সোমবার, ২৫ মার্চ ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ১১ চৈত্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
একাত্তরের গণহত্যা আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোতে তুলবে জাতিসংঘ  » «   এ বছর থেকেই তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত থাকছে না পরীক্ষা  » «   মসজিদে হামলা: ৮ দিনেও জ্ঞান ফেরেনি চার বছর বয়সী আলিনের  » «   মালিতে ১৩৪ মুসলিম আদিবাসীকে গুলি করে হত্যা  » «   ইভিএমএ ভোট দেই এক জায়গায়,আরেক জায়গায়  » «   ভোটকেন্দ্র দখল নিয়ে দু’পক্ষের গোলাগুলি, গুলিবিদ্ধ পুলিশ সদস্য  » «   আড়াই ঘণ্টায় ভোট পড়েছে ৩টি!  » «   ব্রেক্সিট ঠেকাতে ফের গণভোট ও মে’র পদত্যাগ দাবিতে উত্তাল ব্রিটেন  » «   যুক্তরাষ্ট্র সীমান্তে চরম হেনস্থার শিকার ৯ বছরের বালিকা  » «   রাতেই ব্যালটে সিল মারায় নির্বাচন স্থগিত  » «   বাসচাপায় সিকৃবি ছাত্র হত্যা, চালক-হেলপার গ্রেফতার  » «   উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তৃতীয় ধাপের ভোটগ্রহণ চলছে  » «   লাগামহীনভাবে বাড়ছে দ্রব্যমূল্য: রমজানপূর্ব মজুদদারিতে কারসাজি  » «   সন্ত্রাস ও হিংসা মোকাবেলায় একসঙ্গে কাজ করতে পাকিস্তানকে আহ্বান মোদির  » «   সংসদে লুকিয়ে চকলেট খেয়ে ক্ষমা চাইলেন ট্রুডো!  » «  

এইচএসসি পরীক্ষার ব্যবহারিক পূর্ণ নম্বরের নিশ্চয়তা দিয়ে টাকা আদায়



নিউজ ডেস্ক::প্রতিবাদ ও বিক্ষোভের মুখে তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ের নম্বর পাইয়ে দিতে পরীক্ষার্থীদের কাছে থেকে আদায়কৃত টাকা অবশেষে ফেরত দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এন এস সরকারী কলেজ কর্তৃপক্ষ। সোমবার (১৯ মার্চ) সকালে অর্ধশতাধিক পরীক্ষার্থী টাকা তোলা বন্ধের দাবীতে কলেজ ক্যাম্পাসে জমায়েত হয়।

তারা কলেজ প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করলে প্রাথমিকভাবে আদায়কৃত টাকা ফেরত ও নতুন করে টাকা আদায় বন্ধের ঘোষণা দেয় কর্তৃপক্ষ।

জানা যায়, এন এস কলেজের ব্যবসায় শিক্ষা শাখা থেকে চলতি বছর ২৩২ জন পরীক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। এপ্রিলের শুরু থেকে অনুষ্ঠিতব্য ওই পরীক্ষায় তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ের নম্বর পাইয়ে দিতে ব্যবসায় শিক্ষা শাখার পরীক্ষার্থীদের নিকট থেকে ৩০০ টাকা করে আদায় শুরু করা হয়।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মাহাবুব হাসান তার নিজ বাড়িতে বসে চারটি গ্রুপের মাধ্যমে এ টাকা তুলছিলেন। ব্যবহারিক পরীক্ষায় ২৫ নম্বর পাইয়ে দেয়ার আশ্বাস দিয়ে গত ২ দিনে প্রায় ৫০ জন পরীক্ষার্থীর নিকট থেকে ছাত্র মারফত এ টাকা তুলেছেন মাহবুব হাসান। বাকী দেড় শতাধিক পরীক্ষার্থীর টাকা আগামী দুই দিনে তোলার কথা ছিল তার। ২৩২ জন পরীক্ষার্থীর নিকট থেকে প্রায় ৭০ হাজার টাকা তোলার টার্গেট করা হয়।

সোমবার সকালে কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করে টাকা দেয়া ৫৪ জন পরীক্ষার্থীর একটি তালিকা দিতে কলেজের অধ্যক্ষ শামসুজ্জামানের কাছে যায় বিক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থীরা। কিন্তু ব্যস্ত থাকায় অধ্যক্ষ পরীক্ষার্থীদের সাথে দেখা করেননি। ওই পরীক্ষার্থীরা তখন উপাধ্যক্ষ নূর কুতুব উল আলমের কাছে গেলে বিষয়টি বিবেচনার জন্য পুনরায় অধ্যক্ষের কাছে পাঠান তিনি।

অধ্যক্ষ বিষয়টি দেখার জন্য শিক্ষক পরিষদ সভাপতি ফরহাদ মন্ডলকে নির্দেশ দিলে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে টাকা তোলা বন্ধ করেন তিনি। এ সময় উত্তোলিত টাকা ফেরত দেওয়ারও ঘোষণা দেন তিনি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন পরীক্ষার্থী জানায়, শিক্ষক মাহবুব হাসান কয়েকমাস আগে একই বিষয়ের জন্য পরীক্ষার্থী প্রতি ৫০ টাকা করে আদায় করেন ৪ দিন ব্যবহারিক ক্লাস করানোর বিনিময়ে। সম্প্রতি তিনি, ব্যবহারিকে ২৫ নম্বরের গ্যারান্টি দিয়ে পুনরায় ৬০০ টাকা করে চান পরীক্ষার্থী প্রতি। টাকার পরিমাণ বেশি বলে আপত্তি জানালে কমিয়ে ৩০০ টাকা করে নির্ধারণ করা হয়।

এ ব্যাপারে ব্যবস্থাপনা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মাহাবুব হাসানের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তিনি গত দুদিন ক্যাম্পাসে ছিলেন না। ছুটিতে রয়েছেন। তাহলে টাকা তুললেন কিভাবে। আর ভর্তির সময়ই বিধি অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের কাছে থেকে ৩০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। তাই টাকা তোলার প্রশ্নই ওঠেনা। শিক্ষার্থীদের কাছে হেয় করতে ষড়যন্ত্র করে তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তুলে অপপ্রচার করা হচ্ছে।

এদিকে টাকা আদায় বন্ধে পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভের কথা অস্বীকার করে কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর সামসুজ্জামান জোর দিয়ে বলেন, শিক্ষক মাহবুব হাসান এমন কাজ করতে পারেন না । তার বাড়িতে বসে টাকাগুলো আদায় করার অভিযোগও বিশ্বাসযোগ্য মনে হচ্ছেনা। তিনি ছুটিতে রয়েছেন। ছুটি থেকে ফিরলে তাকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হবে।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: