মঙ্গলবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ আশ্বিন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
পর্নোগ্রাফির মামলা নিয়ে ভাবছেন না কুসুম শিকদার  » «   ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত আশরাফুল  » «   ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সন্তান পরিচয় দিয়ে পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকুরী  » «   মানববন্ধনে রিজভীচাল নেই: সরকারি গোডাউনে ইঁদুর খেলা করছে  » «   নতুন বিয়ে নিয়ে মুখ খুললেন ময়ূরী  » «   ‘যৌন নিপীড়ন বন্ধে বাংলাদেশ জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে’  » «   মৌলভীবাজারে অং সান সুচির কুশপুত্তলিকা দাহ  » «   ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ুয়াদের অভিভাবকের নাম অন্তর্ভুক্তি চেয়ে রিট  » «   পদ্মায় নিখোঁজ কনস্টেবলের মরদেহ ২৪ ঘন্টায় উদ্ধার হয়নি  » «   রাজধানীর পানিতে ঝুঁকিপূর্ণ জীবন  » «   উপজেলা পর্যায়ে চালু হচ্ছে ওএমএস  » «   ‘মধ্যরাতে আমাকে ঘিরে ধরে মাতালেরা, এরপর শুরু করে…’  » «   ভদ্র চালকদের জন্য পুরস্কার  » «   শাহজালালে সিগারেটসহ ৬ ভারতীয় নাগরিক আটক  » «   ৮ সন্তানকে আনতে পেরেছি আরেকজন জেলে  » «  

‘ও ভাই, আমার বাপ কই ?’



killed_bg20160508205943নিউজ ডেস্ক: রঙমিস্ত্রি রমজান আলী মল্লিক এবং পোশাক কর্মী বেগম আক্তারের টানাপড়েনের সংসারে আশাভরসার একমাত্র প্রতীক ছিল একমাত্র সন্তান ফিরোজ আলম বাঁধন (১৩)। নগরীর পাহাড়তলীর পিএইচ আমিন একাডেমির অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র বাঁধন লেখাপড়ায় ভাল ছিল। ছেলে মানুষের মতো মানুষ হবে, এই আশায় তাকে বড় করছিলেন রমজান ও বেগম। কিন্তু তাদের স্বপ্ন ধ্বংস করে দিয়েছে রমজানের ভাতিজা হৃদয়। চাচাত ভাই বাঁধনকে খুন করেছে হৃদয়।

একমাত্র সন্তানের মৃত্যুর খবর শুনে পাগলপ্রায় হয়ে গেছেন মা বেগম আক্তার। আর অধিক শোকে পাথরের মতো হয়ে গেছেন রমজান আলী।

রোববার (৮ মে) বিকেলে নগরীর পাহাড়তলী থানার সাগরিকায় জহুর আহম চৌধুরী স্টেডিয়ামের পেছনে একটি খাল থেকে ফিরোজ আলম বাঁধন (১৩) নামে এক স্কুলছাত্রের গলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। বাঁধনদের ‍বাসা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাস্থল থেকে আনুমানিক দুই কিলোমিটার দূরে ফইল্যাতলী বাজারে।

ছেলের মরদেহ উদ্ধারের খবর শুনে দৌঁড়াতে দৌঁড়াতে ঘটনাস্থলে আসেন বেগম আক্তার। এসেই বিলাপ ধরে কাঁদতে থাকেন। রাস্তায় পড়ে গড়াগড়ি দিতে থাকেন বেগম আক্তার। বড় বোন কামরুন্নাহার এবং প্রতিবেশি এক অটোরিকশা চালক মিলে বেগমকে ধরে অটোরিকশায় বসিয়ে রাখেন। ওই অটোরিকশায় বসে ‍অসংলগ্ন কথাবার্তা বলছিলেন বেগম।

সাংবাদিক পরিচয়ে কথা বলতে গেলে প্রথমে কিছুক্ষণ ফ্যাল ফ্যাল করে চেয়ে থাকে। তারপর বলেন, ‘আমার ছেলের কি হয়েছে ? আমার ছেলে কোথায় ? তারে মারবে কেন ? সে কি চোর ? সে তো ভাল ছাত্র। স্যারেরা বলছে বাঁধন লেখাপড়ায় ভাল। তারে মারবে কেন ?’

‘ও ভাই, আমার বাপ কই ? ও ভাই, আমার ছেলে কই ? আপনাদের পায়ে ধরি, আমার ছেলেরে এনে দেন। ’ কান্নায় ভঙ্গে পড়ে বলেন বেগম আক্তার।

তারপর নিজে নিজে বিড়বিড় করে আওড়াতে থাকেন, ‘বাঁধন, এদিকে আয় বাপ। তোরে ভাত খাওয়াই দিব। পাঁচ টাকা লাগবে ? পাঁচ টাকা আছে, আমি দিব। দাঁড়াও বলতেছি, দাঁড়াও। রাগ করিস না বাপ। মায়ের সঙ্গে রাগ করিস না। আমি দিব বললাম তো, দিব বলছি না ?’

বেগমের বড় বোন কামরুন্নাহার বলেন, আমার বোনটা পাগল হয়ে গেছে। কিছুক্ষণ স্বাভাবিক কথাবার্তা বলছে। আবার কিছুক্ষণ অস্বাভাবিক আচরণ করছে।

কামরুন্নাহার বলেন, ‘দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ চেয়েছিল। আমরা আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে চাঁদা তুলেছিলাম। হৃদয়ও আমাদের সঙ্গে ছিল। কিন্তু সে-ই যে খুন করেছে আমরা বুঝতে পারিনি। আমরা তার ফাঁসি চাই। ’

মরদেহ উদ্ধারের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল বাঁধনের বাবা রমজান আলী মল্লিক। মরদেহ দেখে তিনি স্বাভাবিকভাবেই বলেন, এটাই আমার ছেলে। এই গেঞ্জি তারে আমি কিনে দিছি। এই লুঙ্গি আমার।

বাঁধনকে হত্যার পর লুঙ্গি দিয়ে মুড়িয়ে বস্তার ভরে খালে ফেলে দেয়া হয়। বস্তাভর্তি মরদেহটি পুলিশ উদ্ধার করে। পাহাড়তলী থানার ওসি রণজিৎ কুমার বড়ুয়া বলেন, বাঁধনের বাবা নিজেই ছেলের লাশ শনাক্ত করেছে। অধিক শোকের কারণে তাকে স্বাভাবিক দেখাচ্ছে। এটাই আসলে এক ধরনের অস্বাভাবিকতা।

ঘটনাস্থলে ছিল হৃদয় এবং তার বাবা মফিজুল আলম মল্লিকও। হৃদয়ের সঙ্গে কথা বলতে দেয়নি পুলিশ।

মফিজুল আলমও বাঁধনকে হত্যার দায়ে ছেলের বিচার দাবি করেছেন।

নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এস আই) সন্তোষ কুমার চাকমা ‍ বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে শুধু হৃদয় জড়িত নাকি আরও কেউ আছে, সেটা তদন্তে বের হবে।

গত ৪ মে সকাল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে কোন এক সময়ে প্রথমে টাইগার এনার্জি ড্রিংকের ভেতরে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে সেগুলো বাঁধনকে খাইয়ে অজ্ঞান করে হৃদয়। তারপর গামছা দিয়ে পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। সন্ধ্যায় বাঁধনের বাবা তার মোবাইলে ফোন করেন। এসময় হৃদয় ফোন রিসিভ করে বলে, তোমার ছেলেকে অপহরণ করা হয়েছে, দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দিলে তাকে ফিরিয়ে দেয়া হবে। না হলে হত্যা করা হবে।

কেন এই হত্যাকাণ্ড ?
কি কারণে এই নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটেছে সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারেনি তদন্তকারী সংস্থা চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশ।

তবে নগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারি কমিশনার জাহাঙ্গির আলম জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তারা তিন ধরনের তথ্য পেয়েছেন। প্রথমটি হচ্ছে, যৌথ পরিবারে বিরোধ। দ্বিতীয়টি হচ্ছে নেশাগ্রস্ত হৃদয় তার প্রেমিকার জন্য টাকা সংগ্রহ করতে বাঁধনকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টা। তৃতীয়টি হচ্ছে, হৃদয়ের মোবাইলে তার প্রেমিকার কিছু নগ্ন ছবি ছিল। সেই ছবিগুলো বাঁধন দেখে ফেলেছিল। সে কাউকে বলে দেবে এই ভয়ে তাকে খুন করা হয়।

রমজান আলী মল্লিকদের পৈতৃক বাড়ি দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জে। কাজের সূত্রে তারা চট্টগ্রাম শহরে থাকতেন বলে জানিয়েছেন ওসি।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: