সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ২ পৌষ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
লন্ডনে দ্বিতীয় জনপ্রিয় ভাষা বাংলা  » «   ঘুষের টাকাসহ হাতেনাতে সাব-রেজিস্ট্রার আটক  » «   আর কোনো হায়েনার দল বাংলার বুকে চেপে বসতে পারবে না  » «   সিলেটে মুক্তিযুদ্ধের পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ করলেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী  » «   ফের জাতীয় পার্টির ঢাকা জেলা শাখার সভাপতি সালমা ইসলাম এমপি  » «   বিয়ানীবাজারে ৯৯০ পিস ইয়াবাসহ পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী আটক  » «   আয়কর দিবস উপলক্ষে সিলেটে বর্ণাঢ্য র‌্যালি  » «   এবার শ্রীমঙ্গলে ট্রেনের ইঞ্জিনে আগুন  » «   বেলজিয়ামে মসজিদে তালা দেওয়ায় বাংলাদেশিদের প্রতিবাদ  » «   পায়রা উড়িয়ে জাতীয় পার্টির ঢাকা জেলা শাখার সম্মেলন উদ্বোধন  » «   ভারতের অর্থনীতির দুরবস্থা, জিডিপি কমে সাড়ে ৪ শতাংশ  » «   পায়রা উড়িয়ে সম্মেলন উদ্বোধন করলেন শেখ হাসিনা  » «   লন্ডন ব্রিজে আবারও সন্ত্রাসী হামলা, নিহত ২  » «   চীন থেকে মা-বাবার জন্য পেঁয়াজ নিয়ে এলেন মেয়ে  » «   রক্তে ভাসছে ইরাক, নিহত ৮২  » «  

আরাফাত সানি কারাগারে



তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনের মামলায় ক্রিকেটার আরাফাত সানিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত। মঙ্গলবার ঢাকার মহানগর হাকিম জাকির হোসেন টিপু এ আদেশ দেন।

এর আগে আরাফাত সানির এক দিনের রিমান্ড শেষে দুপুরে আরাফাত সানিকে আদালতে হাজির করে মোহাম্মদপুর থানার পুলিশ।

সানির আইনজীবী মুরাদুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, সানির জামিন চেয়ে আদালতে আবেদন করেন। আদালত আবেদনটি নথিভুক্ত রেখেছেন। পরে জামিন শুনানি হবে।

তার বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে মামলা করার পর যৌতুকের দাবিতে মারধরের অভিযোগে আদালতে আরেকটি মামলা করেছেন তার স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেয়া সেই তরুণী। ঢাকার মহানগর হাকিম রায়হানুল ইসলাম গতকাল সোমবার নালিশি মামলাটি আমলে নিয়ে সানির বিরুদ্ধে সমন জারির আদেশ দিয়েছেন। সানিকে আগামী ৫ এপ্রিলের মধ্যে আদালতে হাজির হয়ে তার ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

জানা গেছে, ১৯৮০ সালের যৌতুক নিরোধ আইনে করা এ মামলায় ২০ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে মারধর করার অভিযোগ আনা হয়েছে আরাফাত সানির বিরুদ্ধে। বাদীর আইনজীবী মো. কামাল উদ্দিন বলেছেন, আরাফাত সানির সঙ্গে ২০১৪ সালের ৪ ডিসেম্বর ওই তরুণীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর তারা বাসা ভাড়া নিয়ে একসঙ্গে থেকেছেন। একসঙ্গে তারা বিদেশে বেড়াতেও গিয়েছেন। ওই তরুণীর অভিযোগ, সানির পরিবার তাদের বিয়ে মেনে না নেয়ায় তাকে তুলে নেয়া হয়নি। এক পর্যায়ে সানি তার কাছে ২০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন এবং টাকা দিলে ঘরে তুলে নেবেন বলে জানান। যৌতুকের দাবিতে তাকে মারধরও করা হয়।

মামলার আর্জিতে আরাফাত সানির মা নার্গিস আক্তারকেও আসামি করার আবেদন করেছিলেন ওই তরুণী। তবে আদালত কেবল সানির বিরুদ্ধে মামলা আমলে নিয়েছে বলে আইনজীবী কামাল উদ্দিন জানান।

এর আগে গত ৫ জানুয়ারি ওই তরুণী তথ্য-প্রযুক্তি আইনে একটি মামলা করেন, যে মামলায় গত রবিবার আমিনবাজার থেকে সানিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। রবিবার দুপুরে সানিকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ড চাইলে মহানগর হাকিম প্রণব কুমার হুই এক দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।

সানির মা নার্গিস আক্তারের দাবি, টাকার লোভে ওই মেয়ে সানিকে ‘ফাঁসানোর’ চেষ্টা করছে। ওই মেয়ের কাছে বিয়ের কোনো কাবিন নামা নেই বলেও দাবি করেন নার্গিস আক্তার।

এদিকে ওই তরুণী গতকাল সাংবাদিকদের কাছে বলেছেন, ‘আমি তাকে ভালোবেসে বিয়ে করেছি। সবকিছু ঠিকই ছিল, কিন্তু হঠাত্ করেই সে চেঞ্জ হয়ে গেছে। সে কেন এমন করলো আমি বুঝতেছি না। আমি মামলা করতে চাইনি। আমি তার শাস্তি চাই। সানি এখনও বিয়ের বিষয়টি অস্বীকার করছে। থানায় বসেও সে অস্বীকার করেছে।’ ওই তরুণীর ভাষায়, ‘কান্নাকাটি করে’ সানি তার বিয়ে ভেঙে দেন। সমপ্রতি সামাজিক স্বীকৃতি চাওয়ার পর থেকেই সানি তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিতে থাকেন। বিয়ের কথাও অস্বীকার করে সানি। তাই সানির আসল চেহারা সবার সামনে তুলে ধরতেই তিনি মামলা করেছেন। তিনি বলেন, ‘সানি ভালো মানুষের মাস্ক (মুখোশ) পরে ঘুরে বেড়াচ্ছে।’

ওই তরুণী বলেন, ‘এক কমন বন্ধুর মাধ্যমে ২০০৯ সালে ধানমন্ডিতে আমাদের পরিচয় হয়। তখন আমি স্থানীয় একটি কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকের প্রথম বষের্র শিক্ষার্থী। পরিচয়ের ছয়মাস পর আমরা প্রেমে পড়ি। আমাদের এই সম্পর্ক দুই পরিবারের কেউ মেনে নেয়নি। ২০১৪ সালের মাঝামাঝি আমাদের সম্পর্ক ভেঙে যায়। পরে আমার পরিবার আমার বিয়ে ঠিক করে। ওই সময় জাতীয় ক্রিকেট দলের সঙ্গে সানি চট্টগ্রামে ছিল। আমার বিয়ের কথা জানতে পেরে সে আমার মেজো বোনের স্বামীকে ফোন দিয়ে কান্নাকাটি করে। এরপর বিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়।’

তরুণী আরও বলেন, ‘চট্টগ্রাম থেকে সানি ঢাকায় ফিরে ২০১৪ সালের ৪ ডিসেম্বর তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু-বান্ধব নিয়ে একটি রেস্টুরেন্টে গিয়ে আমাকে বিয়ে করে। আমাকে একটি বাসাভাড়া করেও দিয়েছিল, সেখানে থাকতাম।’ তিনি বলেন, ‘২০১৬ সালের ২৪ মে আমরা থাইল্যান্ডে ঘুরতে যাই। সেখান থেকে ২৯ মে দেশে ফিরে আসি। এরপর আমি তাকে সামাজিক স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য বারবার বলতে থাকি। আমি একবার ওদের বাসাতেও গিয়েছিলাম। ওর পরিবারও বিষয়টি জানে।’

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, ‘আমরা প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছি, ওই ছবিগুলো সানির মোবাইল থেকেই পাঠানো হয়েছিল। তার (সানি) বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের প্রাথমিকভাবে আমরা সত্যতা পেয়েছি। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তের পর বিষয়টি জানা যাবে।’

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: