বৃহস্পতিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৭ খ্রীষ্টাব্দ | ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
বরখাস্তকৃত ন্যানগ্যাগওয়াই হচ্ছেন জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট  » «   খালেদার গাড়িবহরে হামলা সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের পরিকল্পনার অংশ  » «   এক মোটরসাইকেলেই বিশ্ব রেকর্ড  » «   কাঁদলেন ঐশ্বরিয়া, ১শ শিশুর ঠোঁটের অস্ত্রোপচারে খরচ দিবেন  » «   কাল থেকে পুনরায় চালু হচ্ছে চুয়েট বাস  » «   বলি একটা লেখেন আরেকটা: সাংবাদিকদের রোনালদো  » «   এসএসসি পরীক্ষা শুরু ১ ফেব্রুয়ারি  » «   মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে হবে ছাত্রলীগের স্কুল কমিটি  » «   এগিয়ে থাকুন সৃজনশীলতায়  » «   সংসদে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ১ বছরে সাড়ে ৩ কোটি ইয়াবা জব্দ  » «   শ্রীমঙ্গলে বড় ভাইয়ের হাতে ছোট ভাই খুন  » «   দখলমুক্ত হচ্ছে খাল ও নদী  » «   কুমিল্লায় হানিফ‘আ’লীগকে হুংকার দিয়ে লাভ নেই’  » «   কমলগঞ্জে প্রতিহিংসায় বিনষ্ট কৃষকের শিম বাগান  » «   অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ সহ নানা অভিযোগ  » «  

ইভিএম ছাড়াই হবে ভোটগ্রহণ



নিউজ ডেস্ক::রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সীমিত পরিসরে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর ধারাবাহিকতায় সকল সিটিতে সীমিত আকারে ইভিএম ব্যবহার করা হবে। সিটি করপোরেশন ছাড়াও কোন কোন স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও ইভিএম ব্যবহারের চিন্তা করছে নির্বাচন কমিশন। তবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার হচ্ছে না। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন নির্বাচন কমিশনের ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ।

তিনি বলেন, রংপুর সিটিতে পরীক্ষামূলকভাবে সীমিত আকারে ইভিএম ব্যবহার করা হবে। সামনের স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও এটা ব্যবহার করা হবে। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার হবে না।

ইসি সূত্র জানায়, একাদশ জাতীয় সংসদের রোডম্যাপে ইভিএম এর বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি। তাছাড়া ইভিএম ব্যবহার নিয়ে ইসির কাছে পাল্টাপাল্টি প্রস্তাব এসেছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের প্রস্তাব এসেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে।

অপরদিকে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপে বিএনপি বলেছে, জাতীয় নির্বাচনে কোনোভাবেই ইভিএম বা ডিভিএম পদ্ধতি বা এ জাতীয় কোনো যন্ত্র ব্যবহার করা যাবে না। শুধু বিএনপি নয়। অধিকাংশ রাজনৈতিক দল ইভিএম ব্যবহারের বিপক্ষে মত দিয়েছে।

এ অবস্থায় নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে রাজনৈতিক দলগুলো। অপরদিকে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে পুরনো প্রায় এক হাজার ইভিএম অকেজো করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে ইসি। এ লক্ষ্যে একটি কমিটিও কাজ করছে। আর নতুন করে ইভিএম তৈরির কাজও চলছে। সেগুলো ব্যবহার হবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোটগ্রহণের কাজে সীমিত আকারে।

ইসি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা হবে প্রায় ৪০ হাজার। এই নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত হলে প্রায় আড়াই লাখ ইভিএম প্রয়োজন হবে। ভোটের আর বাকী আছে একবছর। এত বিপুল পরিমাণ ইভিএম তৈরি কঠিন হবে। তাছাড়া এসব মেশিনের ওপর নির্বাচন কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ প্রদান করতে হবে। সর্বোপরী ভোটারদের নতুন একটি প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভোটদানের উপযোগী করে তোলা প্রায় অসম্ভব। যেখানে ভোটাররা ব্যালটে ভোট দিতে অনেক ক্ষেত্রে সঠিকভাবে ভোট দিতে পারে না। ফলে অনেক ভোট নষ্ট হয়। এর আগে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা।

অনুষ্ঠানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা বলেছেন, ইভিএম ব্যবহারের দরজা বন্ধ হয়নি। স্থানীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার হবে। সংলাপে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তাবের ওপর ভিত্তিতে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে বিপুল পরিমাণ ইভিএম তৈরি, কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ প্রদান ও ভোটারদের সচেতনতা সৃষ্টির সক্ষমতা হয়েছে কিনা দেখতে হবে।

ইসি সূত্র জানায়, এক-এগারোর ড. শামসুল হুদা কমিশনের কেনা ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন ইভিএম অকেজো করার প্রক্রিয়া চলছে। সে সময় কেনা সব ইভিএম অকেজো-পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হচ্ছে। ইসি এই কাজটির জন্য আট সদস্যের একটি যাচাই-বাছাই কমিটি গঠন করেছে। তাদের দেওয়া সুপারিশের আলোকে এগুলো অকেজো করা হবে। এটিএম শামসুল হুদার নেতৃত্বাধীন কমিশনের ইভিএম বাদ দিয়ে নতুন ইভিএমে আগামীতে নির্বাচন করার কথা ভাবছে ইসি। ইতোমধ্যে নতুন ইভিএমের কাজ অনেক দূর এগিয়েছে।

ইসি সূত্র আরও জানায়, ২০১০ সালের দিকে ইভিএম ব্যবহার নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। আর চসিকের কয়েকটি ওয়ার্ডে প্রথম উদ্ভাবিত ইভিএমে ভোট হয়। এরপর ধারাবাহিকভাবে বেশকিছু সিটি নির্বাচনে ইভিএমে ভোটগ্রহণ করা হয়। এসব নির্বাচনে ত্রুটি ধরা পড়ায় ওইসব ইভিএম অকেজো করার সিদ্ধান্ত হয়।

আগামী ২১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য রংপুর সিটি কর্পোরেশন (রসিক) নির্বাচনে পুরাতন ইভিএমে ভোটগ্রহণ করা হবে। ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ এ প্রসঙ্গে বলেন, নতুন ইভিএম আমাদের হাতে নেই। তাই স্বাভাবিকভাবে আগেরটাই ব্যবহার হতে পারে। এটা পরীক্ষামূলকভাবে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত হবে। ক্রমান্বয়ে বাকী সব স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সীমিত আকারে ইভিএম ব্যবহারের লক্ষ্য ইসির।

রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সময় ইভিএম ব্যবহারে পরিকল্পনার বিষয়ে কে এম নূরুল হুদা বলেন, আমরা চেষ্টা করবো ইভিএম ব্যবহারের। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে সীমিত আকারে ইভিএম ব্যবহার করবো। নতুন মেশিন ব্যবহার হবে।

পুরনো ইভিএমের ক্রুটির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এটা বিবেচনার রেখেই আমরা ইভিএম ব্যবহার করবো। ভুলের যেন পুনরাবৃত্তি নাহয়। নির্ভুলভাবে ও গ্রহণযোগ্যভাবে যেন ব্যবহার করা হয়। আমরা ইভিএম ব্যবহারে ঝুঁকি নেবো না। ভুল-ভ্রান্তির আশঙ্কা থাকলে আমরা ঝুঁকি নেবো না।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: