শনিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ ফাল্গুন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
নন্দলালের ভূমিকায় অবতীর্ণ হবেন না: ইসি রফিকুল  » «   এমপি হিসেবে শপথ নিলেন সৈয়দ আশরাফের বোন ডা. জাকিয়া  » «   রোহিঙ্গাদের নৃশংসতার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান মিয়ানমার সেনাপ্রধানের!  » «   যেসব শর্তে আত্মসমর্পণ করছেন ১০২ ইয়াবা ব্যবসায়ী  » «   নাসা আ্যপস চ্যালেঞ্জে বিশ্বসেরা শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়  » «   বাংলা একাডেমিতে আল মাহমুদের মরদেহ, শ্রদ্ধা নিবেদন  » «   আখেরি মোনাজাতের মধ্যদিয়ে জোবায়ের অনুসারীদের ইজতেমা শেষ  » «   যেভাবে ভারতীয় সেনাবহরে হামলা চালায় জঙ্গিরা  » «   রোহিঙ্গা নিপীড়ন তদন্তে মার্চে বাংলাদেশ আসছে আইসিসি প্রতিনিধিদল  » «   ব্যাটিং ব্যর্থতায় সিরিজ হার বাংলাদেশের  » «   যুক্তরাষ্ট্রে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করলেন ট্রাম্প  » «   টেকনাফে ইয়াবা কারবারিদের আত্মসমর্পণ আজ  » «   বিশ্ব ইজতেমা: প্রথম পর্বের আখেরি মোনাজাত আজ  » «   ৩৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে সিমেন্সের সঙ্গে চুক্তি  » «   ভালোবাসা দিবসে সিলেটে ‘জুটির মেলা’  » «  

এবার থামুন



ভূইয়াঁ এন জামান
বাংলা মায়ের বাঁধন ছেড়ে আমরা প্রবাসীরা কিসের নেশায় পড়ে আছি এই দূর প্রবাসে। উত্তর একটাই নিজের পরিবার পরিজনদের মুখে হাসি ফোঁটানো। আমার যারা প্রবাসে বিশেষ করে ফিনল্যান্ডে আছি কেউ এখানে আসা পড়ালেখা কেউবা কাজের সন্ধানে আর কেউবা রাজনৈতিক কারণে। তবে সবার লক্ষ্যযে এক তা বলাই বাহুল্য। ভাগ্যের অন্নেষনে পৃথিবীর নানা প্রান্তে বাঙালির পদচারণা অনেক পুরোনো হলেও ফিনল্যান্ডে বাঙালির আবির্ভাব সত্তরের দশক শেষ আর আশির দশকের শুরুতে। তখনকার সময়ে মূলত ভাগ্য অন্নেষণের জন্যই কেবল বাঙালি বিদেশে আসতো কালক্রমে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি আর আত্মীয় স্বজনের টানে অনেকেই প্রবাসে আসে। বর্তমানে প্রায় চার পাঁচ হাজার বাংলাদেশির বাস এই ফিনল্যান্ডে তার মধ্যে পড়ালেখায় আসা ছাত্র ও তাদের পরিবারের সংখ্যাই বেশি। তবে কাজের জন্যও বেশ কিছু বাংলাদেশী এই দেশে আসে।

এখন বিবেচনার বিষয় হলো আমরা কেমন আছি। সুখ আর শান্তি আর দেশ বলে খ্যাত এই ফিনল্যান্ডে এক যুগ আগেও ছিল সবাই একটি পরিবারের মতো। কালের পরিক্রমায় নানা মত ও দলের আবির্ভাবে বর্তমান সময়ে শান্তির দেশে বাঙালি সমাজে অশান্তি বিরাজ করছে। শুধু মাত্র মতের ভিন্নতা নয় কারণে অকারণে আর বাংলাদেশী রাজনৈতিক দল সমূহের স্থানীয় শাখার জনবিচ্ছিন্ন কর্মকাণ্ড আমাদের বাঙালি সমাজকে কুলষিত করে তুলেছে। সাথে সাথে মূলধারায় মানুষদের কাছে আমাদের বাঙালিদেরকে একটি প্রশ্নবিদ্ধ জাতিতে পরিণত করছে।

সাম্প্রতিক একটি ঘটনা ফিনিশ মিডিয়াতে ব্যাপক প্রচারের ফলে আমার জাতি হিসেবে ধিক্কার পেয়ে আসছি। কিন্তু কেন এই পরিস্থিতির সৃষ্ষ্টি হলো। ঘটনার প্রারম্ভে এই টুকু বলা যায় সুধু মাত্র ক্ষমতার লোভ আর ব্যক্তিগত রেষারেষি এই সমস্ত ঘটনার মূল কারণ। এইতো এক যুগ আগেও আমরা দেখেছি দেশ হতে কোনো গন্যমান্য কোনো ব্যক্তি আসলে সকলের অংশগ্রহণে তাকে সংবর্ধনা দেয়া কিম্বা কোনো সংষ্কৃতিক আয়োজন সফল করতে একযোগে কাজ করা। বর্তমান জামানায় আমরা কি দেখতে পাই কেউ একটা অনুষ্ঠানের কায্যক্রম শুরু করলে তার পেছনে লেগে থাকা। আর রাজনৌতিক দল সমূহ তাদের বিভক্তিতো সকলের জানা।

ফিনল্যান্ডে বর্তমানে বেশ কয়েকটি সাংস্কৃতিক জোট ও রাজনৌতিক দল তাদের কায্যক্রম পরিচালনা করে। ছাত্র ও সাংস্কৃতিক জোট সমূহে মতের অমিলের কারণে বেশ কিছু ভাঙ্গন আমরা দেখেছি কিন্তু তা শুধুই নিজেদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকেছে। তবে রাজনৌতিক দল সমূহের মতের অমিল তা রীতিমতো আমাদের দেশের রাজনৈতিক অপসংস্কৃতিকে বহন করে চলেছে। এখানে আমরা দেখতে পাই একে ওপরের উপর হামলা মামলা আর ব্যক্তিগত আক্রমণের অনন্য মহড়া যা আমাদের শান্তিপূর্ণ সহঅবস্থানের জায়গাকে কুলষিত করে তুলেছে তা শুধু আমাদের জন্য লজ্জার নয় জাতি হিসেবে আমরা কতটা নিচ কতটা হীন তা এই দেশের মানুষকে দেখিয়ে দিচ্ছি।

তবে সময় এসেছে এই সমস্ত অপকর্মকান্ড হতে নিজিদেরকে সামলে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার। আমার শুধুই এইটুকু বলবো এইবার আপনারা থামেন নচেৎ প্রকৃতিই একদিন আপনাদের থামিয়ে দিবে।

লেখক: সম্পাদক সাংবাদ ২১ ডটকম, আইএফজে স্বীকৃত ফ্রীলান্স সাংবাদিক, ফিনিশ সাংবাদিক ইউনিয়ন ও ইউরোপিয়ান সাংবাদিক নেটওয়ার্কের সদস্য।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: