শুক্রবার, ২৪ মে ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
পাবলিক পরীক্ষার সব ফি দেবে সরকার  » «   বাচ্চারা সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে ইভিএম, দাবি লালুপুত্রের  » «   আগামীকাল প্রাথমিকের প্রথম ধাপের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা  » «   পরাজিত হওয়া মানেই হার নয়: মমতা  » «   কুলাউড়ায় ওজন বাড়াতে চিংড়িতে বিষাক্ত জেলি!  » «   শতবর্ষী বৃদ্ধাকে ধর্ষণ: ‘আমাকে ছেড়ে দাও, আমি রোজা রাখছি’  » «   কিছুটা সময় লাগলেও ইসরাইল-আমেরিকার পতন অনিবার্য: ধর্মীয় নেতা  » «   মেয়াদোত্তীর্ণ সেমাই ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার তৈরি: সিলেটে ওয়েল ফুডকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা  » «   একক দল হিসেবেই ম্যাজিক ফিগারে মোদির বিজেপি!  » «   পারিবারিক কলহে সৎ মাকে কুপিয়ে জখম করেছে ছেলে  » «   রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে ১০ হাজার শিক্ষার্থীকে নিয়োগ দেয়া হবে: অর্থমন্ত্রী  » «   পবিত্র কোরআন কেটে ভেতরে ইয়াবা পাচার, ৩ রোহিঙ্গা আটক  » «   গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে একই পরিবারের চার জন নিহত  » «   খালেদার কারামুক্তি, এবারও ‘হ্যান্ডল’ করতে পারেনি বিএনপি!  » «   বালিশ মাসুদের খোলা চিঠি  » «  

একসঙ্গে পুড়ল তিন ভাইয়ের ‘স্বপ্ন’



নিউজ ডেস্ক:: বাবা-মার মুখে হাসি ফোটাবেন। সংসারে আনবেন সচ্ছলতা। ছেলে-মেয়েদের মানুষের মতো মানুষ করবেন। এমন স্বপ্ন নিয়েই রাজধানীর মালিবাগ কাঁচাবাজারে ফল ও বেকারির ব্যবসায় নেমেছিলেন তিন ভাই মো. আজিম, মো. মানিক ও মো. সুমন। তবে বৃহস্পতিবার ভোরে লাগা সর্বনাশা আগুন পুড়িয়ে ছাই করে দিয়েছে এই তিন ভাইয়ের স্বপ্ন।

যে প্রতিষ্ঠান ঘিরে তারা নতুন নতুন স্বপ্ন বুনছিলেন, সেই প্রতিষ্ঠান এখন শুধু ছাইয়ের অবশিষ্টমাত্র।আপেল, আঙুর, কমলা, বেদানা, বিস্কুট, চানাচুর-সব কিছুই পুড়ে ছাইয়ে পরিণত হয়েছে। ২৫ লাখ টাকার পণ্যের মধ্যে এখন আর এক টাকাও অবশিষ্ট নেই। সব কিছু হারিয়ে তাদের মুখে এখন রাজ্যের হতাশা।

আজ দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, আগুনেপোড়া দোকানের মধ্যে চরম হতাশা মুখে বসে আছেন সুমন। দু’চোখ বেয়ে পানি না পড়লেও টলমল করছিল। আর নির্বাক তাকিয়ে দেখছিলেন লাখ লাখ টাকার পুড়ে যাওয়া পণ্য।

সাংবাদিক পরিচয়ে দিয়ে সুমনের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘ভাই, আমাদের সব শেষ। দোকানে কিছু অবশিষ্ট নেই। একটা ফলও নেই। সব কিছু হারিয়ে এখন তো পথে বসে গেলাম। কোথাও কোনো টাকা মজুদ করে রাখিনি। সামনের দিনগুলো কীভাবে চলব?’

তিনি জানান, প্রায় ৩০ বছর আগে তার বড় ভাই মো. আজিম মালিবাগ কাঁচাবাজারে দোকান দেন। বড় ভাইয়ের হাত ধরেই পরবর্তীতে বছর পাঁচেক আগে তারা দুই ভাই ব্যবসায় নামেন। ছোট প্রতিষ্ঠান তিন ভাই মিলে ধীরে ধীরে বড় করেছেন। একটি দোকান থেকে দুটি দোকান করেছেন। তাদের যা পুঁজি ছিল তার সব দিয়েই দোকানের মাল কিনেছেন।

কথা বলতে বলতেই গলা ধরে আসে সুমনের। এ সময় পাশের দোকানে পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়া বেকারির পণ্য ঝাড়ু দিয়ে পরিষ্কার করছিলেন তার মেজ ভাই মানিক। ধরে আসা গলাতেই সুমন তার ভাইকে ডেকে বলেন, ‘ভাই, এনার সঙ্গে একটু কথা বলেন।’

এরপর মানিক বলেন, ‘দুই দোকানেই মাল তুলেছি এক সপ্তাহ হয়নি। ফলের দোকানে ফল ছিল প্রায় ২০ লাখ টাকার। বেকারির দোকানে ১০ লাখ টাকার ওপরে পণ্য ছিল। এখন কিছু নেই। আমাদের তিন ভাইয়ের যা পুঁজি ছিল তার সব দিয়েই এই দুই দোকারের মাল কেনা। এখন কারও কাছে কোনো পুঁজি নেই। এই দোকান আবার কীভাবে দাঁড় করাবো কিছুই বুঝতে পারছি না। আমাদের সব শেষ হয়ে গেছে।’

আগুন লাগার তথ্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে আগুন লাগার তথ্য পায়। সঙ্গে সঙ্গে এখানে ছুটে আসি। চোখের সামনেই সবকিছু পুড়ে ছাই হতে দেখেছি। কিছুই বাঁচাতে পারিনি।’

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: