মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
লন্ডনে দ্বিতীয় জনপ্রিয় ভাষা বাংলা  » «   ঘুষের টাকাসহ হাতেনাতে সাব-রেজিস্ট্রার আটক  » «   আর কোনো হায়েনার দল বাংলার বুকে চেপে বসতে পারবে না  » «   সিলেটে মুক্তিযুদ্ধের পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ করলেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী  » «   ফের জাতীয় পার্টির ঢাকা জেলা শাখার সভাপতি সালমা ইসলাম এমপি  » «   বিয়ানীবাজারে ৯৯০ পিস ইয়াবাসহ পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী আটক  » «   আয়কর দিবস উপলক্ষে সিলেটে বর্ণাঢ্য র‌্যালি  » «   এবার শ্রীমঙ্গলে ট্রেনের ইঞ্জিনে আগুন  » «   বেলজিয়ামে মসজিদে তালা দেওয়ায় বাংলাদেশিদের প্রতিবাদ  » «   পায়রা উড়িয়ে জাতীয় পার্টির ঢাকা জেলা শাখার সম্মেলন উদ্বোধন  » «   ভারতের অর্থনীতির দুরবস্থা, জিডিপি কমে সাড়ে ৪ শতাংশ  » «   পায়রা উড়িয়ে সম্মেলন উদ্বোধন করলেন শেখ হাসিনা  » «   লন্ডন ব্রিজে আবারও সন্ত্রাসী হামলা, নিহত ২  » «   চীন থেকে মা-বাবার জন্য পেঁয়াজ নিয়ে এলেন মেয়ে  » «   রক্তে ভাসছে ইরাক, নিহত ৮২  » «  

কাদা ঘেটে সোনার খোঁজে…



আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: ডোরিও জ্যানেটি একজন শিক্ষক। একটি প্লাস্টিকের পাত্র ঘাড়ে নিয়ে তিনি চলেছেন নদীর দিকে। নদীর কাদামাটি ঘেটে ঘেটে টুকরো টুকরো সোনা কুড়াবেন তিনি। ইতালির এলভো নদীর তীরে এরকম শত শত মানুষকে দেখা যায় পাত্র হাতে নিয়ে মনোযোগ দিয়ে নদীর কাদাপানি ঘাটাঘাটি করছেন। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে চলছে এই ‘গোল্ড রাশ’। অনেকে তাদের কর্মস্থল থেকে ফিরে ছুটে যাচ্ছেন নদীর তীরে, যদি সোনা কুড়িয়ে বাড়তি কিছু রোজগার করা যায়।
সিএনএনকে ডোরিও বলেন, তিনি অন্যদের দেখাদেখি এই কাজে নেমেছেন। তিনি শিক্ষকতার পাশাপাশি পিএইচডি করছেন বলেও জানান। প্রথমদিকে স্রেফ কৌতুহলের বশে পাত্র নিয়ে সোনা কুড়াতে এলেও এখন অনেকটা নেশার মতো হয়ে গেছে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, পানিতে সোনা ভেসে বেড়াচ্ছে। এটা কে না ধরতে চায়। যদিও কোনো কোনোদিন কিছুই মেলে না। তারপরেও মানুষ আসছে। কারণ এটা একেবারে ‘ফাও’ উপার্জন। তিনি তার পাত্র থেকে সোনার টুকরা কুড়িয়ে কুড়িয়ে একটি কাঁচের বোতলে রাখছিলেন। সেদিন তিনি যে সোনা কুড়িয়ে পেয়েছিলেন তা মাত্র ৪ ডলারের সমপরিমাণ। তারপরেও সেটা তার কাছে মূল্যবান। তিনি বলেন, এক গ্রাম সোনা কুড়াতে গেলে কখনো কখনো এক মাস লেগে যায়। জোসেফ নামের এক যুবক বলেন, এটা তার কাছে অনেকটা অ্যাডভেঞ্চারের মতো। মানুষ নদীর পানি ঘেটে সোনা কুড়াচ্ছে। এটা তার কাছে বেশ মজা লাগে বলে জানান। একই সাথে পকেটে কিছু বাড়তি পয়সাও আসে।
প্রশ্ন হলো, এই নদীর পানিতে সোনা এলো কোথা থেকে? আসলে আল্পস পর্বতমালার হিমবাহ থেকে সোনার টুকরো ভেসে ভেসে এলভো নদীর বালুর সঙ্গে মিশেছে। এই হিমবাহে সোনার টুকরোর উপস্থিতি নিয়ে গবেষকরা নানারকম মত দিয়েছেন। এলভো নদীর উপরে অনেক ‘পাহাড়’ দেখা যাবে। কিন্তু এই ‘পাহাড়গুলো’ মানুষ সোনা কুড়াতে গিয়ে নিজেদের অজ্ঞাতে তৈরী করে ফেলেছে পানি থেকে তোলা নূড়ি ফেলে ফেলে। স্থানীয় হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন এভাবে নুড়িপাথর তুলে নদী থেকে ডাঙায় নিয়ে আসে।
আট বছরের গিয়াসোমো তার দাদীমার সঙ্গে নদীর তীরে সোনা কুড়াতে এসেছে। সে নদী থেকে বালুভর্তি পাত্র বহন করতে দাদীকে সাহায্য করছে। এরপর একস্থানে ঢেলে সোনা খুঁজতে শুরু করল। সৌভাগ্যবশতঃ সে দুই টুকরো সোনা পেয়েও গেল। এরপর আনন্দে চিত্কার করে উঠল। অনেককে দেখা গেল কাজের ফাঁকে গাছের নিচে শুয়ে শুয়ে ঘুমিয়ে নিচ্ছে। এদের অনেকেই জানে না কোথা থেকে এই সোনার টুকরো ভেসে আসছে। কিন্তু তাদের জানার আগ্রহও ততটা নেই। সোনা খুঁজে পেলেই তাদের শান্তি! সিএনএন।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: