মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
ইসি প্রশ্নবিদ্ধ ভোট করতে চায় না: সিইসি  » «   বিয়ানীবাজারে ‘পুলিশ প্রহরায়’ নাহিদের প্রচারণা!  » «   হবিগঞ্জে ধানের শীষ পেলেন রেজা কিবরিয়া  » «   কাতারে কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম সিলেটের সাইয়্যেদ  » «   প্রিয়ডটকম-বিএনপিনিউজ২৪-সিএনএনবিডি২৪ সহ ৫৮ নিউজ পোর্টাল বন্ধের নির্দেশ  » «   আজ থেকে শুরু জাতীয় ভ্যাট দিবস ও ভ্যাট সপ্তাহ  » «   নিজেকে ট্রাম্পকন্যা দাবি এক পাকিস্তানি তরুণীর!  » «   প্রতীক বরাদ্দ আজ, শঙ্কা নিয়ে শুরু হচ্ছে ভোটযুদ্ধ  » «   আজ খালেদা জিয়ার ভাগ্য নির্ধারণ  » «   নৌকা প্রতীকে লড়বেন জাতীয় পার্টির যে ২৯ প্রার্থী  » «   জাপা পেলো ৩০ আসন, উন্মুক্ত ১৩২  » «   মেয়র পদে থেকেই সংসদ নির্বাচন করা যাবে: হাইকোর্ট  » «   সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি প্রবেশ করছে: প্রধান বিচারপতি  » «   প্রার্থিতা ফিরে পেতে হাইকোর্টে হিরো আলম  » «   যেসব আসনে ধানের শীষের প্রার্থী পরিবর্তন  » «  

উকিল নোটিশ : প্রধানমন্ত্রীর জবাব না পেয়ে চুপ খালেদার আইনজীবী



নিউজ ডেস্ক::সৌদি আরবে বিপুল সম্পদ এবং অর্থপাচারের অভিযোগ তোলার পর ক্ষমা চাওয়ার দাবিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেয়া উকিল নোটিশের জবাব না পেয়ে চুপ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আইনজীবী।

গত ১৯ ডিসেম্বর বিএনপি প্রধানের আইনজীবী এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের পক্ষ থেকে পাঠানো ওই নোটিশে এক মাসের মধ্যে সব জাতীয় দৈনিক ও ইলেকট্রনিক্স মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল। নইলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দেয়া হয়।

কিন্তু এই নোটিশের পাল্টা কোনো চিঠি পাননি খালেদা জিয়ার আইনজীবী। আর তিনি তার ঘোষিত সেই আইনি ব্যবস্থার পথেও আর হাঁটেননি। নোটিশ প্রদানকারী আইনজীবী মাহবুব উদ্দিন খোকন জানান, নোটিশের জবাব এখনো পাইনি। ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) পরবর্তী নির্দেশনার অপেক্ষায় আছি। তিনি যেটা করতে বলবেন সেটা করব।

দুর্নীতির এক মামলায় কারাদণ্ড হওয়ার পর গত ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়া ঢাকার পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী। তার বিরুদ্ধে আরও চারটি দুর্নীতির মামলাসহ মোট ৩৪টি মামলা রয়েছে।

গত ৭ ডিসেম্বর গণভবনে করা সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়ার বিরেুদ্ধে সৌদি আরবে বিপুল সম্পদ থাকার অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো একটি ভিডিওকে ভিত্তি করে তার এই অভিযোগ তোলার পরদিন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দেন। আর ২০ ডিসেম্বর সংবাদ সম্মেলন করে প্রধানমন্ত্রীকে আইনি নোটিশ পাঠানোর কথা জানান ফখরুল।

১৯ ডিসেম্বর পাঠানো নোটিশে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগ প্রত্যাহার করে ক্ষমা না চাইলে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী।

গণভবনের সংবাদ সম্মেলনে যা বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী: একটি বিদেশি টেলিভিশনের সংবাদ হিসেবে ছড়ানো ভিডিওতে বলা হয়, খালেদা জিয়া সৌদি আরবে আল আরাফাহ নামে একটি শপিং মল এবং একটি বহুতল বাণিজ্যিক ভবনের মালিক। তার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর নামে কাতারে আরও একটি বাণিজ্যিক ভবন রয়েছে। খালেদার পরিবার ১২টি দেশে ১২ বিলিয়ন ডলার বা বাংলাদেশের মুদ্রায় প্রায় এক লাখ কোটি টাকার মালিক বলে ওই ভিডিওতে বলা হয়েছে।

কম্বোডিয়া সফর নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী খালেদা পরিবারের বিরুদ্ধে অর্থপাচারের অভিযোগ এনে বলেন, ‘মানিলন্ডারিং করে পাঠানো টাকা ফেরত এনেছি (খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর) এবং প্রক্রিয়া চলছে। সম্প্রতি বের হয়েছে সৌদি আরবে এবং এটা খুঁজে বের করে দিয়েছে সৌদি আরব। তারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে, কী করছে তারা জানে। তবে অবশ্যই জনগণের টাকা যারা এভাবে বাইরে গিয়ে নিজেদের বিলাসবসনে ব্যবহার করছে; দেশের মানুষকে বঞ্চিত করবে, দেশের মানুষ তাদের বিচার করবে।’

‘আইন অনুযায়ী মানি লন্ডারিং এর বিচার বাংলাদেশে হবে এবং এটা হওয়া উচিতও। কারণ এভাবে দেশের উন্নয়ন না করে, দেশের মানুষকে বঞ্চিত করে, দেশের মানুষকে কষ্ট দিয়ে বাইরে এভাবে সম্পত্তি বানানোর কী অধিকার আছে, এটা আমাদেরও প্রশ্ন। অবশ্যই এর বিচার হবে, এতে কোনো সন্দেহ নাই্।’

প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানো আইনি নোটিশে যা ছিল: প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে পাঠানো নোটিশে বলা হয়, খালেদা জিয়া একং তার ছেলেদের সম্পর্কে শেখ হাসিনা যে অভিযোগ এনেছেন তাকে সাজানো, বানোয়াট, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বিদ্বেষমূলক। খালেদা জিয়ার সুনাম বিনষ্ট করার হীন উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এসব অভিযোগ এনেছেন শেখ হাসিনা। এই অভিযোগ খালেদা জিয়ার প্রতি অবমাননা ও ঘৃণার সৃষ্টি এবং তাকে হাস্যকর করার জন্য করা হয়েছে।

নোটিশে আরও বলা হয়, আপনার এই বেপরোয়া ও বিদ্বেষপূর্ণ কটূক্তি একাধারে পরনিন্দা, অপবাদপূর্ণ ও মানহানিকর, যা বেগম খালেদা জিয়ার সর্বোচ্চ সুনাম সম্মান সততা এবং মর্যাদাকে বিনষ্ট করার এবং দেশে ও বিদেশে তাকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে খাটো করার হীন উদ্দেশ্য করা হয়েছে। এই মানহানিকর বিবৃতির কারণে অপূরণীয় লোকসান ও ক্ষতি হয়েছে যার জন্য আইনত আপনি দায়ী। নোটিশে এই চিঠি পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহার করে সব জাতীয় দৈনিকের প্রথম পাতায়, ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া, অনলাইন সংবাদপত্র এবং সামাজিক মাধ্যমে আউটলেটে যথাযথভাবে প্রকাশ ও প্রচার করার আহ্বান জানানো হয়।

নোটিশের প্রতিক্রিয়ায় যা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী: খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে আইনি নোটিশ পাঠানোর দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় পর গত ৬ জানুয়ারি গণভবনে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি বিদেশি গণমাধ্যমের খবর তুলে ধরেছি। সে খবর যেখান থেকে এসেছে সেখানে উকিল নোটিশ পাঠাক, আমাকে কেন? তার (খালেদা জিয়া) গোটা পরিবারের সম্পদের হিসাব বের করে আন্তর্জাতিক মিডিয়া। আর এটা বললাম কেন এজন্য আমাকে নোটিশ দেয়। এ রকম নোটিশ বহু দেখেছি, সময়মত জবাব দেবো।

যদি সৎ সাহস থাকে আর সত্যি কোন অপরাধ না করে থাকেন তাহলে যেসব মিডিয়া খবর দিয়েছে তাদের নোটিশ দিন। তাদের প্রতিবাদ জানান। তাহলে বুঝব সততার একটা শক্তি আছে। কিন্তু সেটাও পারেননি।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: