মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর ২০১৭ খ্রীষ্টাব্দ | ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
লিপস্টিক যখন মাজাদার খাবার!  » «   কিশোরী ধর্ষণের প্রমান মেলায় ২ নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র  » «   শিক্ষার্থীদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ শিক্ষা দিতে হবে- রেজাউল রহিম লাল  » «   মাশরাফির রংপুরের কাছে নাসিরের সিলেটের পরাজয়!  » «   যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় নারীর মৃত্যু  » «   সালমানের স্ত্রী-সন্তান থাকে বিদেশে!  » «   পুলিশ পেটালো ছাত্রলীগ!  » «   চুয়াডাঙ্গায় সাপের কামড়ে একজনের মৃত্যু  » «   বিপিএল পয়েন্ট টেবিলে কে কোথায় দাঁড়িয়ে  » «   আম্পায়ারের সঙ্গে সাকিবের এ কেমন আচরণ!  » «   সংসদে বাদলকে তুলোধুনো করলেন নৌমন্ত্রী  » «   ৭ মার্চ কেন জাতীয় দিবস নয় : হাইকোর্ট  » «   আজ সুফিয়া কামালের জন্মদিন  » «   অভিবাসীবিরোধী নন ট্রাম্প  » «   আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধন করবেন শাহরুখ  » «  

এই সুন্দরীদের সঙ্গে সঙ্গম তো দূর, স্পর্শেই মৃত্যু অনিবার্য!



বিচিত্র ডেস্ক::ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সূর্য এবং তাঁর রূপের মায়াজাল‚ দুটোর কোনওটাই অস্ত যায় না। তিনি কুহকিনী।

আলো আঁধারির মোহাবেশে জড়িয়ে গেছে বিষকন্যা পরিচয়ও। কারণ অতি বড় সুন্দরীর মতো তিনিও ঘর পাননি। ইন্ডাস্ট্রিতে একাধিক সুপুরুষের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে নাম। কিন্তু বর পেয়েছেন ক্ষণিকের জন্য। তাই তিনি বিষকন্যা। জানবেন নাকি ভারতীয় সংস্কৃতিতে ঠিক কাকে বলে আসা হয়েছে বিষকন্যা?

ভারতীয় ইতিহাসে বহু প্রাচীনকাল থেকেই প্রচলিত বিষকন্যারীতি। বলা হয়‚ এই ললনাদের দেহে শিরা ধমনী বেয়ে প্রবাহিত হয় গরল। তাঁদের সঙ্গে সঙ্গম তো দূর অস্ত। সামান্য স্পর্শেই মৃত্যু অনিবার্য।

আগুন ধরানো এই সুন্দরীদের ব্যবহার করত রাজা মহারাজা সম্রাটরা। বিনা যুদ্ধে শত্রুবিনাশে। কল্কিপুরাণ‚ শুকসপ্ততী এবং চাণক্য রচিত অর্থশাস্ত্রে একাধিকবার এসেছে বিষকন্যাদের কথা। গন্ধর্ব চিত্রগ্রীবার স্ত্রী সুলোচনা নাকি ছিলেন এক বিষকন্যা।

শুধু ভারতীয় সভ্যতাই নয়। অন্যান্য প্রাচীন সভ্যতাতেও উল্লেখ আছে বিষকন্যাদের। সভ্যতার আদিপর্বের সেই সমাজে নির্দিষ্ট করে বেছে নেওয়া হতো মেয়েদের। যদি দেখা হতো পরমা সুন্দরীদের ভাগ্যে বৈধব্যযোগ আছে তবে তাঁদের আর স্বাভাবিক জীবনে থাকতে দেওয়া হতো না।

বিচ্ছিন্ন জীবনে বরাদ্দ হতো বিশেষ পথ্য। শিশু বয়স থেকে তাঁদের দেহে প্রবেশ করানো হতো তিল তিল করে বিষ। বিষে বিষে বিষক্ষয় অনিবার্য। তাঁদের কেউ বিষপ্রয়োগ করে হত্যা করতে পারত না। কিন্তু তাঁরা কারওর সঙ্গে সঙ্গমে লিপ্ত হলে হত্যা অবশ্যম্ভাবী। ইংরেজিতে একে বলা হয় ‘Mithridatism’।

নন্দরাজার মন্ত্রী নাকি এক বিষকন্যাকে পাঠিয়েছিলেন চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যকে হত্যার লক্ষ্যে। কিন্তু চাণক্যের কূটবুদ্ধিতে পাল্টে যায় শিকার। চন্দ্রগুপ্তের বদলে সে হত্যা করে বসে পর্বতককে।

আধুনিক গবেষকরা বলে থাকেন‚ অতীতের অনেককিছুর মতোই বিষকন্যা নিয়েও অতিরঞ্জন হয়েছে। সঙ্গম বা স্পর্শ বা দৃষ্টি নয়। আদপে এই সুন্দরীরা মদিরায় বিষ মিশিয়ে বধ করত শিকারকে। সাহিত্য‚ চলচ্চিত্রে ঘুরে ফিরে এসেছে বিষকন্যা বাPoison Girl-এর প্রসঙ্গ। কিন্তু কোনও সমাজেই বিষপুরুষ দেখা যায়নি।

পুরুষের ইচ্ছায়‚ অঙ্গুলিহেলনে কন্যারাই বহন করেছেন বিষ। যদিও পুরাণে এক পুরুষই নীলকণ্ঠ। কিন্তু সে তো পবিত্রতার বিষ। পঙ্কিল ষড়যন্ত্রের বিষ ধারণ করার জন্য নারীর থেকে ভাল আধার আর হয় নাকি !

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: