শুক্রবার, ২০ জুলাই ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
নির্বাচনের আগে বিএনপির তিন শর্ত!  » «   রাজধানীতে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় স্বামী নিহত, স্ত্রী আহত  » «   ৬ বছর ধরে শিক্ষক শূন্য ৯টি বিভাগ, জনবল সংকটে বন্ধ হওযার পথে কলেজ  » «   মাদকবিরোধী অভিযানপুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ১  » «   প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনাশনিবার বন্ধ থাকবে রাজধানীর যেসব সড়ক  » «   কারাগারে গরমে অসুস্থ ১১ কয়েদি, একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক  » «   আলোচিত সেই পর্নস্টার স্টর্মি ড্যানিয়েলস গ্রেফতার  » «   রাজনগরে প্রচণ্ড গরমে ব্যবসায়ীর মৃত্যু  » «   বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বর্ণের ভল্টে ঢোকেন যারা  » «   সাংবাদিকদের ওবায়দুল কাদের‘বিএনপির রাজনীতিতে ভাটা চলছে, জোয়ার কবে ফিরবে তা কেউ জানে না’  » «   টাইগাদের দারুন জয়  » «   যে কারণে তাপমাত্র বেড়েছে, দু-একদিনের মধ্যে বৃষ্টির সম্ভাবনা  » «   যেসব কারণে ফল খারাপ  » «   মেয়ের সাথে প্রথমবার অমিতাভ বচ্চন  » «   সরকারি এডওয়ার্ড কলেজে শহীদদের স্মরণে বৃক্ষ রোপন কর্মসূচি পালন  » «  

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিএনপির ভাবনা



নিউজ ডেস্ক::আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দ্রুত পালটাতে শুরু করেছে বিএনপির রাজনীতি। জানা গেছে, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ না নিলেও একাদশ নির্বাচনে অংশ নেবেন তারা। এরই মধ্যে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে দলটি।

দলটির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপির উদ্যোগে ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত জনসভায় নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে নির্বাহী ক্ষমতা দিয়ে নির্বাচনে সেনা বাহিনী মোতায়েনেরও দাবি জানান বিএনপি নেত্রী। এ সময় ভোটে ইভিএম পদ্ধতি ব্যবহার না করতে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, ‘আজ ঘরে ঘরে কান্নার আহাজারি। এই সরকারের হাত থেকে মানুষ মুক্তি চায়, পরিবর্তন চায়। এই পরিবর্তন হতে হবে ভোটের মাধ্যমে। সেজন্য মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। এজন্য নিদর্লীয় নিরপেক্ষ সরকারের অীধনে অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে হবে। যেই নির্বাচন মানুষ নির্দ্বিধায় ভোট দিতে যাবে এবং তাদের ভোট তারা যাকে পছন্দ তাকে দেবে। সেই পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে পারে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে তারা কি ধরনের চুরি করেছে সবাই দেখেছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন, পেশাজীবিদের মধ্যে ইঞ্জিনিয়ার, চিকিৎসক, শিক্ষকের ভোটে তারা একই কাজ করেছে। চুরি করে জনগণকে পাশ কাটিয়ে নির্বাচনে জয়লাভে কোনো আনন্দ নাই। এরপরও তারা নিজেদেরকে বিজয়ী দাবি করে। কারন তারা জনগণকে ভয় পায়।’

‘আপনারা যদি জনগণের পাল বোঝেন যে তারা কি চাচ্ছে। জনগণ চাচ্ছে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন। কোনো দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে না। হাসিনার অধীনে নির্বাচন হবে না। নির্বাচন দিয়ে আপনাদের জনপ্রিয়তা যাচাই করুন।’

বিএনপি জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে চায় জানিয়ে প্রাক্তন এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সবাই যাতে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে নিজেদের ভোট নিজে দিতে পারে। সেজন্যই আমরা বলেছি নির্বাচন কমিশনের আমাদের কিছু কথা ইসির সংষ্কারের জন্য দিয়ে এসেছি। বলেছি যদি সুষ্ঠু নিবাচন অবাধ করতে হয় তাহলে সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে। আজকে নির্বাচন কমিশনকে বলি, সেনা মোতায়েন করতে হবে, ইভিএম হবে না।’

দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা আশাকরি সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হবে। এবং শেষ পর্যন্ত আমাদের দাবি মেনে নিয়ে জনগণের স্বার্থে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য সহায়ক সরকারের ব্যবস্থা করবেন।

তিনি বলেন, আগামী নির্বাচন নিয়ে আমাদের অবস্থান খুব স্পষ্ট। আগামী নির্বাচনে জনগণের ভোটে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তাদের স্বার্থ রক্ষার জন্য নির্বাচনে আমরা জয়লাভ করবোই। তবে আমাদের স্পষ্ট কথা হলো- সেই নির্বাচন হতে হবে নির্দলীয় সরকারের অধীনে।’

দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আগামী নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগ যদি ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মত চিন্তা করে তাহলে তারা ভুল করছে। আগামী নির্বাচনের জন্য দেশের মানুষ প্রস্তুত। তারা সরকার ও নির্বাচন কমিশনের কার্যকলাপ নিবিরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। আমরা আগামী একাদশ নির্বাচনে অংশগ্রহন কর‌ব। আমাদের চেয়ারপারসন খা‌লেদা জিয়া খুব শিগগিরই নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকা‌রের রুপ‌রেখা দে‌বেন। তখন আমরা সরকা‌রের আচরণ দে‌খে প্র‌য়োজ‌নে জনগ‌ণের কা‌ছে যা‌বো। কারণ জনগণ তা‌দের অধিপকার আদা‌য়ে রাস্তায় নাম‌বে আর আমরা বিএন‌পি পা‌শে থাক‌বো।

দলটির আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, তারা (আ,লীগ) একটা নির্বাচন দেক, দিতে কেন এত ভয় পায়। সামরিক বাহিনী নিয়ে তারা তাল বাহানা শুরু করেছে। তারা সেনাবাহিনীককে বিশ্বাসও করেন না। ভয়ও পান তোয়াজও করেন।

তিনি আরও বলেন, জনগণ এও বিশ্বাস করে অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ সে নির্বাচনে অংশ নেবে না।

 

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: