মঙ্গলবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৭ ফাল্গুন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
উপজেলা নির্বাচনের তৃতীয় ধাপ থেকে ইভিএম: ইসি সচিব  » «   হজ পালনে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি হিজড়াদের  » «   সব বাধা উপেক্ষা করে গণশুনানি করবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট  » «   অভিজিৎ হত্যা: অব্যাহতি পাচ্ছেন সাতজন, আসামি ছয়  » «   অনুমোদিত ৩টি ব্যাংক সম্পর্কে তেমন কিছু জানেন না অর্থমন্ত্রী  » «   ডাস্টবিনে নেমে ১৫০০ শিক্ষার্থীকে বাঁচানোর আহ্বান  » «   একাদশ সংসদের এমপিদের বৈধতা নিয়ে রিট খারিজ  » «   শামীমাকে যা বুঝিয়ে সিরিয়ায় নিয়ে গিয়েছিল আইএস  » «   নিজেই গাড়ি চালিয়ে যুবরাজকে বাসভবনে নিয়ে গেলেন ইমরান খান  » «   আরব আমিরাত ও বাংলাদেশর মধ্যে ৪টি সমঝোতা স্মারক সই  » «   সংঘর্ষ চলছে, পুলওয়ামা হামলার মূল হোতা নিহত  » «   এক দিন বাড়ল দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমা, আখেরি মোনাজাত মঙ্গলবার  » «   শুধুমাত্র আইন দিয়ে দুর্নীতি দমন করা যায় না: আইনমন্ত্রী  » «   জামায়াতের সবারই রাজ্জাকের মতো ভুল ভাঙা উচিত: ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ  » «   সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জা‌নি‌য়ে মোদিকে শেখ হাসিনার বার্তা  » «  

কঙ্কাল থেকে গাছের জন্ম!



আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: ১৯৭৪ সালে সাইপ্রাসে গ্রিকদের একটি গোষ্ঠীর সঙ্গে তুর্কিদের যুদ্ধ হয়েছিল। সেই লড়াইয়ে মারা যান আহমেত হারগিউন। কিন্তু তার মৃত্যুর কথা জানা গেল এতো বছর পর।

সেই সময়ের যুদ্ধে ২ লাখ মানুষ স্থানচ্যুত হয়েছিলেন। খোঁজ মেলেনি হাজারো লোকের। আহমেতও নিখোঁজের তালিকায় ছিলেন। এতো দিনে তার মৃত্যুর খবর দিল পাহাড়ের গায়ে ডালপালা মেলে গজিয়ে ওঠা এক ডুমুর গাছ।

২০১১ সালে এক গবেষকের চোখে পড়েছিল গাছটিতে। পাহাড়ের গুহায় এ রকম একটি গাছ দেখে চমকে যান তিনি। কারণ, পাহাড়ি এলাকায় ডুমুর গাছ সাধারণত দেখা যায় না। খোঁজ শুরু করেন তিনি। লোকজন ডেকে গাছের চারপাশে মাটি খুঁড়তে শুরু করেন। আর এতে বেরিয়ে আসে আসল ঘটনা। গাছের ঠিক নিচে চাপা পড়ে কঙ্কাল। একটু পাশে আরো দুটি দেহাবশেষ।

বিশেষজ্ঞদের দাবি, মারা যাওয়ার আগে হয়তো ডুমুর খেয়েছিলেন আহমেত। মৃতদেহের পাকস্থলিতে থেকে যাওয়া ডুমুরের বীজই জন্ম দেয় এই গাছের।

বিশেষজ্ঞদের অনুমান, আহমেত-সহ তিনটি লোককে গুহায় আটকে রেখে ডিনামাইট ফাটিয়ে খুন করেছিল প্রতিপক্ষরা। ডিনামাইটে বড় গর্ত তৈরি হয়েছিল গুহার উল্টো দিকের দেওয়ালে। সেখান দিয়ে বন্যার পানি ঢোকে গুহায়। সূর্যের আলোও এসে পড়েছিল গুহার ভিতরে। পানি-আলো পেয়ে আহমেতের পেটে থাকা বীজ থেকে জন্ম নেয় চারাগাছ।

কঙ্কালটি যে আহমেতের তা জানা যায় আরো এক দল বিশেষজ্ঞের সৌজন্যে। দেহাবশেষ তিনটি মিলতেই তাদের খোঁজ শুরু করেছিলেন। ১৯৬৩-১৯৭৪ সালে গ্রিস ও তুরস্কের যুদ্ধে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলটি থেকে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিল প্রায় দুইহাজার মানুষ। তাদের সন্ধানে ১৯৮১ সালে তৈরি হয়েছিল ‘দ্য কমিটি অন মিসিং পার্সনস ইন সাইপ্রাস’। নিখোঁজদের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছিল। পরিবারের থেকে নিখোঁজ ব্যক্তির বর্ণনা নেয়া হয়। যেমন, শেষ দেখার সময়ে তিনি কী পরে ছিলেন ইত্যাদি। বাড়ির লোকেদের থেকে রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। সেই সব মিলিয়েই জানা যায়, ওই গাছের জন্ম দিয়েছেন যে তিনি আরও কেউ নয় আহমত।

আহমেতের বোন মুনুর এখন ৮৭ বছরের বৃদ্ধা। বললেন, ‘আমাদের গ্রামে চার হাজার লোকের বাস ছিল। অর্ধেক গ্রিক, অর্ধেক তুর্কি। ’৭৪ সালে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব শুরু হয়। আহমেত তুর্কিদের দলে যোগ দিয়েছিল। দিনটা মনে আছে। ১০ জুন। ভাইকে তুলে নিয়ে যায় গ্রিকরা। আর সন্ধান মেলেনি ওঁর। বছরের পর বছর খুঁজেছি। কিন্তু এ ভাবেও খোঁজ পাওয়া যায়! ভাবিনি।’

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: