   পূজায় বিজিবিকে মিষ্টি পাঠিয়েছে বিএসএফ  » «   উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ‘ট্রেনে কাটা’ পড়ে মৃত্যু  » «   আত্মসমর্পণের আহ্বানে সাড়া দিচ্ছে না জঙ্গিরা  » «   শিশু জয়নাব ধর্ষণ-হত্যা : ইমরানের ফাঁসি কার্যকর  » «   ‘বেত ও বেলুন দিয়ে মারে,পরে নখে সুই ঢুকিয়ে মাথার চুল কেটে দেয়’  » «   বউকে বৃষ্টিতে ফেলে ছাতা মাথায় ট্রাম্প!  » «   ঋণের পরিবর্তে শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব ব্যাংক ম্যানেজারের,অতঃপর..  » «   খাশোগি নিখোঁজ, বেনিফিট অব ডাউটের সুবিধা পাচ্ছে সৌদি  » «   নিরাপদ খাদ্যে আমরা অনেক পিছিয়ে আছি: ক্যাব সভাপতি  » «   শাবিপ্রবি’র ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ  » «   আত্মসমর্পণ না করলে ‘নিলুফা ভিলায়’ অভিযান আজ  » «  

কুল চাষে ভাগ্য বদল



বাউকুল বাগানে সুজন চাকমা

চাইথোয়াই মারমা, খাগড়াছড়ি :: মিষ্টি স্বাদে টসটসে বাউকুলের চাষ এখন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা জুড়ে। এ বছর বাম্পার ফলন হওয়ায় সাজেকের অর্ধ-শতাধিক আদিবাসী পরিবারের ভাগ্য বদলে গেছে বাইকুল চাষে।

পাহাড়ের উঁচু নিচু জমিতে এবছর ব্যাপকহারে বাউকুল উৎপাদন হয়েছে।

এসব চাষীদের সার্বক্ষনিক দেখভাল করছেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষনা ইনস্টিটিউট ও পাহাড়ী কৃষি গবেষনা খাগড়াছড়ির কেন্দ্র ।

মঙ্গলবার (২৪ জানুয়ারি) রাঙামাটির সাজেকের বাঘাইহাট ডিপু পাড়ার সুজন চাকমার বাউকুল বাগানে গিয়ে দেখা গেছে ৫থেকে ১০ফুট উঁচু গাছে ঝুলছে পরিপুষ্ট বাউকুল। সবুজ-হালকা বাদামী রংয়ের এসব বাউকুলের ভারে ডাল মাটি ছুঁই ছুঁই।

সুজন চাকমার ৮০শতাংশ জায়গাজুড়ে ১৮৫টি বাউকুল গাছ রয়েছে। সবক’টি গাছেই ফলন এসেছে। বড় আকারের এই বাউকুল’র একেকটির ওজন ৩০থেকে ৫০গ্রাম। স্বাদেও বেশ মিষ্টি।

শুধু সুজন চাকমা নন, সাজকের ডিপু পাড়া, গুচ্ছ গ্রাম নোয়াপাড়া, গোলকাকমা ছড়া, মাচালং এ্যাগোজ্যাছড়ি এলাকায় তাঁর মতো আরও অর্ধ-শতাধিক বাউকুলচাষী উৎপাদন রয়েছেন। এ বছর এই এলাকায় বাউকুলের ফলন যেমন বেশি হয়েছে, তেমনি ভালো দামও পাওয়া যাচ্ছে। এই মৌসুমে একেকজন চাষী পঞ্চাশ হাজার থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত বাউকুল বিক্রি করেছেন।

সুজন চাকমা সিটিজিনিউজকে জানান, ২০১৪সালে খাগড়াছড়ির এক নার্সারী থেকে পঞ্চগড়ের বাউকুলবীজ নিয়ে আসেন। বলেন, ‘৮০শতাংশ জায়গায় আমি ১৮৫টি চাড়া রোপন করি। ২০১৫সাল থেকে বাগানে ফল আসা শুরু হয়। প্রথম বছরেই বাগান থেকে ২৫থেকে ৩০হাজার টাকার মত বাউকুল বিক্রি করেছি। আর এই বাগান করতে প্রথমে আমার ১৫হাজার টাকা খরচ হয়েছে’।

ইতোমধ্যে মাত্র অর্ধেক বাউকুল বিক্রি করে আয় হয়েছে ১লাখ ৭হাজার টাকা। প্রতি কেজি বাউকুল প্রথমে ৮০টাকা ও এখন ৬০টাকা করে বিক্রি করেছি।

খাগড়াছড়ির বাউকুল চট্রগ্রাম, কুমিল্লা, রাজধানী ঢাকাতেও যাচ্ছে । সুজন চাকমার মত ডিপু পাড়ার শান্তিময় চাকমা, মিলন কার্বারী, খোকন চাকমা তাদের বাউকুল চাষে অভূতপূর্বক সাফল্য হয়েছে।

কম পুজিতে লাভ বেশি হওয়ায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে বাউকুল চাষ। বেশি লাভের আশায় জুম চাষ বাদ দিয়ে বাউকুল চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে পাহাড়ি সাজেক অঞ্চলের সাধারন কৃষকরা।

সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নেলশন চাকমা সিটিজিনিউজকে বলেন, সাজেকে কয়েক বছর ধরে বাউকুল ফলছে। প্রতিবছর ফলন বেড়েই চলছে। এলাকায় মিশ্র ফলজ বাগানেরও প্রয়োজন রয়েছে সরকারি সাহায্য পেলে কৃষকেরা অর্থনৈতিক ভাবে লাভবান হবে।

বাঘাইছড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আল ইমরান বলেন, উপজেলার ৫-৬ একর জমিতে বাউকুল চাষ হয়েছে। এর মধ্যে সাজেকে ৩-৪একর জমিতে কৃষকেরা আমাদের কৃষি পরামর্শ ক্রমে এই চাষ করে। উপজেলার সাজেকেই প্রথম বাউকুল চাষ শুরু হয় এবং সেখানের আবহাওয়া ও মাটি উপযোগী হওয়ায় এর ফলন বেশী হচ্ছে।

 

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: