সোমবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
ইসি প্রশ্নবিদ্ধ ভোট করতে চায় না: সিইসি  » «   বিয়ানীবাজারে ‘পুলিশ প্রহরায়’ নাহিদের প্রচারণা!  » «   হবিগঞ্জে ধানের শীষ পেলেন রেজা কিবরিয়া  » «   কাতারে কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম সিলেটের সাইয়্যেদ  » «   প্রিয়ডটকম-বিএনপিনিউজ২৪-সিএনএনবিডি২৪ সহ ৫৮ নিউজ পোর্টাল বন্ধের নির্দেশ  » «   আজ থেকে শুরু জাতীয় ভ্যাট দিবস ও ভ্যাট সপ্তাহ  » «   নিজেকে ট্রাম্পকন্যা দাবি এক পাকিস্তানি তরুণীর!  » «   প্রতীক বরাদ্দ আজ, শঙ্কা নিয়ে শুরু হচ্ছে ভোটযুদ্ধ  » «   আজ খালেদা জিয়ার ভাগ্য নির্ধারণ  » «   নৌকা প্রতীকে লড়বেন জাতীয় পার্টির যে ২৯ প্রার্থী  » «   জাপা পেলো ৩০ আসন, উন্মুক্ত ১৩২  » «   মেয়র পদে থেকেই সংসদ নির্বাচন করা যাবে: হাইকোর্ট  » «   সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি প্রবেশ করছে: প্রধান বিচারপতি  » «   প্রার্থিতা ফিরে পেতে হাইকোর্টে হিরো আলম  » «   যেসব আসনে ধানের শীষের প্রার্থী পরিবর্তন  » «  

আরও একটি কালো ইতিহাসের অপেক্ষা?



নিউজ ডেস্ক::স্বাধীনতার ৪৬ বছরেও বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রে সুষ্ঠু নেতৃত্ব গড়ে উঠেনি। যারা সুষ্ঠু নেতৃত্ব গঠনে অধিক যোগ্য ছিলেন, হতভাগা বাঙালি নিজেরাই তাদেরকে হত্যা করেছে। সেই অপরাধের সাজা থেকে কোনদিন মুক্তি মিলবে কি এ জাতির?

স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশকে উন্নতির দিকে এগিয়ে দিয়েছেন। এ বিষয়ে কারও সন্দেহ থাকার কথা নয়।হতভাগা বাঙালি এই দুই বলিষ্ঠ নেতাকে হত্যাকরে দেশকে আবার পিছনে ফেলে দিয়েছে। বঙ্গবন্ধু-জিয়া বাঙালি গোষ্ঠিকে স্বাধীনতা এনে দিয়েছে। এদের নিয়ে এর বেশি আমি কিছু লিখতে চাই না।

তবে বঙ্গবন্ধু-জিয়াকে পুঁজি করেই চলছে দেশের বড় দুটি রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ-বিএনপি। অথচ এই দুই ব্যক্তির অধিকাংশ আদর্শই নেই এই দুই দলে।১৯৯৬ সালে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া একতরফা একটা নির্বাচন করে মাত্র ১১দিন ক্ষমতায় ছিল। বিএনপি প্রধানের দেখানো পথে হেঁটে ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ প্রধান ওই একই ধরনের একটি নির্বাচন করে প্রায় ৪ বছর ধরে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় রয়েছেন।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের দিনটি ‘গণতন্ত্রের বিজয় দিবস’ হিসেবে পালন করছে আওয়ামী লীগ। অন্যদিকে ওই একই দিনকে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করছে বিএনপি। তবে এগুলি রাষ্ট্র ও জনগণের জন্য কালো ইতিহাস হয়ে থাকেব চির দিন।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ খালেদার নির্বাচনের বিপক্ষে আন্দোলন করেছে।এতে রাষ্ট্র ও জনগণের ক্ষতি হয়েছে। আবার, ২০১৪ সালে শেখ হাসিনার নির্বাচনের বিপক্ষে বিএনপি আন্দোলন করেছে। এতেও রাষ্ট্র ও জনগণ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এই দুইটি দলের প্রধানই ক্ষমতার লড়াইয়ে আন্দোলন করে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা চলিয়েছেন। কেউ সফলতা পেয়েছেন,কেউ ব্যর্থ হয়েছেন কিন্তু জনগণ উভয় সময়ই ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। এর দ্বায়ভার হাসিনা-খালেদা কেউ নিতে চান না। তাহলে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নিজের ভোটে সরকার নির্বাচন করে এবং মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ৩০ লাখ মানুষ আত্মহুতি দিয়ে কি পেয়েছে? সন্তান বাবা হারোনোর কান্না, বাবা সন্তান হারানোর কান্না,পঙ্গুত্ব, নির্যাতন ছাড়া আর কি পেয়েছে এই হতভাগা জাতি?

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে তত্ত্ববধায়ক সরকার নিয়ে আওয়ামী লীগ-বিএনপির মধ্যে যে দ্বন্দ্ব ছিল তার সমাধান এখনও হয়নি। ওই একই ইস্যুকে কেন্দ্র ফের ২০১৯ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতায় থাকতে ও ক্ষমতায় যেতে বেশ ভালোভাবেই প্রস্তুত আওয়ামী লীগ-বিএনপি।

আওয়ামী লীগ তার সহযোগী সংগঠন এবং আওয়ামী লীগ মনা ব্যক্তিদের নিয়ে শক্তিশালী হচ্ছে। বিএনপিও একই কাজ করছে। উভয় দলের নেতারাই হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন। বিএনপির অনেক নেতা তো বলছেন, বেঁচে থাকতে হলে আন্দোলনের বিকল্প নেই। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ নেতারও চায় যেকোন মূল্যে আবার ক্ষতায় যেতে এবং বিএনপিকে প্রতিহত করতে। তাহলে কি ২০১৯ সালে বাঙালির ইতিহাসে যোগ হতে যাচ্ছে আরেকটি কালো ইতিহাস?

লেখক ও সাংবাদিক

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: