বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
লন্ডনে মুসলিমদের ওপর গাড়ি হামলা, আহত ৩  » «   সরকারি চাকরিজীবীদের ৫% সুদে গৃহঋণের আবেদন অক্টোবরে  » «   ভারতে তিন তালাককে শাস্তিযোগ্য অপরাধ ঘোষণা  » «   স্কুলছাত্রীকে পিটিয়ে অজ্ঞান করলেন শিক্ষক  » «   বোমা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, আর ইয়েমেনে সেই বোমা ফেলছে সৌদি  » «   রাখঢাক রাখছেন না পর্নো তারকা ডানিয়েল স্টর্মি  » «   কাবা শরীফের ভেতরে প্রবেশের সুযোগ পেলেন ইমরান  » «   মিয়ানমারে নিলামে উঠছে সুচির ভাস্কর্য  » «   এক দিনেই মিলবে পাসপোর্ট  » «   ওসমানী বিমানবন্দরে বিমানে তল্লাশি : ৪০টি স্বর্ণের বার উদ্ধার, চোরাচালানী আটক  » «   কেউ বলতে পারবে না, কারো গলা টিপে ধরেছি: প্রধানমন্ত্রী  » «   সৌদি থেকে ফিরলেন ৪২ নারী গৃহকর্মী  » «   সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টে আরও ২০ কোটি টাকা অনুদান দেবেন প্রধানমন্ত্রী  » «   ইয়েমেনে দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে ৫২ লাখ শিশু  » «   ‘২৩ হাজার পোস্টমর্টেম বনাম মানসিক সঙ্কট’  » «  

‘আমারে মিনু কাকী গরম তালাসি দিয়া ছ্যাক দিছে’



এম শরীফ আহমেদ,ভোলা থেকেঃভোলার মনপুরায় সুরমা (৯) নামের এক শিশু গৃহকর্মীকে অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ ওঠেছে। সুরমার বাড়ি ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার চাদঁপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডে। গুরুতর অবস্থায় গৃহকর্মী সুরমা বেগম এখন ভোলা সদর হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। বর্তমানে সুরমা ভোলা সদর হাসপাতালের মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে একস্ট্রা ৮নং বেডে মানুষিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছে।

এ ব্যাপারে নির্যাতীত সুারমাকে জিজ্ঞাসা করলে সে ভারসাম্যহীন অবস্থায় জানায়, ‘আমারে মিনু কাকি গরম তালাসি দিয়া ছ্যাক দিছে’। আগেও পিডাইত, আমার সারা শরীরে পিডাইছে’… এসব কথা বলে ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন সুরমা।

সুরমার মা আনোয়ারা বেগম বলেন, ‘মাইয়ারে হাজী সায়েবের হাতে দিছি। তিনি তার মাইয়ার বাসায় পাডাইছে। আমার মায়ায় এমন ছিলো না। ওর সারা গাও পিডাইছে। আমি এইডার বিচার চাই।’

জানা গেছে, তজুমদ্দিন উপজেলার চাদঁপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ কেয়ামুল্যাহ গ্রামের মুনাফ আলী বাড়ীর মৃত ফজলুল রহমানের মেয়ে সুরমা। দীর্ঘদিন অসুস্থ্য থেকে ৩ বছর আগে মারা যান ফজলুর রহমান। ফজলুর রহমান জীবিত থাকাকালীন সময়ে পরিবারের ভরণপোষনের জন্য আশেপাশের বাড়ীতে কাজ করে সংসার চালাতো স্ত্রী আনোয়ারা বেগম। স্বামীর মৃত্যুর কয়েক মাস পর আনোয়ারা বেগম পুনরায় অন্যত্র বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। মা আনোয়ারা বেগমের বিয়ের পর গত ১০ মাস আগে মেয়ে সুরমাকে পড়াবে-খাওয়াবে বলে পাশের বাড়ীর হাজী দিলাওয়াত মাস্টার তার মনপুরার উপজেলার বাসিন্দা মেয়ে মিনারা বেগম (মিনু) এর বাসায় ৮০০শ টাকার বেতনে কাজে দেয়। মিনারা বেগমের বাসায় কাজ করার পর থেকেই সুরমার সাথে তার মা আনোয়ারা বেগমের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

গত বৃহস্পতিবার (০৯ নভেম্বর) সকালে মা আনোয়ারা বেগম মেয়ে সুরমার মনপুরা থেকে তজুমদ্দিন আসার খবর পেয়ে দিলাওয়াত হাজীর বাসায় যায়। সেখানে গিয়ে মর্মান্তিক অবস্থায় মেয়ে সুরমাকে দেখতে পেয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েন মা আনোয়ারা বেগম। পরে স্থানীয়দের সহযোগীতায় সুরমাকে প্রথমে তজুমদ্দিন হাসপাতালে ও পরে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ভোলা সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, সুরমার সারা শরীরে আঘাতের চিহ।গরম স্টিলের তালাসী দিয়ে সুরমার মাথা, মুখ সহ বিভিন্ন অঙ্গপতঙ্গে আঘাতের দাগ দেখা যায়। যার অধিকাংশই ক্ষত অবস্থায় রয়েছে। এছাড়াও তার শরীরে অসংখ্য দাগ রয়েছে যা কয়েক মাস আগের বলে ডাক্তাররা জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে নির্যাতীত সুারমাকে জিজ্ঞাসা করলে সে ভারসাম্যহীন অবস্থায় জানায়, আমারে মিনু কাকি গরম তালাসি দিয়া ছ্যাক দিছে। আগেও পিডাই তো। আমার সারা শরীরে পিডাইছে…। এসব কথা বলে ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন সুরমা।সুরমার মা আনোয়ারা বেগম বলেন, মায়ারে হাজী সায়েবের হাতে দিছি। তিনি তার মায়ার বাসায় পাডাইছে। আমার মায়ায় এমন ছিলো না। ওর সারা গাও পিডাইছে। আমি এইডার বিচার চাই।

মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি শাহিন খান জানান, গৃহকর্মী সুরমাকে মারধরের ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সুরমার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি মামলা হয়েছে যার নং- (০২)। আসামী ধরার চেষ্টা চলছে।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: