মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
লন্ডনে দ্বিতীয় জনপ্রিয় ভাষা বাংলা  » «   ঘুষের টাকাসহ হাতেনাতে সাব-রেজিস্ট্রার আটক  » «   আর কোনো হায়েনার দল বাংলার বুকে চেপে বসতে পারবে না  » «   সিলেটে মুক্তিযুদ্ধের পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ করলেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী  » «   ফের জাতীয় পার্টির ঢাকা জেলা শাখার সভাপতি সালমা ইসলাম এমপি  » «   বিয়ানীবাজারে ৯৯০ পিস ইয়াবাসহ পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী আটক  » «   আয়কর দিবস উপলক্ষে সিলেটে বর্ণাঢ্য র‌্যালি  » «   এবার শ্রীমঙ্গলে ট্রেনের ইঞ্জিনে আগুন  » «   বেলজিয়ামে মসজিদে তালা দেওয়ায় বাংলাদেশিদের প্রতিবাদ  » «   পায়রা উড়িয়ে জাতীয় পার্টির ঢাকা জেলা শাখার সম্মেলন উদ্বোধন  » «   ভারতের অর্থনীতির দুরবস্থা, জিডিপি কমে সাড়ে ৪ শতাংশ  » «   পায়রা উড়িয়ে সম্মেলন উদ্বোধন করলেন শেখ হাসিনা  » «   লন্ডন ব্রিজে আবারও সন্ত্রাসী হামলা, নিহত ২  » «   চীন থেকে মা-বাবার জন্য পেঁয়াজ নিয়ে এলেন মেয়ে  » «   রক্তে ভাসছে ইরাক, নিহত ৮২  » «  

কারাগারে যেভাবে কাটল খালেদার সাত দিন



নিউজ ডেস্ক::লাল দেয়ালঘেরা কারাগারটি ঘিরে গড়ে তুলা হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ঢাকার এই সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারের সব বন্দীকে ২০১৬ সালের ২৯ জুলাই কেরানীগঞ্জের নতুন কারাগারে নেয়া হয়। তারপর থেকে সাত হাজার বন্দী ধারণ ক্ষমতার কারাগারটি ফাঁকা ছিল। সরকার ১৭ একরের এই জায়গায় জাদুঘর, বিনোদনকেন্দ্র ও উন্মুক্ত স্থান করার উদ্যোগ নেয়। বেগম খালেদা জিয়াকে সেখানে অন্তরীণ রাখায় পরিত্যক্ত কারাগারটি আবার সচল হলো। বেগম খালেদা জিয়া এই কারাগারের একমাত্র বন্দী। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়ের পর একমাত্র বন্দি হিসেবে এক সপ্তাহ পার করলেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

কারাগারে গত সাতদিনে মাত্র একবার স্বজনদের দেখা পেয়েছেন তিনি। আরেক দফায় তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পেরেছেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদসহ কয়েকজন আইনজীবী। তবে ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে নিত্যসঙ্গী হিসেবে ব্যক্তিগত গৃহকর্মী মোছাম্মৎ ফাতেমা বেগম রয়েছেন তার সাথে। উল্লেখ্য, গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের সাজা দেন আদালত। বকশি বাজারের আলীয়া মাদরাসায় স্থাপিত ৫নং বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান এ রায় দেন। পরে ওই দিনই তাকে পুরানত কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হয়। ওই কারাগারের দ্বিতীয় তলায় রাখা হয়েছে বেগম খালেদা জিয়াকে।

শুরু ৮ ফেব্রুয়ারি

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সাজা দেয় বিচারিক আদালত। বকশি বাজারের আলীয়া মাদরাসায় স্থাপিত ৫নং বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান এ রায় দেন। রায়ের পর ওই দিন বিকাল সোয়া ৩টায় রাজধানীর নাজিমউদ্দিন রোডের পুরাতন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয় বেগম খালেদা জিয়াকে। সেখানে প্রশাসনিক ভবনের নিচতলার একটি কক্ষে
রাখা হয় তাকে। সেটি একসময় সিনিয়র জেল সুপারের অফিস কক্ষ ছিল। কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে দিয়েই শুরু হয় কারাগারের প্রথম দিন।

৯ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় দিন

প্রশাসনিক ভবনে ৯ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় দিন বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে যান তার ভাই শামীম ইস্কান্দার ও বোন সেলিনাসহ চারজন পরিবারের সদস্য। তারা প্রথম দেখায় তাদের সঙ্গে ছিল কিছু খাবার ও ফল। প্রায় দেড় ঘণ্টা স্বজনরা বেগম খালেদা জিয়ার সাথে কারাগারে সময় কাটিয়ে বিকাল সোয়া ৫টার দিকে বেরিয়ে আসেন। তবে তারা সাংবাদিকদের সাথে কোন কথা বলেননি। একই দিনে সকাল ৯টার দিকে স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই নেতার স্ত্রী ফল নিয়ে কারাগারের সামনে গেলেও তাদের ফিরিয়ে দেন কারাকর্তৃপক্ষ। একইদিন দুপুরে গিয়েছিলেন বিএনপির তিন
নেত্রী অ্যাডভোকেট আরিফা জেসমিন, নেত্রকোনা জেলা মহিলা দলের যুগ্ম আহ্বায়ক রেহানা তালুকদার ও সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি উম্মে কুলসুম রেখা। তাদেরও ফিরিয়ে দিয়েছে পুলিশ।

১০ ফেব্রুয়ারি তৃতীয় দিন

পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রশাসনিক ভবনে দুই দিন রাখার পর ১০ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে সরিয়ে নেয়া হয় ভেতরে নারী সেল এলাকার ডে কেয়ার সেন্টার ভবনের দ্বিতীয় তলায়। যেখানে একসময় নারী বন্দিদের শিশু সন্তানরা থাকতে পারতো। ওইদিন খালেদা জিয়ার সময় কাটে নারী কারারক্ষীদের সঙ্গেই। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান পাঁচ আইনজীবী। বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে আইনি ও
দলীয় বিষয়ে আলোচনা করেছেন বলে কারাফটকে সাংবাদিকদের জানান তারা। ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ অভিযোগ করেন যে, বেগম খালেদা জিয়াকে নির্জন কারাবাসে রাখা হয়েছে। সেখানে স্বাভাবিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে না। একটি পরিত্যক্ত ভবনে তাকে রাখা হয়েছে। যেখানে কোনও মানুষ নেই, অন্য আসামিও নেই। যেভাবে ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্তদের নির্জন কারাবাসে রাখা হয়, সেভাবেই তাকে রাখা হয়েছে।

১১ ফেব্রুয়ারি চতুর্থ দিন

চতুর্থ দিন ১১ ফেব্রুয়ারি সকালে খালেদা জিয়াকে ডিভিশন দেয়ার জন্য আদালতের কাছে আবেদন করেন আইনজীবী আমিনুল ইসলাম। সকাল ১১টার পর ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এ শুনানি শেষে বিচারক আখতারুজ্জামান জেল কোড অনুযায়ী কারাগারে ডিভিশন দেয়ার নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে বেগম খালেদার সঙ্গে তার ব্যক্তিগত গৃহপরিচারিকা ফাতেমাকেও রাখার নির্দেশনা দেন আদালত। বিকালে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে ডিভিশন ও গৃহপরিচারিকা রাখার আদেশ পৌঁছে দেন আইনজীবীরা। এরপর গৃহপরিচারিকা ফাতেমাকে বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে থাকার অনুমতি দেন কারাকর্তৃপক্ষ। বর্তমানে খালেদা জিয়ার সঙ্গেই ফাতেমা রয়েছেন বলে কারাকর্র্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে।

১২ ফেব্রুয়ারি পঞ্চম দিন

১১ ফেব্রুয়ারি বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে আর কাউকে দেখা করতে দেয়া হয়নি।অন্যান্য দিনের মতো কারাগারে নারী কারারক্ষী ও ব্যক্তিগত গৃহপরিচারিকা ফাতেমার সঙ্গে কথা বলে ও পত্রিকা পড়ে তিনি সময় কাটান তিনি।

১৩ ফেব্রুয়ারি ষষ্ঠ দিন

ওকালতনামাসহ কিছু কাগজপত্রে বেগম খালেদা জিয়ার স্বাক্ষর আনতে এদিন কারাগারে যান এডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়াসহ কয়েকজন আইনজীবী। কিন্তু তাদের সাথে দেখা হয়নি বেগম খালেদা জিয়ার। আইনজীবীরা কাগজপত্রগুলো কারাকর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিয়ে ফিরে যান।

১৪ ফেব্রুয়ারি সপ্তম দিন

গতকাল বুধবার ছিল বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কারাগারের সপ্তম দিন। গতকাল স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার অনুমতি চাইতে কারাফটকে যান বিএনপিপন্থী সাতজন চিকিৎসক। কিন্তু অনুমতি না পেয়ে দুপুর আড়াইটার দিকে তারা কারাফটক ত্যাগ করেন।

ফিরে দেখা

দীর্ঘ ৩৬ বছরের রাজনৈতিক জীবনে এর আগে একবার কারাগারে যেতে হয়েছিল বেগম খালেদা জিয়াকে। ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তাকে গ্রেফতার করা হয়। তখন তাকে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকার স্পিকারের বাসভবনকে সাবজেল ঘোষণা দিয়ে সেখানে রাখা হয়েছিল। ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর উচ্চ আদালতের এক আদেশে মুক্তি পান তিনি।

কারা সূত্র জানায়, এই কারাগারে দুজন ডেপুটি জেলার, একজন নারী ডেপুটি জেলার, আরেকজন পুরুষ ডেপুটি জেলার দায়িত্বে রয়েছেন। সার্বক্ষণিক একজন চিকিৎসকও থাকবেন। কারাগারের ভেতরে দায়িত্ব পালনের জন্য কয়েকজন দক্ষ ও পুরোনো কারারক্ষীকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। বাসা থেকে আদালতে আসার সময় নিজের জিনিসপত্র ছোট ছোট সাতটি ব্যাগে ভরে সঙ্গে নিয়েছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। এসব তার সঙ্গে দেয়া হয়। রায় ঘোষণার আগে সকাল থেকেই কারাগারের আশপাশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। চারপাশের সব সড়ক বন্ধ করে দেয় পুলিশ। প্রধান ফটকের সামনেও কাউকে ঘেষতে দেয়া হচ্ছে না। নিরাপত্তার সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহন করেছেন কারা কর্তৃপক্ষ। সূত্র: ইনকিলাব

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: