বৃহস্পতিবার, ১৯ জুলাই ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
২৭ জুলাই খালেদার মুক্তি দাবিতে জাতিসংঘের সামনে বিক্ষোভ  » «   মৌসুমি বায়ু দুর্বল, বর্ষার বর্ষণ নেই  » «   সিলেটে দুর্ঘটনায় কলেজ ছাত্রের মৃত্যু  » «   হরিণাকুণ্ডুতে র‌্যাবের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ডাকাত সদস্য নিহত  » «   পুলিশের সোর্স মামুন মাদক ব্যবসায়ীর স্ত্রীকে নিয়ে উধাও  » «   ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা কিশোরি, সালিসে জরিমানার টাকা ভাগাভাগি!  » «   আইনমন্ত্রীর বাসায় প্রধানমন্ত্রী  » «   ‘এদেরকে নিয়েই মান্না সাহেব দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করিবেন’  » «   রাশিয়ায় বিশ্বকাপ দেখতে গিয়ে পুলিশের জালে বাংলাদেশী যুবক  » «   বিদেশ ও জেল থেকে আন্ডারওয়ার্ল্ড নিয়ন্ত্রণ করছে শীর্ষ সন্ত্রাসীরা  » «   বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত মনোনীত রবার্ট মিলার  » «   বেবী নাজনীন অসুস্থ, হাসপাতালে ভর্তি  » «   কোটা আন্দোলন: ছাত্রলীগের হুমকিতে ক্যাম্পাস ছাড়া চবি শিক্ষক  » «   ভেবেই ক্লাব বদল করেছেন রোনালদো  » «   ভারতে নিষিদ্ধ, অন্য দেশে পুরস্কৃত যেসব ছবি  » «  

কুমিল্লায় বর্ণিল আয়োজনে বাঙলা নববর্ষ উদযাপন



নিউজ ডেস্ক::বাঙালির জীবনে ঐতিহ্যের রঙ আর রূপ নিয়ে এলো পহেলা বৈশাখ। আবহমান বাংলার হাজার বছরের কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় বর্ণিল আয়োজনে বাঙালি বরণ করছে নতুন বাংলা নববর্ষ ২০২৫। বাংলা নববর্ষকে ঘিরে পুরনো দুঃখ, গ্লানিকে ভুলে নতুন বছরকে স্বাগত জানাচ্ছেন কুমিল্লার সবস্তরের মানুষ।

প্রতিবছরের মতো এবারও সরকারি-বেসরকারি নানা উদ্যোগে চলে বর্ষবরণ উৎসব। সকালে ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে শুরু হয় মঙ্গল শোভাযাত্রা। শনিবার (২৪ এপ্রিল) জেলা প্রশাসন আয়োজিত মঙ্গল শোভাযাত্রার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য ও মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা হাজী আ.ক.ম. বাহাউদ্দিন বাহার। এ সময় কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর, কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. শাহ আবিদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়ে জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। নানা রকমের মুখোশ, ঢোল, বাঁশি, ভুভুজেলাসহ হরেক রকমের বাদ্যযন্ত্র নিয়ে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার লোক শোভাযাত্রায় অংশ নেয়।

এসময় কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান মো. রুহুল আমিন ভূইয়া, ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ রতন কুমার সাহা, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের নববর্ষ উদযাপন পরিষদের আহবায়ক ও অজিত গুহ মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ হাসান ইমাম মজুমদার ফটিক, কুমিল্লা সাংস্কৃতিক জোটের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অ্যডভোকেট শহীদুল হক স্বপন, ঐতিহ্য কুমিল্লার পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম ইমরুল, সমন্বয়ক হালিম সৈকত, ধ্বনিচিত্র বিনির্মাণ পাঠশালার সভাপতি মো. আল-আমীন, চৌকস নাট্য সম্প্রদায়ের সভাপতি সালেহ উদ্দিন লাভলু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ওই শোভাযাত্রায় তরুণ-তরুণীসহ সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ প্রমাণ করে এ দেশের মানুষ অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী। মঙ্গল শোভাযাত্রায় সূর্য, বক-মাছ, হাতি, পাখি, সাইকেলে মা-শিশু, টেপা পুতুল, মহিষ, পাখি ও জেলে, বাঁশ, কাঠ ও বিভিন্ন রঙের কাগজ দিয়ে তৈরি মাছ, বক, টিয়া পাখি, হাতি, ষাঁড়। হাজারো মানুষ বিভিন্ন রঙে সেজে শোভাযাত্রায় অংশ নিচ্ছেন। শোভাযাত্রার দু’পাশে নিরাপত্তায় ছিল পুলিশ সদস্যরা। পেছনে র‌্যাব সদস্যরা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া প্রহরায় এবারের শোভাযাত্রা হয়।

শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণী, নারী-পুরুষ বয়সের ভেদাভেদ ভুলে সবাই শিশুসুলভ আচরণে পবিত্র মনমানসিকতায় মেতেছিল এ উৎসবে। মহানগরীর কান্দিরপড়, নগর উদ্যান, রাজগঞ্জ, মোগলটুলী, মনোহরপুর, ঝাউতলা, বাদুরতলা, লাকসাম রোড, ভিক্টোরিয়া কলেজ রোড, জিলা স্কুল রোড, সার্কিট হাউজ, ঈদগাহর আশ-পাশ সকল বয়সিদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে।

নববর্ষের এ আনন্দ শুরু হয় মঙ্গল শোভাযাত্রার মাধ্যমে। মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট কুমিল্লা শাখা ও অর্ন্তভুক্ত সংগঠন সমূহ, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ, কুমিল্লা সরকারি কলেজ, কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ, কুমিল্লা জিলা স্কুলসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিভিন্ন রাজনৈতিক-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী কুমিল্লা শাখা, শতরূপা সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন,যাত্রী-সাহিত্য-সাংস্কৃতিক সংগঠন, সংস্কৃতি সংসদ, ক্যান্ডেল লাইট মডেল একাডেমি, আর্ট নার্সিং কলেজ পরিবার পৃথক পৃথক ব্যানার নিয়ে মঙ্গল শোভা যাত্রায় অংশগ্রহণ করে।

মঙ্গল শোভাযাত্রার পরে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন সমূহ তাদের পূর্ব নির্ধারিত স্থানে বর্ষবরণ উদযাপনের লক্ষ্যে চলে যায় এবং অনুষ্ঠান শুরু করে।

জেলা প্রশাসন স্টেশনকাব প্রাঙ্গণে নববর্ষের অনুষ্ঠানমালা শুরু করে। ১ বৈশাখ এ জোট মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণের পর নগর উদ্যানের জামতলায় আয়োজন করে আবৃত্তি, সঙ্গীত ও নৃত্য প্রতিযোগিতার। প্রতিযোগিতার পর পর বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী সংগঠনগুলোকে পুরস্কার প্রদান করা হয়।

সাংস্কৃতিক পর্বে অংশগ্রহণ করে উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী, খেলাঘর, আবৃত্তি সংসদ, যাত্রী সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, শতরূপা সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংসদ, সাংস্কৃতিক সংসদ, হৃদিমা সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন, ধ্বনি আবৃত্তি পাঠশালাসহ বেশকিছু সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন। একক সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পী একরামুল হক, হাসিনা বেগম, সুলক্ষ্মনা চন্দ্রা। জেলা প্রশাসন আয়োজিত দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠানমালার মধ্যে ছিল জেলা শিল্পকলা একাডেমী ও জেলা শিশু একাডেমির আয়োজনে স্টেশনকাব প্রাঙ্গণে গ্রামীণ মেলা ও শিশু আনন্দ মেলার সমাপনী এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

অপরদিকে কুমিল্লা জেলা প্রশাসন পহেলা বৈশাখে ইলিশ মাছ খাওয়া থেকে নিজেদের বিরত রাখার ঘোষণা দিয়ে ছিল। তাই এবারের পহেলা বৈশাখে কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পান্তা-মরিচ-ভর্তা-ভাজি দিয়ে অতিথি আপ্যায়ন করা হয়েছে। বর্ষবরণে জেলার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কুমিল্লা পুলিশ সুপার মো. শাহ আবিদ হোসেন।

এদিকে ককসিটে ঘোড়ার ছবি, বাঘের মুখোশ, সমৃদ্ধির প্রতীক হাতি ও টেপাপুতুল, আল্পনা, দেয়ালিকা, পান্তা ভাত-মাছ, মঙ্গল শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে নববর্ষ উদযাপিত হয়েছে।
শনিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে মঙ্গল শোভাযাত্রার মাধ্যমে শুরু হয় নববর্ষ উদযাপনের কার্যক্রম। বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক দিয়ে শোভাযাত্রাটি বের হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্নময়নামতি যাদুঘর, শালবন বিহার হয়ে বৈশাখী চত্ত্বরে এসে শেষ হয়। শোভাযাত্রাটির নেতৃত্ব দেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চেীধুরী। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সবাইকে নিয়ে শোভাযাত্রার সামনে পেছনে ঢাকের তালে তালে চলে বাঁশি আর নৃত্য। আবার কারও হাতে ছিল বাহারি রঙের মুখোশ।

এদিকে শোভাযাত্রার পর উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ভলিবল মাঠে লোকজ খেলাধুলার অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন। এছাড়াও উপাচার্য বৈশাখী চত্ত্বরে বিভিন্ন বিভাগ ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের স্টলগুলো ঘুরে দেখেন। এরপর বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকদের নিয়ে বাংলা বিভাগে যান এবং সেখানে বাংলা বিভাগের দেয়ালিকার মোরক উন্মোচন করেন ও পান্তা ভাত-মাছ খাওয়ায় যোগ দেন। দুপুর ২টা থেকে বৈশাখী চত্ত্বরে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক সংগঠন অনুপ্রাস কণ্ঠ চর্চা কেন্দ্র, প্রতিবর্তন, প্লাটফর্ম, থিয়েটারসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: