শুক্রবার, ২৩ অগাস্ট ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
তিন সিটিতে বিএনপির মেয়র প্রার্থী যারা  » «   ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি: চিদম্বরমের সময় অমিত, অমিতের সময় চিদম্বরম গ্রেপ্তার  » «   অক্টোবর থেকে মোবাইল অ্যাপে মিলবে বিমানের টিকিট  » «   আগামীকাল জুমার নামাজের পর গণবিক্ষোভের ডাক কাশ্মীরিদের  » «   হবিগঞ্জে ডাক্তার পরিচয় দিয়ে নবজাতক চুরি, নারী আটক  » «   কলকাতায় সড়ক দুর্ঘটনায় ২ বাংলাদেশির মৃত্যু, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ  » «   ভীতি কাটাতে চা বিস্কুট খেতে খেতে ভাইভা দেবেন বিসিএস পরীক্ষার্থীরা  » «   তৃতীয় ড্রিমলাইনার ‘গাঙচিল’ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী  » «   রাস্তার পাশে চা বানাচ্ছেন মমতা! ভিডিও ভাইরাল  » «   ঋণের টাকায় ভারত থেকে অস্ত্র কিনবে বাংলাদেশ  » «   কানাইঘাটে মৃত্যুর পাঁচ মাস পর কবর থেকে লাশ উত্তোলন  » «   কাশ্মীরে ফের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন, গুলি চালিয়েছে পাকিস্তান  » «   রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হতে পারে আজ  » «   পুলিশের ছেলে বিশ্বের এক নম্বর ডন  » «   জাহালম কাণ্ড: ১১ তদন্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা  » «  

ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য অশনি সংকেত: রিজভী



নিউজ ডেস্ক:: আসন্ন সংসদ নির্বাচন নিয়ে সিইসি এবং ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য অশনি সংকেত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।সোমবার রাজধানীর নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ইসির কর্মকর্তারা ও আওয়ামী নেতারা এখন কথা বলছেন একই সুরে মন্তব্য করে রিজভী বলেন, কিছুদিন আগে সিইসি বলেছিলেন-বাংলাদেশে শতভাগ সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়, গত দুদিন আগে আরেকজন কমিশনার বললেন অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব হবে না। গতকাল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাহেবও বলেছেন পৃথিবীর কোন দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হয় না, বাংলাদেশেও শভাগ স্বচ্ছ ও অবাধ নির্বাচন হবে না। আসন্ন নির্বাচন নিয়ে তাদের বক্তব্য এক আশঙ্কাজনক অশনি সংকেত। সিইসি ও ইসির বক্তব্য মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অনিয়ম ও ভোট ডাকাতিতে উৎসাহিত করবে।

পুলিশের বেপরোয়া আচরণ ও হয়রানিতে আবারো ‘ফেনী মার্কা’ নির্বাচনের আলামত পাওয়া যাচ্ছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে মামলা ও গ্রেপ্তার পাহাড়ী ঢলের মতো ধেয়ে চলেছে দেশব্যাপী।গতকালও ঢাকা, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, ঝিনাইদহ, ফেনি, কিশোরগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মীকে বিনা মামলায়, বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশ।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, পুলিশ কর্তৃক প্রিজাইডিং অফিসারদের নাম চাওয়া, বিএনপির কোন লোক নির্বাচনী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পাচ্ছে কি না ইত্যাদি তদারকি করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর র‌্যাব ও পুলিশ সদস্যরা। সারাদেশে নির্বাচনী কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়ার জন্য পুলিশ ও গোয়েন্দাপুলিশ তালিকা তৈরি করছে।

স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষকদের মধ্যে কারা কারা সরকার দলের সমর্থক,কারা বিরোধী দলের সমর্থক তাদের তালিকা করছে তারা।এমনকি বিরোধী মতের সমর্থক হলে তাদের নির্বাচনী কার্যক্রম থেকে বিরত রাখা হচ্ছে বা তাদের হুমকি দিয়ে বলা হচ্ছে আপনারা নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করবেন না।গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে মোবাইলেও তাদেরকে হুমকি দিচ্ছে। পুলিশের প্রকাশ্য ও গোপন হুমকিতে এ নিয়ে দেশজুড়ে শিক্ষকদের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে।

তিনি বলেন,আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের হাবুডুবু খাওয়াতেই নির্বাচনী মাঠ জনশুন্য করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগের রাজনীতি দেউলিয়া হয়ে গেছে বলেই আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে অনাচারে লিপ্ত হয়েছে।

রিজভী বলেন, নির্বাচন কমিশন নেপথ্যলোকের বার্তানুযায়ী কাজ করছে বলেই ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষমতাসীনদের নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় চোখ বন্ধ করে রাখে।নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ নেই বলেই এখন পর্যন্ত তাদের কোন কাজ তারিফযোগ্য হয়নি।

আইন, আদালত ও প্রশাসনকে সম্পূর্ণরুপে গ্রাস করার পরে কব্জার মধ্যে থাকা নির্বাচন কমিশনকে একেবারে গিলে ফেলেছে সরকার।এখন নোংরাভাবে ইসিকে ব্যবহার করা হচ্ছে।কারণ ইসির কতিপয় কর্মকর্তা সেই সুযোগ করে দিয়েছে। আত্মা বিক্রির শর্তেই কতিপয় নির্বাচন কমিশনারকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন পুলিশসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর উপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সকল কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছে সরকার। শুধু তাই নয় প্রশাসনকেও নিয়ন্ত্রণ করছে সরকার কঠোরভাবে। দেশজুড়ে এখনও গায়েবি মামলা, গ্রেপ্তার, বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে হানা দিয়ে নিপীড়ণ অব্যাহত রয়েছে আগের মতোই। একজন নির্বাচন কমিশনার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনকে ইসির অধীনে নেয়ার প্রস্তাব করলেও সিইসি ও কতিপয় কমিশনার তা আপত্তি জানান। মূলত সরকারের হুকুম তামিল করতেই ব্যস্ত রয়েছে নির্বাচন কমিশন।

বিটিভিসহ বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশনকে চাপ প্রয়োগ করে আওয়ামী লীগের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, বিটিভি রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠান হলেও নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পরও আওয়ামী লীগের পক্ষে একচেটিয়া প্রচারণা চালানো হচ্ছে। গতকাল একটি বেসরকারি টেলিভিশনে নির্বাচনি জনমত জরিপের নামে ক্ষমতাসীন দলের পক্ষে কৃত্রিমভাবে জনমত বেশি দেখিয়ে প্রচারণা চালাতে দেখা গেছে।

যা সুস্পষ্ট আচরণ বিধি লঙ্ঘনই নয়, ক্ষমতাসীনদের পক্ষে নগ্ন দালালির নামান্তর মাত্র। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বিটিভিসহ বেসরকারি টেলিভিশনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের কোন চিহ্নই নেই। তফশীল ঘোষণার পরও রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বিটিভিসহ কতিপয় বেসরকারী টেলিভিশন নির্লজ্জ মোসাহেবী করছে সরকারী দলের পক্ষে।অবিলম্বে সকল টেলিভিশনকে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের ব্যবস্থা নিতে ইসির প্রতি আহ্বান জানান রিজভী।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: