সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
নির্বাচনে রোহিঙ্গাদের সম্পৃক্ততা প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ইসির নির্দেশনা  » «   চিকিৎসা বিষয়ে খালেদার রিটের আদেশ আজ  » «   তারেক রহমান মনোনয়ন প্রত্যাশীদের কাছে যা জানতে চাচ্ছেন  » «   চ্যারিটেবল মামলায় দণ্ডের বিরুদ্ধে খালেদার আপিল  » «   সিরিয়ায় মার্কিন বিমান হামলা; শিশু ও নারীসহ নিহত ৪৩  » «   থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞা  » «   দু’দিনের মধ্যেই খাশোগি হত্যার পরিপূর্ণ তদন্ত রিপোর্ট : ট্রাম্প  » «   বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন তারেক  » «   বাড়িতে বাবার লাশ, পিএসসি পরীক্ষা দিতে গেল মেয়ে  » «   প্রবাসী স্ত্রীকে লাইভে রেখে সিলেটের স্বামীর আত্মহত্যা!  » «   খাশোগি হত্যা: যুক্তরাষ্ট্র-সৌদির নীল নকশা ও তুরস্কের উদ্দেশ্য  » «   দুই নম্বরি কেন ১০ নম্বরি হলেও ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে থাকবে: ড. কামাল  » «   বোরকার বিরুদ্ধে সৌদি নারীদের অভিনব প্রতিবাদ  » «   আজ থেকে শুরু হচ্ছে প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী সমাপনী পরীক্ষা  » «   সিডরে নিখোঁজ শহিদুল বাড়ি ফিরলেন ১১ বছর পর!  » «  

কুরবানির গোশত অন্য ধর্মাবলম্বীকে দেওয়া যাবে?



ইসলাম ডেস্ক::ঈদুল আযহা বা ঈদুল আজহা ইসলাম ধর্মাবলম্বিদের সবচেয়ে বড় দুটো ধর্মীয় উৎসবের একটি। বাংলাদেশে এই উৎসবটি কুরবানির ঈদ নামে পরিচিত। ঈদুল আযহা মূলত আরবী বাক্যাংশ। এর অর্থ হলো ত্যাগের উৎসব। আসলে এটির মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে ত্যাগ করা। এ দিনটিতে মুসলমানেরা তাদের সাধ্যমত ধর্মীয় নিয়মানুযায়ী উট, গরু, দুম্বা কিংবা ছাগল কোরবানি বা জবাই দেয়। কুরবানি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত।

হাদিস শরিফে এ ইবাদতের প্রতি উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজরত ফাতেমা (রা.) কে তার কুরবানির নিকট উপস্থিত থাকতে বলেন এবং ইরশাদ করেন, এই কুরবানির প্রথম রক্তবিন্দু প্রবাহিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহ তাআলা তোমার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসূল্লাহ- এটা কি শুধু আহলেবায়তের জন্য, নাকি সকল মুসলিমের জন্য? উত্তরে নবীজী বললেন, এই ফজিলত সকল মুসলিমের জন্য। (মুসনাদে বাযযার ২/১৫৪)

কুরবানির গোশত বন্টন

মাসআলা: শরিকে কুরবানি করলে ওজন করে গোশত বন্টন করতে হবে। অনুমান করে ভাগ করা জায়েজ নয়।(আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩১৭;কাযীখান ৩/৩৫১)

মাসআলা: কুরবানির গোশতের এক তৃতীয়াংশ গরীব-মিসকিনকে এবং এক তৃতীয়াংশ আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীকে দেওয়া উত্তম।(ফাতওয়ায়ে আলমগীরী ৫/৩০০)

পশুর শরীরের কোনো অংশ বিক্রি করা

মাসআলা: কুরবানির গোশত, চর্বি ও চামড়া ইত্যাদি বিক্রি করা জায়েজ নয়। বিক্রি করলে পূর্ণমূল্য সদকা করে দিতে হবে।(ফাতওয়ায়ে আলমগীরী ৫/৩০১)

জবাইকারী বা কসাইকে গোশত দেওয়া

মাসআলা: জবাইকারী, কসাই বা কাজে সহযোগিতাকারীকে চামড়া, গোশত বা কুরবানির পশুর কোনো কিছু পারিশ্রমিক হিসেবে দেওয়া জায়েজ হবে না। অবশ্য পূর্ণ পারিশ্রমিক দেওয়ার পর পূর্বচুক্তি ছাড়া হাদিয়া হিসেবে গোশত বা অন্য কিছু দেওয়া যাবে।(ফাতওয়ায়ে আলমগীরী)

জবাই করার নিয়ম

মাসআলা: ধারালো অস্ত্র দিয়ে জবাই করা উত্তম এবং জবাইয়ের পর পশু নিস্তেজ হওয়ার আগে চামড়া খসানো বা অন্য কোনো অঙ্গ কাটা মাকরুহ। (বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৩)

কুরবানির গোশত বিধর্মীকে দেওয়া

মাসআলা: কুরবানির গোশত হিন্দু বা অন্য ধর্মাবলম্বীকে দেওয়া জায়েজ।(ফাতওয়ায়ে আলমগীরী ৫/৩০০)

নিজের কুরবানির গোশত খাওয়া

মাসআলা: কুরবানিদাতার নিজ কুরবানির গোশত খাওয়া মুস্তাহাব। (সুরা হজ্ব,আয়াত:২৮;মুসনাদে আহমদ, হাদিস:৯০৭৮)

ঋণ করে কুরবানি করা

মাসআলা: কুরবানি ওয়াজিব এমন ব্যক্তি যদি ঋণ করে কুরবানি করে, তাহলে তার ওয়াজিব আদায় হয়ে যাবে। তবে সুদের উপর ঋণ নিয়ে কুরবানি করা যাবে না। (ফাতওয়ায়ে আলমগীরী)

সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষে কুরবানি করা

মাসআলা: সামর্থ্যবান ব্যক্তির নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে কুরবারি করা উত্তম। এটি বড় সৌভাগ্যের বিষয়ও বটে। নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজরত আলী (রা.) কে তার পক্ষ থেকে কুরবানি করার ওসিয়্যত করেছিলেন। তাই তিনি প্রতি বছর নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকেও কুরবানি দিতেন। (আবু দাউদ শরীফ ২/২৯; তিরমিজি শরীফ ১/২৭৫; মিশকাত শরীফ ৩/৩০৯)

কুরবানির গোশত দিয়ে খানা শুরু করা

মাসআলা: ঈদুল আজহার দিন সর্বপ্রথম নিজ কুরবানির গোশত দিয়ে খানা খাওয়া সুন্নত। অর্থাৎ সকাল থেকে কিছু না খেয়ে প্রথমে কুরবানির গোশত খাওয়া। এই সুন্নত শুধু ১০ জিলহজের জন্য। ১১ বা ১২ তারিখের গোশত দিয়ে খানা শুরু করা সুন্নত নয়। (তিরমিজি শরীফ ১/১২০)

জবাইকারীকে পারিশ্রমিক দেওয়া

মাসআলা: কুরবানির পশু জবাই করে পারিশ্রমিক দেওয়া-নেওয়া জায়েজ। তবে কুরবানির পশুর কোনো কিছু পারিশ্রমিক হিসাবে দেওয়া যাবে না।(কিফায়াতুল মুফতী ৮/২৬৫)

কুরবানির পশুর বয়সসীমা

উট কমপক্ষে ৫ বছরের, গরু ও মহিষ কমপক্ষে ২ বছরের হতে হবে। আর ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা কমপক্ষে ১ বছরের হতে হবে। তবে ভেড়া ও দুম্বা যদি ১ বছরের কিছু কমও হয় এবং অবশ্যই ৬ মাসের বেশি হয়, কিন্তু এমন হৃষ্টপুষ্ট হয় যে, দেখতে ১ বছরের মতো মনে হয় তাহলে তা দ্বারাও কুরবানি করা জায়েয। ছাগলের ক্ষেত্রে ১ বছরের কম হলে কোনো অবস্থাতেই তা দ্বারা কুরবানি জায়েয হবে না।

নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, ‘তোমরা দুধের দাঁত ভেঙ্গে নতুন দাঁত উঠা (মুসিন্না) পশু ব্যতীত জবেহ কর না। তবে কষ্ট হলে ভেড়ার জাযআ তথা ছয়মাস বয়সের ভেড়া জবেহ করতে পার’। (ছহীহ মুসলিম)

ইসলামের বিভিন্ন বর্ণনা অনুযায়ী, মহান আল্লাহ তাআলা ইসলামের নবী হযরত ইব্রাহীম (আঃ) কে স্বপ্নে তার সবচেয়ে প্রিয় বস্তুটি কুরবানি করার নির্দেশ দেন। এই আদেশ অনুযায়ী হযরত ইব্রাহিম (আঃ) তার সবচেয়ে প্রিয় পুত্র ইসমাইলকে কুরবানি করার জন্য প্রস্তুত হলে স্রষ্টা তাকে তা করতে বাধা দেন এবং পুত্রের পরিবর্তে পশু কুরবানীর নির্দেশ দেন।

এই ঘটনাকে স্মরণ করে সারা বিশ্বের মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য প্রতি বছর এই দিবসটি পালন করে। হিজরি বর্ষপঞ্জি হিসাবে জিলহজ্জ্ব মাসের ১০ তারিখ থেকে শুরু করে ১২ তারিখ পর্যন্ত ৩ দিন ধরে ঈদুল আজহা চলে। হিজরি চান্দ্র বছরের গণনা অনুযায়ী ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আজহার মাঝে ২ মাস ১০ দিন ব্যবধান থাকে। দিনের হিসেবে যা সবোর্চ্চ ৭০ দিন হতে পারে।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: