মঙ্গলবার, ২৬ মার্চ ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ১২ চৈত্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
বিরোধী দলীয় উপনেতা হলেন রওশন এরশাদ  » «   সিলেট যাত্রীদের দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস বিমানের  » «   ১ এপ্রিল থেকে সব কোচিং সেন্টার বন্ধ  » «   সুবর্ণচরে গণধর্ষণ: আইনজীবীর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন  » «   ‘১১ বছর বয়সে বাবা আমাকে নিষিদ্ধপল্লীতে বিক্রি করে দেন’  » «   আকস্মিক ঢাকার কূটনৈতিক পাড়ায় ২৪ ঘন্টার রেড অ্যালার্ট জারি  » «   নির্বাচনে রাশিয়া-ট্রাম্প আঁতাতের প্রমাণ মেলেনি মুলারের তদন্তে  » «   ১২ ব্যক্তি ও এক প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পদক দিলেন প্রধানমন্ত্রী  » «   এবার ক্যালিফোর্নিয়ায় মসজিদে আগুন, চিরকুট উদ্ধার  » «   ফাঁকা বাসে ভয়ঙ্কর ফাঁদ, টার্গেট কম বয়সী নারী যাত্রী  » «   রিমান্ডে বিমানবালা: যেভাবে হয় সৌদি আরব থেকে স্বর্ণ আনার চুক্তি  » «   আজ ভয়াল ২৫ মার্চ, গণহত্যার স্বীকৃতি চায় বাংলাদেশ  » «   সিলেটের আতিয়া মহলে অভিযান: দুই বছরেও আসেনি চার্জশিট  » «   বাড়ছে দূতাবাস, গুরুত্ব পাচ্ছে অর্থনৈতিক কূটনীতি  » «   একাত্তরের গণহত্যা আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোতে তুলবে জাতিসংঘ  » «  

ঐতিহাসিক জয়ে কিশোরগঞ্জের মেয়ে নাহিদার কৃতিত্ব



খেলাধুলা ডেস্ক::নিয়ন্ত্রিত বোলিং এর পর আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং। রুদ্ধশ্বাস ফাইনালে উড়ে যায় ছয় বারের এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়ন ভারত। এতেই ইতিহাস রচনা করেন বাংলাদেশের মেয়েরা। কেননা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এটাই বাংলাদেশের প্রথম কোন টুর্নামেন্ট শিরোপা। এশিয়া কাপ তো নয়ই, এর আগে নারী-পুরুষ মিলিয়ে কখনো কোন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের শিরোপা জিততে পারেনি বাংলাদেশ। ছেলেরা দুই বার ফাইনালে গিয়ে চ্যাম্পিয়ন হতে না পারলেও প্রথমবার ফাইনালে উঠেই জিতেছে সালমা খাতুনের দল।

ঐতিহাসিক এই জয় রচনায় অন্যতম ভূমিকা পালন করেছেন দলের উদ্বোধনী বোলার কিশোরগঞ্জের মেয়ে নাহিদা আক্তার। ভারতকে ১১২ রানে আটকে রাখতে সবচেয়ে মিতব্যয়ী বোলিং করেছেন নাহিদা আক্তার। চার ওভার বোলিং করে কোন উইকেট না পেলেও ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের সমীহ আদায় করতে পেরেছেন তিনি। দিয়েছেন মাত্র ১২ রান। তার করা ২৪ বলের মধ্যে ১৬টিই ডট বল ছিল।

ভারতীয় ইনিংসের প্রথম ওভারে নাহিদা আক্তার বাংলাদেশের হয়ে উদ্বোধনী বল করে চারটি ডট বল আদায় করে মাত্র দুই রান দেন। ইনিংসের তৃতীয় ওভার ও নিজের দ্বিতীয় ওভারে নাহিদা আক্তার ছিলেন আরো কৃপণ। পাঁচটি ডট বল আদায় করে দেন মাত্র এক রান। নাহিদার বোলিং ফিগার হয় ২-০-৩-০। পঞ্চম ওভারে ও নিজের তৃতীয় ওভারে নাহিদা আক্তার একটি ওয়াইডসহ দেন তিন রান। এই ওভারেও ডট বল ছিল চারটি। দ্বিতীয় স্পেলে ইনিংসের ষোড়শ ওভার ও নিজের চতুর্থ অর্থাৎ শেষ ওভারে নাহিদা দেন ৬ রান। এই ওভারেও তিনি তিনটি ডট বল আদায় করে নেন। নাহিদা আক্তারের ইকোনমি রেট ছিল সবচেয়ে কম ৩.০০।

বামহাতি অর্থোডক্স বোলার নাহিদা আক্তারের জন্ম ২০০০ সালের ২রা মার্চ কিশোরগঞ্জ জেলার কুলিয়ারচর উপজেলার দ্বাড়িয়াকান্দি গ্রামে। তার বাবার নাম মো. হামজু ভূঁইয়া। বেড়ে ওঠা রাজধানী ঢাকায়।

২০১৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের বিপক্ষে করাচীতে অনুষ্ঠিত খেলায় আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটে অভিষেক হয় নাহিদা আক্তারের। ওই সময় মহিলাদের আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টি ক্রিকেট দলে বাংলাদেশের সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় ছিলেন নাহিদা আক্তার। তার বয়স ছিল মাত্র ১৫ বছর ২১২ দিন। প্রথম তিনটি টি-টুয়েন্টি ম্যাচের প্রত্যেকটিতেই তিনি দুইটি করে উইকেট লাভের সক্ষমতা দেখান। এছাড়া প্রত্যেকটি ম্যাচেই বরাদ্দকৃত সবগুলো ওভার কুশলতার সাথে সম্পন্ন করেন।

পাকিস্তানের বিপক্ষেই ২০১৫ সালের ৪ অক্টোবর একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অভিষেক হয় নাহিদা আক্তারের। এরপর থেকে নাহিদা আক্তার বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের হয়ে নিয়মিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে আসছেন। বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের উদ্বোধনী বোলার হিসেবে আস্থা আর নির্ভরতার এক অনন্য নাম এখন নাহিদা আক্তার। নাহিদা আক্তারের ৩২ নম্বর জার্সিটাকে ঘিরে তাই কেবলই বাড়ছে প্রত্যাশার পারদ।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: