বুধবার, ২২ মে ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
খালেদা জিয়ার সুবিধার্থে কেরানীগঞ্জে আদালত স্থাপনের সিদ্ধান্ত: তথ্যমন্ত্রী  » «   বুথফেরত জরিপের ফলেই ‘বিজয়োৎসব’ শুরু বিজেপির  » «   হুতি বিদ্রোহীদের হামলা, সৌদির পাশে থাকবে পাকিস্তান  » «   ধানক্ষেতে আগুনের ঘটনা তদন্তে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ  » «   মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বাড়ছে  » «   বালিশ দুর্নীতি: নির্বাহী প্রকৌশলী প্রত্যাহার  » «   এফআর টাওয়ার নির্মাণে ত্রুটি, তদন্ত প্রতিবেদনে দোষী ৬৭ জন  » «   ক্ষতিপূরণ দিতে গ্রিনলাইনকে আদালতের আল্টিমেটাম  » «   প্রখ্যাত তিন ইসলামি স্কলারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করছে সৌদি  » «   মৌলভীবাজারে কে এই ‘পীর’ আজাদ?  » «   ৮০ বছরের মধ্যে সাগরে ডুবে যাবে বাংলাদেশ!  » «   অনলাইনে ট্রেনের টিকিট: বিক্রি শুরুর আগেই টিকিট শেষ!  » «   আজ সিলেটের যে নয়টি এলাকায় গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকবে  » «   অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার বিক্রির দায়ে ইষ্টিকুটুম-মধুবনকে জরিমানা  » «   বুধবারীবাজার ইউনিয়ন আ.লীগ সভাপতি রফিক উদ্দিনের জানাযায় মানুষের ঢল  » «  

‘এনিকে ভালোবেসে আজ আমি অন্ধ’



নিউজ ডেস্ক::চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানা এলাকার গুডস হিলের সামনে ২০১৭ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি প্রেম ঘটিত কারণে এসিড হামলার শিকার হন তমাল চন্দ্র দে। তিনি পটিয়া উপজেলার কেলিশহর এলাকার বাবুল চন্দ্র দে’র ছেলে। এই এসিড হামলার ঘটনায় তমাল চন্দ্র দে’র দুটি চোখ একেবারে নষ্ট হয়ে গেছে।

তমালের সঙ্গে কয়েক মাস প্রেম করার পর এনি জানায় কয়েক মাস আগেই বিয়ে হয়েছে তার। প্রেমিকা এনির এমন কথায় রাগে মাথায় উত্তেজিত হয়ে তমাল থাপ্পড় দেয় এনিকে। ওই থাপ্পড়ের প্রতিশোধ নিতে তমালের মুখে অ্যাসিড মারে এনির স্বামী সুমিত ও তার সহযোগীরা।

এ সময় স্থানীয়রা এসিড দগ্ধ তমালকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসার পর তমালকে ভারতে নিয়ে যায় তার পরিবার। ভারতে চিকিৎসা করিয়েও কোনো প্রতিকার পায়নি। এসিডের কারণে তার দুই চোখই গলে যাওয়ায় দুটি চোখ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়।

শনিবার (৩১ মার্চ) দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের প্রধান কার্যালয়ে কথা হচ্ছিল তমালের সঙ্গে।

এর আগে, শুক্রবার (৩০ মার্চ) রাত ১১টার দিকে রাজধানী ঢাকার ভাটারা এলাকা থেকে ঘাতক সুমিত ধর (৩০) ও মমিতা দত্ত এনি (২৬) ধরা পড়ার খবরে সিএমপি কার্যালয়ে ছুটে আসে তমাল ও তার পরিবার।

এসিড হামলার শিকার তমাল বলেন, ২০১৫ সালের মার্চ মাসে ঘটনার শুরু। আমার বড় চাচার মেয়ের বিয়েতে পরিচয় হয় এনির সঙ্গে।

পরে কথা বলা শুরু হয়, এরপর ঘুরতে যাওয়া। এর মধ্যে আমাদের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ৪ ভালোই কাটে আমাদের। কিন্তু হঠাৎ একদিন জরুরি কথা আছে বলে দেখা করতে চায় এনি। আমিও গেলাম, যাওয়ার পর এটা-ওটা বলার পর এনি জানালো, অন্য আরেকটি ছেলের সঙ্গে গত ৫ বছর ধরে প্রেম চলছে তার। সেপ্টেম্বরে বিয়ে হয়েছে তাদের।

এ কথা শোনার পর ওকে একটা থাপ্পড় মেরে বলি, আরেক জনের সঙ্গে তোমার প্রেম, তবে আমার জীবন কেন নষ্ট করলে?

উত্তরে এনি হুমকি দিয়ে আমাকে বলে, এ থাপ্পড়ের জবাব আমিও দেব। এই ঘটনার দেড় বছর পর এনির স্বামী সুমিতের নেতৃত্বে আমার ওপর অ্যাসিড হামলার ঘটনা ঘটে। বলতে গেলে এনিকে ভালোবেসে দুটি চোখ হারিয়ে আজ আমি অন্ধ।

এসিড হামলার ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তমাল বলেন, ২০১৬ সালের শেষের দিকে ‘প্রজাপতির ডানা’ নামে একটি ফেসবুক আইডি থেকে আমার কাছে রিকোয়েস্ট আসে। আমি রিকোয়েস্টটি একসেপ্ট করি। পরে তার সঙ্গে চ্যাটিংয়ে কথা হয়। জানায় সে কলকাতা থেকে বলছে। এভাবেই দুই মাস যাওয়ার পর ওই আইডি থেকে জানানো হয়, তার কাকার সঙ্গে বাংলাদেশে এসেছে সে। দেখা করবে আমার সঙ্গে।

ফেসবুকেই নির্ধারিত হয় আমরা গুডস হিলের সামনে দেখা করবো। আমি সন্ধ্যার দিকে ওই এলাকায় পৌঁছাই। তখন দেখি দুই জন যুবক বেশ বড় বড় চোখ করে আমাকে লক্ষ্য করছে।

এর ঠিক ৩-৪ মিনিট পর হঠাৎ ওই যুবকরা আমার মুখে এসিড মারে। তখন আমি কিছু দেখতে পাচ্ছিলাম না। সারা মুখ জ্বলছিল। এর মাঝে একজনকে একটু আবছা আবছা চিনতে পারি। সে সুমিত। এনির স্বামী।

তমাল আরো বলেন, আমি অসহ্য যন্ত্রণায় কাতরাতে কাতরাতে যখন পানি পানি চিৎকার করছিলাম তখন একজন যুবক বলছিল, ‘এনির সঙ্গে প্রেম করার মজা দেখ।’
তমালের মা অর্চনা রাণী দে বলেন, আমার ভাসুরের (স্বামীর বড় ভাই) মেয়ের বিয়েতে যাওয়ার পর তমালের সঙ্গে এনির আলাপ-পরিচয় হয়। ওরা ৩-৪ মাস একসঙ্গে ঘোরাফেরা করে। কিন্তু তারও ৫ বছর আগে থেকে আরেকটি ছেলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল মেয়েটির।

অর্চনা রাণী দে আরো বলেন, এই বিষয়টি নিয়ে তমালের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়েছিল তার। পরে তমাল রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে তাকে থাপ্পড় মেরেছিল। সেই থাপ্পড়ের জবাব তারা দিয়েছে এসিড মেরে! এই এসিড হামলায় আমার ছেলে তার দুটি চোখ হারিয়েছে। পুরোপুরি ভাবে চোখ দুটি নষ্ট হয়ে গেছে।

অর্চনা রাণী দে ছেলের সঙ্গে ঘটে যাওয়া এমন নির্মম ঘটনার জন্য দোষীদের বিচার চেয়ে বলেন, ‘আমি ওই দুই জনের ফাঁসি চাই।’

এ বিষয়ে নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার হাসান মো: শওকত আলী বলেন, মামলাটি আমাদের জন্য বেশ চ্যালেঞ্জের ছিল। সুমিত ও তার সহযোগীরা বেশ চালাক প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে তাদের গ্রেফতার করা গেছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক রাজেশ বড়ুয়া বলেন, গত বছরের এপ্রিলে গোয়েন্দা পুলিশের হাতে আসে মামলাটি। কিন্তু কোনো ভাবেই এ দুই জনকে ট্রেস করা যাচ্ছিল না। শেষে গিয়ে খুব দুর্বল একটি সূত্র ধরে বেরিয়ে আসে সুমিত ও এনির ঠিকানা।

আদালত পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার নির্মলেন্দু বিকাশ চক্রবর্তী বলেন, গোয়েন্দা পুলিশের পক্ষ থেকে দুইজনকে ১০দিন করে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে। বিচারক শুনানি শেষে প্রত্যেকের পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: