মঙ্গলবার, ২১ মে ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
রাজমিস্ত্রি সেজে খুনি ধরলেন এসআই লালবুর রহমান!  » «   আগামী ৫ জুন পবিত্র ঈদুল ফিতর!  » «   বাংলাদেশের সঙ্গে ঝামেলা করতে চাচ্ছে পাকিস্তান: পররাষ্ট্রমন্ত্রী  » «   লুটপাটের উন্নয়নের কথা শুনতে শুনতে জনগণ অতিষ্ঠ: রিজভী  » «   শ্লীলতাহানির বিচার না পেয়ে কিশোরীর আত্মহত্যা, ওসি প্রত্যাহার  » «   ৩৪ পয়েন্টে ওয়াসার পানি পরীক্ষার নির্দেশ  » «   যেভাবে গণনা হবে ভারতে লোকসভা নির্বাচনের ভোট  » «   ঋণখেলাপিদের গণসুবিধার নীতিমালায় স্থিতি অবস্থার আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট  » «   স্বামী- স্ত্রী পরিচয়ে পতিতাবৃত্তি, সাংবাদিক পরিচয়ে ব্লাকমেইল!  » «   পাকিস্তানের নাগরিকদের ভিসা বন্ধ করল বাংলাদেশ  » «   সৌদি আরবের মক্কা ও জেদ্দা নগরীতে হুতিদের মিসাইল হামলা  » «   সারাদেশের পাস্তুরিত দুধ পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট  » «   আত্মহত্যাচেষ্টার আগে শোভন-রাব্বানীর উদ্দেশে ফেসবুকে যা লিখলেন দিয়া  » «   এক সময়ের কোটিপতি এখন ভাঙারি দোকানের শ্রমিক!  » «   বগুড়া-৬ আসনে বিএনপির মনোনয়ন দৌঁড়ে এগিয়ে সিরাজ  » «  

এবার থামুন



ভূইয়াঁ এন জামান
বাংলা মায়ের বাঁধন ছেড়ে আমরা প্রবাসীরা কিসের নেশায় পড়ে আছি এই দূর প্রবাসে। উত্তর একটাই নিজের পরিবার পরিজনদের মুখে হাসি ফোঁটানো। আমার যারা প্রবাসে বিশেষ করে ফিনল্যান্ডে আছি কেউ এখানে আসা পড়ালেখা কেউবা কাজের সন্ধানে আর কেউবা রাজনৈতিক কারণে। তবে সবার লক্ষ্যযে এক তা বলাই বাহুল্য। ভাগ্যের অন্নেষনে পৃথিবীর নানা প্রান্তে বাঙালির পদচারণা অনেক পুরোনো হলেও ফিনল্যান্ডে বাঙালির আবির্ভাব সত্তরের দশক শেষ আর আশির দশকের শুরুতে। তখনকার সময়ে মূলত ভাগ্য অন্নেষণের জন্যই কেবল বাঙালি বিদেশে আসতো কালক্রমে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি আর আত্মীয় স্বজনের টানে অনেকেই প্রবাসে আসে। বর্তমানে প্রায় চার পাঁচ হাজার বাংলাদেশির বাস এই ফিনল্যান্ডে তার মধ্যে পড়ালেখায় আসা ছাত্র ও তাদের পরিবারের সংখ্যাই বেশি। তবে কাজের জন্যও বেশ কিছু বাংলাদেশী এই দেশে আসে।

এখন বিবেচনার বিষয় হলো আমরা কেমন আছি। সুখ আর শান্তি আর দেশ বলে খ্যাত এই ফিনল্যান্ডে এক যুগ আগেও ছিল সবাই একটি পরিবারের মতো। কালের পরিক্রমায় নানা মত ও দলের আবির্ভাবে বর্তমান সময়ে শান্তির দেশে বাঙালি সমাজে অশান্তি বিরাজ করছে। শুধু মাত্র মতের ভিন্নতা নয় কারণে অকারণে আর বাংলাদেশী রাজনৈতিক দল সমূহের স্থানীয় শাখার জনবিচ্ছিন্ন কর্মকাণ্ড আমাদের বাঙালি সমাজকে কুলষিত করে তুলেছে। সাথে সাথে মূলধারায় মানুষদের কাছে আমাদের বাঙালিদেরকে একটি প্রশ্নবিদ্ধ জাতিতে পরিণত করছে।

সাম্প্রতিক একটি ঘটনা ফিনিশ মিডিয়াতে ব্যাপক প্রচারের ফলে আমার জাতি হিসেবে ধিক্কার পেয়ে আসছি। কিন্তু কেন এই পরিস্থিতির সৃষ্ষ্টি হলো। ঘটনার প্রারম্ভে এই টুকু বলা যায় সুধু মাত্র ক্ষমতার লোভ আর ব্যক্তিগত রেষারেষি এই সমস্ত ঘটনার মূল কারণ। এইতো এক যুগ আগেও আমরা দেখেছি দেশ হতে কোনো গন্যমান্য কোনো ব্যক্তি আসলে সকলের অংশগ্রহণে তাকে সংবর্ধনা দেয়া কিম্বা কোনো সংষ্কৃতিক আয়োজন সফল করতে একযোগে কাজ করা। বর্তমান জামানায় আমরা কি দেখতে পাই কেউ একটা অনুষ্ঠানের কায্যক্রম শুরু করলে তার পেছনে লেগে থাকা। আর রাজনৌতিক দল সমূহ তাদের বিভক্তিতো সকলের জানা।

ফিনল্যান্ডে বর্তমানে বেশ কয়েকটি সাংস্কৃতিক জোট ও রাজনৌতিক দল তাদের কায্যক্রম পরিচালনা করে। ছাত্র ও সাংস্কৃতিক জোট সমূহে মতের অমিলের কারণে বেশ কিছু ভাঙ্গন আমরা দেখেছি কিন্তু তা শুধুই নিজেদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকেছে। তবে রাজনৌতিক দল সমূহের মতের অমিল তা রীতিমতো আমাদের দেশের রাজনৈতিক অপসংস্কৃতিকে বহন করে চলেছে। এখানে আমরা দেখতে পাই একে ওপরের উপর হামলা মামলা আর ব্যক্তিগত আক্রমণের অনন্য মহড়া যা আমাদের শান্তিপূর্ণ সহঅবস্থানের জায়গাকে কুলষিত করে তুলেছে তা শুধু আমাদের জন্য লজ্জার নয় জাতি হিসেবে আমরা কতটা নিচ কতটা হীন তা এই দেশের মানুষকে দেখিয়ে দিচ্ছি।

তবে সময় এসেছে এই সমস্ত অপকর্মকান্ড হতে নিজিদেরকে সামলে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার। আমার শুধুই এইটুকু বলবো এইবার আপনারা থামেন নচেৎ প্রকৃতিই একদিন আপনাদের থামিয়ে দিবে।

লেখক: সম্পাদক সাংবাদ ২১ ডটকম, আইএফজে স্বীকৃত ফ্রীলান্স সাংবাদিক, ফিনিশ সাংবাদিক ইউনিয়ন ও ইউরোপিয়ান সাংবাদিক নেটওয়ার্কের সদস্য।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: