শনিবার, ২৩ জুন ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৯ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
যমুনা নদীতে বিলীন হচ্ছে বসত বাড়ি, দেখার কেউ নেই!  » «   নতুন চলচ্চিত্রের জন্য ইরানে অনন্ত  » «   নেইমারের জার্সি গায়ে অপু ও জয়  » «   সিসিক নির্বাচন: আ.লীগ মেয়র প্রার্থী হলেন কামরান  » «   বাসায় ঢুকে অভিনেত্রীকে শ্লীলতাহানি!  » «   আর্জেন্টিনার হার, বেরিয়ে এলো বিস্ফোরক তথ্য!  » «   দুর্ঘটনা সড়কে মৃত্যুর মিছিল, নিহত ৩০, আহত ৪৭  » «   ‘নির্বাচনে জয়ী হতে গিয়ে যেন দলের বদনাম না হয়’  » «   হাসপাতালে পরীমনি  » «   আর্জেন্টিনার হার, ‘সুইসাইড নোট’ লিখে নিখোঁজ মেসি ভক্ত  » «   সাপাহারে ট্রাক ও ভ্যানের মুখো-মুখি সংঘর্ষে নিহত-২  » «   দুর্ঘটনার দিন ঢাকাতেই ছিলাম না’  » «   ভক্তদের হতাশ করেনি ব্রাজিল : অতিরিক্ত সময়ই বিশ্বকাপে টিকিয়ে রাখল নেইমারদের  » «   হাসপাতালের এক্সরে রুমে রোগীর মাকে ধর্ষণের চেষ্টা!  » «   গজারী বনে যুবতীর অর্ধগলিত লাশ  » «  

কুমিল্লায় পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যু



কুমিল্লায় বাড়ছে পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর সংখ্যা। অন্য যে কোনো কারণে শিশু মৃত্যুর চেয়ে পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি। এসব দুর্ঘটনা ঘটে মূলত পরিবারের অসচেতনতার কারণে। তবে পাঁচ থেকে ১০ বছর বয়সীদের মৃত্যু হয় সাঁতার না জানার কারণে। হঠাৎ করে কুমিল্লা বিভিন্ন স্থানে পানিতে পড়ে শিশু মৃত্যুর হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন শিশুদের অভিভাবকরা। তবে এভাবে পানিতে ডুবে শিশুদের মৃত্যুর ঘটনার জন্য অভিভাবকদের অসচেতনতাকেই দায়ী করা হচ্ছে পুলিশের পক্ষ থেকে।

এ জন্য প্রত্যেক এলাকার অভিভাবদের নিয়ে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানোর সিদ্বান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কুমিল্লা প্রশাসন। এদিকে সচেতন নাগরিক কমিটির সদস্যরা বলছেন শুধু সচেতনতামূলক প্রচারণা চালালেই হবে না। প্রতিটি মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিলে এ ধরনের মৃত্যু অনেকাংশেই কমে যাবে। আর এতে অভিভাবকরাও সচেতন হবে শিশুদের প্রতি। কুমিল্লা ৭ দিনে পুকুরে ডুবে চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। রবিবার সকালে পুকুরে ডুবে প্রাণ হারিয়েছে উপজেলার নাথেরপেটুয়া গ্রামের বাহারাইন প্রবাসী নূর আলম মজুমদারের শিশুকন্যা নুপুর মজুমদার। সে স্থানীয় নাথেরপেটুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। নুপুরের চাচাতো ভাই ফরহাদ আলম মজুমদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার নাথেরপেটুয়া গ্রামের বাহারাইন প্রবাসী নূর আলম মজুমদারের শিশুকন্যা ও স্থানীয় নাথেরপেটুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী নুপুর মজুমদার গত কয়েকদিন আগে পাশের চাটিতলা গ্রামে তার খালার বাড়িতে বেড়াতে যায়। গতকাল রবিবার সকালে ঘুম থেকে উঠে পুকুরের পানিতে মুখ ধুতে গিয়ে পানিতে পড়ে ডুবে যায় শিশুটি। এর কিছুক্ষণ পরই পুকুরের পানিতে তার মৃতদেহ ভেসে উঠলে বাড়ির লোকজন তাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেন। এ ঘটনার আগের দিন শনিবার দুপুরে উজেলার হাসনাবাদ ইউনিয়নের বাদুয়াড়া গ্রামের দারোগালী মিজি বাড়ির মো. সহিদ উল্লার মেয়ে শিখা আক্তার (৫) এবং একই বাড়ির মো.সাহাব উদ্দিনের মেয়ে শাবন্তী আক্তার (৬) পরিবারের সদস্যদের অজান্তে খেলতে গিয়ে বাড়ির পাশের পুকুরে ডুবে যায়।

কিছুক্ষণ পর পুকুরের পানিতে তাদের মৃতদেহ ভেসে উঠলে বাড়ির লোকজন ওই দুই শিশুকে পুকুর থেকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে। এর আগে গত ১ মে সন্ধ্যায় উপজেলার ঝলম দক্ষিণ ইউনিয়নের নরহরিপুর গ্রামের কুয়েত প্রবাসী নূরে আলমের মাত্র ১৫ মাস বয়সী শিশুকন্যা নাইমা জাহান নোহা পুকুরে ডুবে প্রাণ হারায়। ওইদিন বেলা ৩টার পর থেকে ১৫ মাসের শিশু নোহাকে ঘরে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। একপর্যায়ে ওইদিন সন্ধ্যার দিকে বাড়ির লোকজন পুকুরে শিশু নোহার মৃতদেহ ভাসতে দেখে পরিবারের সদস্যদের খবর দিলে স্বজনরা মৃত অবস্থায় তার মৃতদেহ উদ্ধার করে। এ ছাড়া উপজেলার বিভিন্ন স্থানেও পুকুরের পানিতে পড়ে বেশ কয়েকজন শিশু আহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এদেরকে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

উপজেলার হাসনাবাদ এলাকার বাসিন্দা পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক মো. জহির আহমেদ বলেন, অকালে এভাবে শিশুদের মৃত্যুর ঘটনা খুবই দুঃখজনক। শিশুদের এমন মৃত্যু রোধ করতে হলে প্রথমে অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে। এ ছাড়া বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমগুলো সচেতনতামূলক প্রতিবেদন তুলে ধরলে এ ব্যাপারে অভিভাবকরা কিছুটা হলেও সচেতন হবে।

এ সব বিষয়ে জানতে চাইলে মনোহরগঞ্জ থানার ওসি মো.সামছুজ্জামান বলেন, বর্তমানে পুকুরগুলোতে পানি বেড়ে গেছে। আর অভিভাবকরা এখন ধান নিয়েই বেশি ব্যস্ত। এ কারণে শিশুদের প্রতি তারা ঠিকভাবে খেয়াল রাখছেন না। তিনি বলেন, আমরা শিগগির উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে মাদক-যৌতুকবিরোধী সমাবেশের পাশাপাশি এ বিষয়েও অভিভাবকদের নিয়ে সভা সমাবেশ করব। আশা করছি অভিভাবকরা একটু সচেতন হলেই এ মৃত্যু অনেকাংশে কমে যাবে।

কুমিল্লা সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) সভাপতি মো. আলী আকবর মাসুম বলেন, অনাকাঙ্খিত কোনো মৃত্যুই আমাদের কাম্য নয়। আর সেটা শিশুদের ক্ষেত্রে তো অবশ্যই নয়। তাই বলব, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের প্রতিটি মৃত্যুর কারণ সঠিক তদন্তের মাধ্যমে খুঁজে বের করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। একইসঙ্গে অভিভাবকরা যদি সন্তানদের প্রতি খেয়াল রাখেন তাহলেও একটি শিশুকে এভাবে আর অকালে মরতে হবে না।

কুমিল্লা সিভিল সার্জন মজিবুর রহমান বলেন, ফুসফুসে পানি প্রবেশ করায় অক্সিজেন-স্বল্পতাজনিত এবং পরবর্তী সময়ে মস্তিষ্কে অক্সিজেনের অভাবে মৃত্যু ঘটে। এ ছাড়া মস্তিষ্কে অক্সিজেনের ঘাটতিতে শিশুরা দ্রুত জ্ঞান হারায়। এ জন্য দরকার যত দ্রুত সম্ভব শিশুর শ্বাস-প্রশ্বাস প্রতিস্থাপন করা। অনেক সময় শীতলতার কারণেও মৃত্যু ঘটে। তিনি বলেন, পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যু রোধে সাঁতার শেখার বিকল্প নেই। তবে চারটি পদক্ষেপে পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যুর হার কমানো সম্ভব। প্রথমত, ১০ মাস থেকে তিন বছর বয়সী শিশুদের প্রতি পরিবারের, বিশেষ করে মায়ের সার্বক্ষণিক নজরদারি এবং চার বছর বয়স থেকে শিশুকে সাঁতার শেখানো।

দ্বিতীয়ত, ডোবা ও পুকুরের চারপাশে বেড়া দেওয়া। তৃতীয়ত, পানি থেকে তোলার পর পরই শিশুকে কার্যকর প্রাথমিক চিকিৎসা, অর্থাৎ শিশুর শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক করতে সাহায্য করা; কারণ এ সময় শিশু অক্সিজেন-স্বল্পতায় ভোগে। চতুর্থত, শিশুকে দ্রুত হাসপাতাল বা চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হলে শিশুদের জীবন বাঁচানো সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: