রবিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭ খ্রীষ্টাব্দ | ৯ আশ্বিন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে শিক্ষককে হত্যার হুমকি  » «   স্কুলের ঘন্টা বাজালেন রুহানি!  » «   উল্টো পথে প্রতিমন্ত্রীর গাড়ি: অর্ধশত যানবাহনকে জরিমানা  » «   বিএনপি কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা  » «   সপ্তম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ: চেয়ারম্যানসহ আসামি ৭  » «   ‘আলোচনার মাধ্যমে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান সম্ভব’  » «   রোহিঙ্গাদের গণধর্ষণের প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘ  » «   অবশেষে রিয়ালের স্বস্তির জয়  » «   সিরিজ বাঁচিয়ে রাখতে চায় অস্ট্রেলিয়া  » «   বালাগঞ্জে গ্রাম আদালত বিষয়ক প্রশিক্ষন সম্পন্ন  » «   তখনও প্রসবকালীন রক্ত ঝরছে তার শরীর থেকে  » «   টাঙ্গাইলে চলছে ভোটগ্রহণ  » «   কিশোরী স্কুলছাত্রীদের যৌনদাসী বানিয়ে রাখেন কিম!  » «   বুদ্ধি কমিয়ে দিচ্ছে যে খাবার  » «   আইফোনের তুলনায় পাঁচ গুণ সস্তা টাইগাফোন  » «  

ইউরোপে মানব পাচারের শিকার বাংলাদেশিরা



ভূঁইয়া এন জামান
ইউএনএইচসিআর এক প্রতিবেদনা দেখা যায় প্রতিবছর প্রায় সাড়ে চার কোটি লোক শরণার্থী হচ্ছে, এর মধ্যে পৌনে তিন কোটিই তাদের সীমান্ত অতিক্রম করে অন্য দেশে পাড়ি জমাচ্ছে, এদের মধ্যে ৫৫ শতাংশই যুদ্ধের কারণে দেশ ত্যাগ করছে, বাকি যারা আছেন তাদের সীমান্ত পাড়ি দেবার কারণগুলো মধ্যে জাতিগত সংঘাত, দারিদ্র্যতা, আইএস জঙ্গিদের দৌরাত্ম্য, জাতিগত সংঘাত এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে দারিদ্র্য বেড়ে যাওয়া অন্যতম।

শুধুমাত্র বাংলাদেশ কিংবা মিয়ানমার নয়, সমস্ত পৃথিবীব্যাপী এ সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে। মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার দেশগুলো থেকেও ইউরোপের নানা দেশে, বিশেষ করে গ্রীস জার্মানি ইতালির উদ্দেশে ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা করছে অভিবাসন প্রত্যাশীরা। এছাড়া অস্ট্রেলিয়াও এ ধরনের সমস্যা মোকাবিলা করছে। ল্যাটিন আমেরিকার অনেক দেশ বিশেষ করে মক্সিকো থেকে স্থলপথে দুর্গম এলাকা পাড়ি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা চালাচ্ছে অনেকে। এশিয়া থেকে শুরু করে ইউরোপ, আফ্রিকা, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া সব মহাদেশকেই গ্রাস করছে এই মানব পাচার সমস্যা। কিছুদিন থাইল্যান্ডের গহিন বনে অভিবাসন প্রত্যাশীদের কবরের সন্ধান পাওয়া, ইউরোপ যাত্রায় সমুদ্রে হাজার হাজার মানুষের সলিল সমাধি সব কিছু মিলিয়ে বাংলাদেশ থেকে মানব পাচারের বিষয়টি সামনে চলে এসেছে।

জাতিসংঘের উদ্বাস্তু বিষয়ক হাইকমিশন (ইউএনএইচসিআর) পৃথিবীব্যাপী মানব পাচার এবং উদ্বাস্তুদের নিয়ে কাজ করছে । তাদের এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ১৯৯৪ সালের পর পৃথিবীতে শরণার্থীর সংখ্যা এখন যে কোনো সময়ের তুলনায় বেশি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিবছর নানা কারণে সাড়ে চার কোটি লোক শরণার্থীর খাতায় নাম লিখাচ্ছে। এর মধ্যে সাড়ে নয় লাখ লোক বৈধ উপায়ে বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিচ্ছে এবং দুই কোটি ৮৮ লাখ লোক নিজ দেশের সীমান্ত অতিক্রম করে অন্য দেশে যাচ্ছে। নিজ দেশে উদ্বাস্তু হচ্ছে প্রতিবছর দেড় কোটি লোক। বিশেষ করে সিরিয়া, ইরাক, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, সুদান, কংগো, নাইজেরিয়া, সোমালিয়া, ইথিওপিয়া প্রভৃতি দেশ থেকে উদ্বাস্তু হচ্ছে বেশি।

ইউএনএইচসিআরের মতে, যুদ্ধবিগ্রহের কারণে আফ্রিকার অনেক দেশ থেকে নৌকাযোগে ভূমধ্যসাগর হয়ে ইউরোপের দেশগুলোতে পালিয়ে যাওয়ার হার বর্তমানে অনেক বেড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যায় এসব অভিবাসন প্রত্যাশীদের বহনকারী নৌকাগুলো ডুবে গিয়ে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছে। এসব কাফেলায় শুধু আফ্রিকান দেশগুলোর নাগরিকরাই নয়, মধ্যপ্রাচ্য এবং এশিয়া বিশেষ করে বাংলাদেশী নাগরিকরাও শামিল হচ্ছে। অনেকে নিজ দেশে নিরাপত্তাহীনতা ও উন্নত জীবনের প্রত্যাশায় পুরো পরিবার নিয়ে বিদেশে পাড়ি দেয়। অভিবাসন প্রত্যাশীদের বহনকারী নৌকাগুলো অনেক সময় সংশ্লিষ্ট দেশের কোস্টগার্ড বা নৌবাহিনীর নজরে এলে সেগুলোকে আটক করা হয়। পরে তাদেরকে বিভিন্ন আশ্রয় শিবিরে রাখা হয়। সেসব আশ্রয় শিবিরেও অনেকে মানবেতর জীবন যাপন করছে। অভিবাসন প্রত্যাশীদের চাপ ঠেকানোর কৌশল নির্ধারণ করতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো সম্প্রতি জেনেভায় বৈঠক করেছে। সে বৈঠকে আফ্রিকান দেশগুলোর সরকারের সাথে এ নিয়ে আলোচনা করে করণীয় সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানা যায় ।

বাংলাদেশিদের চিত্র
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায় বাংলাদেশের টেকনাফ হয়ে মালয়েশিয়া এবং থাইল্যান্ডে যাওয়ার প্রবণতা গত কয়েক বছরে তুলনায় বর্তমানে অনেক অনেক গুন বেড়েছে। এছাড়া ভারত পাকিস্তান আফগানিস্তান ও রাশিয়া হয়ে ইউরোপ এবং অনেকে ইরান তুর্কি হয়ে ইউরোপ প্রবেশ করছে। বিশেষ করে মিয়ানমারে জাতিগত সহিংসতা বেড়ে যাওয়ার পর এ সমস্যা আরো প্রকট হয়েছে। ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, ২০১৩ সালের জুলাই থেকে ২০১৪ সালের জুন পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে ৫৩ হাজার লোক মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড বা অন্য দেশে গেছে। পাচারের জন্য জড়ো করা অনেককে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আটক করতে সমর্থ হয়। এছাড়া মাঝ সমুদ্রে নৌকা ডুবে মারা গেছে অনেকে। ধরা পড়েছে পাচারের সাথে যুক্ত অনেকে। ভালো চাকরির আশায় অনেকে সমুদ্র পাড়ি দিতে চাইলেও অনেকের ভাগ্যে তেমন কিছুই জোটে না।

সূত্র মতে, মিয়ানমারে জাতিগত দাঙ্গার পর অনেক রোহিঙ্গা প্রায়ই টেকনাফ এবং কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় আশ্রয় নিচ্ছে। সেখানে অনেকের কিছু করার থাকে না বলে কেউ কেউ অবৈধভাবে সাগর পাড়ি দিয়ে অন্য দেশে যেতে চায়। একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে বাংলাদেশ দিয়ে সমুদ্রপথে যারা মালয়েশিয়া বা থাইল্যান্ড গিয়েছেন তাদের অধিকাংশই রোহিঙ্গা।

ইউরোপ মানব পাচারের শিকার বাংলাদেশিদের সাথে কথা বলে জানা যায় এরা বেশিরভাগই রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করে যার কোনো ভিত্তিই থাকেনা এর ফলে বেশিরভাগের কপালে ঝুটে ক্যাম্প জীবন এবং পরবর্তীতে ডিপোর্টেশন।

নামে

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: