শুক্রবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ মাঘ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
লন্ডনে দ্বিতীয় জনপ্রিয় ভাষা বাংলা  » «   ঘুষের টাকাসহ হাতেনাতে সাব-রেজিস্ট্রার আটক  » «   আর কোনো হায়েনার দল বাংলার বুকে চেপে বসতে পারবে না  » «   সিলেটে মুক্তিযুদ্ধের পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ করলেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী  » «   ফের জাতীয় পার্টির ঢাকা জেলা শাখার সভাপতি সালমা ইসলাম এমপি  » «   বিয়ানীবাজারে ৯৯০ পিস ইয়াবাসহ পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী আটক  » «   আয়কর দিবস উপলক্ষে সিলেটে বর্ণাঢ্য র‌্যালি  » «   এবার শ্রীমঙ্গলে ট্রেনের ইঞ্জিনে আগুন  » «   বেলজিয়ামে মসজিদে তালা দেওয়ায় বাংলাদেশিদের প্রতিবাদ  » «   পায়রা উড়িয়ে জাতীয় পার্টির ঢাকা জেলা শাখার সম্মেলন উদ্বোধন  » «   ভারতের অর্থনীতির দুরবস্থা, জিডিপি কমে সাড়ে ৪ শতাংশ  » «   পায়রা উড়িয়ে সম্মেলন উদ্বোধন করলেন শেখ হাসিনা  » «   লন্ডন ব্রিজে আবারও সন্ত্রাসী হামলা, নিহত ২  » «   চীন থেকে মা-বাবার জন্য পেঁয়াজ নিয়ে এলেন মেয়ে  » «   রক্তে ভাসছে ইরাক, নিহত ৮২  » «  

একসঙ্গে পুড়ল তিন ভাইয়ের ‘স্বপ্ন’



নিউজ ডেস্ক:: বাবা-মার মুখে হাসি ফোটাবেন। সংসারে আনবেন সচ্ছলতা। ছেলে-মেয়েদের মানুষের মতো মানুষ করবেন। এমন স্বপ্ন নিয়েই রাজধানীর মালিবাগ কাঁচাবাজারে ফল ও বেকারির ব্যবসায় নেমেছিলেন তিন ভাই মো. আজিম, মো. মানিক ও মো. সুমন। তবে বৃহস্পতিবার ভোরে লাগা সর্বনাশা আগুন পুড়িয়ে ছাই করে দিয়েছে এই তিন ভাইয়ের স্বপ্ন।

যে প্রতিষ্ঠান ঘিরে তারা নতুন নতুন স্বপ্ন বুনছিলেন, সেই প্রতিষ্ঠান এখন শুধু ছাইয়ের অবশিষ্টমাত্র।আপেল, আঙুর, কমলা, বেদানা, বিস্কুট, চানাচুর-সব কিছুই পুড়ে ছাইয়ে পরিণত হয়েছে। ২৫ লাখ টাকার পণ্যের মধ্যে এখন আর এক টাকাও অবশিষ্ট নেই। সব কিছু হারিয়ে তাদের মুখে এখন রাজ্যের হতাশা।

আজ দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, আগুনেপোড়া দোকানের মধ্যে চরম হতাশা মুখে বসে আছেন সুমন। দু’চোখ বেয়ে পানি না পড়লেও টলমল করছিল। আর নির্বাক তাকিয়ে দেখছিলেন লাখ লাখ টাকার পুড়ে যাওয়া পণ্য।

সাংবাদিক পরিচয়ে দিয়ে সুমনের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘ভাই, আমাদের সব শেষ। দোকানে কিছু অবশিষ্ট নেই। একটা ফলও নেই। সব কিছু হারিয়ে এখন তো পথে বসে গেলাম। কোথাও কোনো টাকা মজুদ করে রাখিনি। সামনের দিনগুলো কীভাবে চলব?’

তিনি জানান, প্রায় ৩০ বছর আগে তার বড় ভাই মো. আজিম মালিবাগ কাঁচাবাজারে দোকান দেন। বড় ভাইয়ের হাত ধরেই পরবর্তীতে বছর পাঁচেক আগে তারা দুই ভাই ব্যবসায় নামেন। ছোট প্রতিষ্ঠান তিন ভাই মিলে ধীরে ধীরে বড় করেছেন। একটি দোকান থেকে দুটি দোকান করেছেন। তাদের যা পুঁজি ছিল তার সব দিয়েই দোকানের মাল কিনেছেন।

কথা বলতে বলতেই গলা ধরে আসে সুমনের। এ সময় পাশের দোকানে পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়া বেকারির পণ্য ঝাড়ু দিয়ে পরিষ্কার করছিলেন তার মেজ ভাই মানিক। ধরে আসা গলাতেই সুমন তার ভাইকে ডেকে বলেন, ‘ভাই, এনার সঙ্গে একটু কথা বলেন।’

এরপর মানিক বলেন, ‘দুই দোকানেই মাল তুলেছি এক সপ্তাহ হয়নি। ফলের দোকানে ফল ছিল প্রায় ২০ লাখ টাকার। বেকারির দোকানে ১০ লাখ টাকার ওপরে পণ্য ছিল। এখন কিছু নেই। আমাদের তিন ভাইয়ের যা পুঁজি ছিল তার সব দিয়েই এই দুই দোকারের মাল কেনা। এখন কারও কাছে কোনো পুঁজি নেই। এই দোকান আবার কীভাবে দাঁড় করাবো কিছুই বুঝতে পারছি না। আমাদের সব শেষ হয়ে গেছে।’

আগুন লাগার তথ্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে আগুন লাগার তথ্য পায়। সঙ্গে সঙ্গে এখানে ছুটে আসি। চোখের সামনেই সবকিছু পুড়ে ছাই হতে দেখেছি। কিছুই বাঁচাতে পারিনি।’

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: