বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ১০ মাঘ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
লন্ডনে দ্বিতীয় জনপ্রিয় ভাষা বাংলা  » «   ঘুষের টাকাসহ হাতেনাতে সাব-রেজিস্ট্রার আটক  » «   আর কোনো হায়েনার দল বাংলার বুকে চেপে বসতে পারবে না  » «   সিলেটে মুক্তিযুদ্ধের পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ করলেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী  » «   ফের জাতীয় পার্টির ঢাকা জেলা শাখার সভাপতি সালমা ইসলাম এমপি  » «   বিয়ানীবাজারে ৯৯০ পিস ইয়াবাসহ পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী আটক  » «   আয়কর দিবস উপলক্ষে সিলেটে বর্ণাঢ্য র‌্যালি  » «   এবার শ্রীমঙ্গলে ট্রেনের ইঞ্জিনে আগুন  » «   বেলজিয়ামে মসজিদে তালা দেওয়ায় বাংলাদেশিদের প্রতিবাদ  » «   পায়রা উড়িয়ে জাতীয় পার্টির ঢাকা জেলা শাখার সম্মেলন উদ্বোধন  » «   ভারতের অর্থনীতির দুরবস্থা, জিডিপি কমে সাড়ে ৪ শতাংশ  » «   পায়রা উড়িয়ে সম্মেলন উদ্বোধন করলেন শেখ হাসিনা  » «   লন্ডন ব্রিজে আবারও সন্ত্রাসী হামলা, নিহত ২  » «   চীন থেকে মা-বাবার জন্য পেঁয়াজ নিয়ে এলেন মেয়ে  » «   রক্তে ভাসছে ইরাক, নিহত ৮২  » «  

একজন দুর্ধর্ষ কেজিবি গুপ্তচরের গল্প



আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: একজন গুপ্তচরকে অবশ্যই একজন ভালো অভিনেত্রীও হতে হয়। আর এর জলজ্যান্ত প্রমাণ এলোনা ভাবাইলোবা। যিনি প্রায় দুই দশক ধরে নিজের পরিচয় গোপন রেখে ‘ট্রেসি ফোলি’ নামের এক কানাডিয়ান নারীর চরিত্রে ‘অভিনয়’ করেছেন। তার পরিচয় আশপাশের লোকজন জানত না, এমনকি তার বাচ্চারাও না।

ভাবাইলোবা ও তার স্বামী ছিলেন মূলত সোভিয়েত ইউনিয়নের দুর্ধর্ষ গোয়েন্দা সংস্থা কেজিবির এজেন্ড। তারা মূলত কেজিবির কাছে সরবরাহ করার জন্য তথ্য সংগ্রহ করতেন।

‘ট্রেসি ফোলি’ নামধারী এলেনা কানাডিয়ান নারীর ছদ্মবেশে কাটান বিশ বছর। অন্যদিকে তার স্বামীর নাম ছিল ‘ডোনাল্ড হিথফিল্ড’। যার আসল নাম ছিলো ‘আন্দ্রে বেজরুভকভ’। তারা দুজন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত কেজিবির আন্ডারকাভার এজেন্ট ছিলেন।

২০১০ সালে ভাবাইলোবা এবং বেজরুভকভকে তাদের বোস্টনের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) অভিযান চালিয়ে এ চক্রের ১০ সদস্যকে আটক করে। যার মধ্যে তারা দুজনও ছিলেন। এ চক্রের বেশিরভাগ সদস্য সাধারণ আমেরিকান বা কানাডিয়ান হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করতেন।

আটকের পর গোয়েন্দা বিনিময় চুক্তির আওতায় তাদের রাশিয়ায় পাঠিয়ে দেয় যুক্তরাষ্ট্র। তার সঙ্গে রাশিয়ার ফেরত অন্য দুজন দুর্ধর্ষ গোয়েন্দা ছিলেন অ্যানা চ্যাপম্যান ও সেরগেই ক্রিপাল।

সম্প্রতি ভাবাইলোবা তার গোয়েন্দা ক্যারিয়ার নিয়ে ‘দ্যা উইমেন হু কেন কিপস্ সিক্রেট’ শিরোনামে একটি বই লিখেছেন। যাতে তিনি সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে রাশিয়া পর্যন্ত কেজিবি এজেন্টদের ‘অবৈধ কার্যক্রমের’ বিরল সব তথ্য তুলে ধরেছেন।

প্রশিক্ষণ ভাবাইলোবা’র বইয়ের সূত্র ধরে জানায় যায় কেজিবি গোয়েন্দাদের দীর্ঘ সময় ধরে ভাষা শেখানো হতো। তাছাড়া কঠোর নজরধারী, কোডিং এবং অন্যান্য বিষয়গুলোতে কিভাবে প্রতিকূলতা মোকাবেলা করতে হবে তাও দেখানো হয় তাদের। তাছাড়া তারা যেসব জায়গা সম্পর্কে জানেন না তাতে অবাধ বিচরণের জন্য তাদের কিছু কৌশল শিখিয়ে দেওয়া হয়।

বাস্তবে তিনি এবং বেজরুভকভ বিয়ে করেন সোভিয়েত ইউনিয়নে থাকাকালীন সময়। তারা ১৯৮০ দশক শেষে আলাদা আলাদাভাবে কানাডায় যান এবং সেখানে গিয়ে দ্বিতীয়বার বিয়ে করেন। তারা কানাডায় কখনো রাশিয়ান ভাষায় কথা বলতে পারেননি। এ সময়টাতে তারা খুব সাবধানে শুদ্ধ ইংরেজী বলতেন।

গ্রেপ্তারের আগে এই দম্পতি বোস্টনে বাস করছিলেন। এখান থেকে বহু বাধা পেরিয়ে কেজিবি হেড কোয়ার্টারে তথ্য পাঠাতেন। ভাবাইলোবা বইয়ের বেশিরভাগ জায়গা জুড়ে তার দুই সন্তানকে নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি জানান, যখন এফবিআই তাকে এবং তার স্বামীকে আটক করেন, তখন তার ছেলে অ্যালেক্সের বয়স ছিল ১৬ এবং টিমের বয়স ছিল ২০। তাদের গ্রেপ্তারের সময়ও তাদের সন্তানরা জানতেন তারা বাবা-মা সাধারণ কানাডিয়ান।

ভাবাইলোবার গল্পটি মার্কিন টেলিভিশন সিরিজ ‘দ্যা আমেরিকান’ ভক্তদের কাছে পরিচিত। কারণ এর নির্মাতা তাদের পরিবারের কাহিনী নিয়ে শোটি তৈরি করেছিলেন। যেখানে তার জীবনের ১৯৮০ এর দশক থেকে আটকের সময় পর্যন্ত দেখানো হয়। ভাবাইলোবা বলেন, ছোট এই টিভি সিরিজটি আসলেই অনেক বাস্তব সম্মত।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: