বুধবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ পৌষ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
হিরো আলম পর্যন্ত ইসিকে হাইকোর্ট দেখায়, বোঝেন অবস্থা: ইসি সচিব  » «   কূটনীতিকদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে ঐক্যফ্রন্ট  » «   নির্বাচনের সময় ব্যাংক বন্ধ থাকবে ৪ দিন  » «   একজন নির্বাচন কমিশনার কী বললেন দেখার বিষয় নয় : কাদের  » «   সিইসির বক্তব্যের প্রতিবাদ জানালেন মাহবুব তালুকদার  » «   সাহস থাকলে আমাকে গ্রেপ্তার করুন: ড. কামাল  » «   ভোটের দিন নেটের গতি কমানোর কথা ভাবছে ইসি  » «   আমরণ অনশন: হাসপাতালে লতিফ সিদ্দিকী  » «   লুনার প্রার্থিতা স্থগিতে ভাগ্য খুলেছে মুনতাসির-মুকাব্বিরের  » «   সু চির পুরস্কার ফিরিয়ে নিচ্ছে দক্ষিণ কোরীয় ফাউন্ডেশন  » «   তরুণ ও যুবকদের জন্য যে চমক আ. লীগ-বিএনপির ইশতেহারে  » «   নারায়ণগঞ্জে গ্যাসের আগুনে একই পরিবারের ৯ জন দগ্ধ  » «   আমার কিছু হলে দায়ী আপনারা মামা-ভাগ্নে: সিইসিকে গোলাম মাওলা রনি  » «   ভুলভ্রান্তি হলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন: শেখ হাসিনা  » «   মাহবুব তালুকদারের বক্তব্য অসত্য: সিইসি  » «  

আমরাই বাংলাদেশকে বিচ্ছিন্ন হতে বাধ্য করেছি: নওয়াজ শরিফ



Pakistani prime minister Nawaz Sharif speaks during the Summit for Refugees and Migrants at U.N. headquarters, Monday, Sept. 19, 2016. (AP Photo/Seth Wenig)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক::পাকিস্তানে একের পর এক গণতান্ত্রিক সরকারকে ক্ষমতাচ্যুৎ করার প্রসঙ্গ তুলে দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ বলেছেন, ১৯৭১ সালে তাদের কারণেই বাংলাদেশ আলাদা হয়েছিল।

মঙ্গলবার ইসলামাবাদে পাঞ্জাব হাউজে একদল আইনজীবীর সমাবেশে তিনি একথা বলেন। পাকিস্তানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডনের এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয় পাওয়ার পরও তৎকালীন পাকিস্তান সরকার ক্ষমতা ছাড়েনি। উল্টো নানা টালবাহানার পর বাঙালির ওপর চালায় নির্মম হত্যাযজ্ঞ, যার পরিণতিতে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ওই প্রসঙ্গ তুলে নওয়াজ বলেন, “শেখ মুজিবুর রহমান বিদ্রোহী ছিলেন না, কিন্তু আমরা তাকে বিদ্রোহী করেছিলাম।”

তিনি বলেন, “পাকিস্তান সৃষ্টিতে বাঙালির কেন্দ্রীয় ভূমিকা ছিল। কিন্তু তাদের সঙ্গে আমরা ভালো আচরণ করিনি এবং আমাদের থেকে আলাদা করেছি।”

পাকিস্তান মুসলিম লীগের (পিএমএল-এন) নেতা নওয়াজ শরিফ তিনবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হয়ে কোনোবারই মেয়াদ পূরণ করতে পারেননি। সর্বশেষ গত বছর আদালতের রায়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অযোগ্য ঘোষণার পর ২৮ জুলাই পদত্যাগে বাধ্য হন তিনি।

এর আগে ১৯৯০ ও ১৯৯৭ সালে দুই বার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হলেও ক্ষমতাচ্যুত হওয়ায় কোনোবারই মেয়াদ পূর্ণ করতে পারেননি নওয়াজ। দ্বিতীয়বার সেনাবাহিনীর হাতে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে তিনি দেশান্তরিত হয়েছিলেন। তখন বেশিরভাগ সময় থাকতেন সৌদি আরবে। ২০১৩ সালের নির্বাচনে ফের ক্ষমতায় আসেন নওয়াজ। তার আগের পাকিস্তানের ১৭ জন প্রধানমন্ত্রীর কেউই তাদের পুরো মেয়াদ কখনও দায়িত্ব পালন করতে পারেননি।

পাকিস্তানের এই পরিণতির জন্য দেশটির সেনা শাসকদের কৃতকর্মের জন্য বিচারের মুখোমুখি না হওয়াকে কারণ হিসেবে দেখছেন নওয়াজ শরিফ। এ প্রসঙ্গেও একাত্তরে বাঙালির উপর সংঘটিত নিষ্ঠুরতা এবং তার জন্য কারও শাস্তি না হওয়ার বিষয়টিকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছেন তিনি।

নওয়াজ বলেন, “বিচারপতি হামদুর রহমান কমিশন বাংলাদেশের সৃষ্টি নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণপূর্বক খুবই সত্য ও স্পষ্ট প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। কিন্তু আমরা তা পড়েও দেখিনি। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আমরা যদি পদক্ষেপ নিতাম তাহলে আজকের পাকিস্তান ভিন্ন হত এবং যে ধরনের খেলা হয়ে থাকে সেগুলো হত না।”

বাংলাদেশের স্বাধীনতা নিয়ে পাকিস্তান সরকার গঠিত হামদুর রহমান কমিশনের প্রতিবেদনে একাত্তরে বাংলাদেশে গণহত্যার জন্য পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীকে দায়ী করে তাদের বিচারের সুপারিশ করা হয়। পাকিস্তান সে অনুযায়ী কোনো ব্যবস্থায়ই নেয়নি। একাত্তরে গণহত্যার জন্য বাংলাদেশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমাও চায়নি। বরং বাংলাদেশে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে, যা নিয়ে এই নওয়াজের সর্বশেষ আমলেই দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপড়েন সৃষ্টি হয়।

পানামা পেপারর্সে দুর্নীতির মাধ্যমে বিদেশে সম্পদের পাহাড় গড়ার তথ্য ফাঁসের পর আদালতের রায়ে ক্ষমতাচ্যুৎ হয়ে এখন দেশটির বিচার বিভাগ ও দৃশ্যত সেনাবাহিনীর সমালোচনা করছেন তিনি। সেনা কর্তাদের সমালোচনায় ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট হিসেবে বাংলাদেশের প্রসঙ্গ টানলেন।

নওয়াজ শরিফ দুঃখ করে বলেন,“স্বৈরশাসকের বিচার করতে পারে এমন আদালত পাকিস্তানে কখনও আসেনি।”

সূত্র: ডন

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: