রবিবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ মাঘ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
লন্ডনে দ্বিতীয় জনপ্রিয় ভাষা বাংলা  » «   ঘুষের টাকাসহ হাতেনাতে সাব-রেজিস্ট্রার আটক  » «   আর কোনো হায়েনার দল বাংলার বুকে চেপে বসতে পারবে না  » «   সিলেটে মুক্তিযুদ্ধের পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ করলেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী  » «   ফের জাতীয় পার্টির ঢাকা জেলা শাখার সভাপতি সালমা ইসলাম এমপি  » «   বিয়ানীবাজারে ৯৯০ পিস ইয়াবাসহ পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী আটক  » «   আয়কর দিবস উপলক্ষে সিলেটে বর্ণাঢ্য র‌্যালি  » «   এবার শ্রীমঙ্গলে ট্রেনের ইঞ্জিনে আগুন  » «   বেলজিয়ামে মসজিদে তালা দেওয়ায় বাংলাদেশিদের প্রতিবাদ  » «   পায়রা উড়িয়ে জাতীয় পার্টির ঢাকা জেলা শাখার সম্মেলন উদ্বোধন  » «   ভারতের অর্থনীতির দুরবস্থা, জিডিপি কমে সাড়ে ৪ শতাংশ  » «   পায়রা উড়িয়ে সম্মেলন উদ্বোধন করলেন শেখ হাসিনা  » «   লন্ডন ব্রিজে আবারও সন্ত্রাসী হামলা, নিহত ২  » «   চীন থেকে মা-বাবার জন্য পেঁয়াজ নিয়ে এলেন মেয়ে  » «   রক্তে ভাসছে ইরাক, নিহত ৮২  » «  

আকাশের তাঁরা গুণতে যেয়ে আজ চাঁদটাকে হারিয়ে ফেললাম



নিকিতা জান্নাত ::বিয়ের প্রায় তিন বছর, উহু এতেই বুঝা যায় জীবন কতটা জটিল। মিরা ভাবতো,এখনো নিজেকে গুছানোর মতো বড় আমি হয়ে উঠিনি। যার সাথে জীবন কাটাবো সে ই আমাকে গুছিয়ে নিবে। এরকম স্বপ্ন দেখেই দিন যেত। কিন্তু আজ তাকে সব কিছু মানিয়ে নিতে হয়, গুছিয়েনিতে হয়, গুছাতে হয়।

স্বামী অফিসের কাজে ব্যস্ত থাকায়, সারাটা দিন মিরা একা একা ঘরের এপাশ ওপাশ করেই দিন যায়। কখন রাত হবে অনু ঘরে ফিরবে। কখনো সাজগুজ করেও ওয়েট করে। কিন্তু বেচারা অনু সারাদিনের ব্যস্ততা শেষে ঘরে ফিরে এত ক্লান্ত থাকে যে মিরার সাথে গল্প বা খুনশুটি করার মানসিকতা বা সময় থাকে না।কারণ পরের দিন আবার অফিসের কাজ।

অপরদিকে, মিরা এক বিছানায় শুয়ে, পাশ ফিরে চোখের জ্বলে রাত কাটায়। আর ভাবে, তখন আর সেই সময় থাকবেনা জানো তোমার বুকের বা পাশটা একদম শূন্য হয়ে যাবে অনু, তখন বুঝবে তোমার পাগলী তোমার জীবনের কতোটা জুড়ে ছিলো।
আমার নিথর দেহ তোমার পাশেই পড়ে রইবে, তুমি তখন থেকেই আমাকে ভালোবাসতে শুরু করবে কিন্তু হায়! আফসোস,আমি আর থাকবোনা তখন।

তখন তোমার কাজের চাপ কমে যাবে, রাগ/অভিমান টাও কমে যাবে কিন্তু ভালবাসা বেড়ে যাবে।

এভাবেই চলছে তো চলুক না। মিরা টা না বড্ড অভিমানী, সে ও অভিমান পুষে চুপচাপ হয়ে যায়, একসময় মানিয়ে নেয় এই জীবন টার সাথে।

কিছুদিন পর মিরা প্রচন্ড অসুস্হ হলো, হাসপাতালে ভর্তি। কারো মুখে কোন কথা নেই। অনু মিরার হাত ধরে খুব কাদঁছে, অঝোরে কাদঁছে।

মিরা বলল, এতো ভালবাসো? কই আগে তো কখনো বুঝতে দাওনি।
এই যাওয়ার বেলায় এতো মায়া বাড়িওনা তো। আমি অন্ধকার কবরে একা একা কীভাবে থাকবো তোমায় ছাড়া? বড্ড কষ্ট হবে গো আমার।

অনু বলছে, ইশ আরো কয়েকটা দিন সময় পেলে তোমাকে আমি খুব যত্ন নিতাম, সময় দিতাম, আর আরো ভালোবাসতাম।

মিরা আজ আর কাদঁছেনা। শুধু ভাবছে এই ভালবাসা টা যদি আগে দেখাতে তাহলে হয়তো আমি বেচেঁ যেতাম। অনেক দেরি করে ফেললে অনু।

ক্যারিয়ারের পিছনে ছুটে অনেকে হয়তো প্রিয়তমা স্ত্রীর খবর রাখতে পারেন না, ভালোবাসেন হয়তো প্রকাশ করতে পারেন না। কিন্তু এই প্রকাশ না করাটাই যে একটা দূর্ঘটনার কারন হতে পারে। অনু ভিড় ভিড় করে বলছে, আমি আকাশের তারা গুণতে যেয়ে আজ চাদঁ টা কে হারিয়ে ফেললাম।

অল্প সম্পদ তো যথেষ্ট ছিলো, যদি মিরা পাশে থাকতো তাহলে তো সব সুখ ছিলো। হুমম মিরা, আজ আমি অবসর, হাতে একদম কাজ নেই। কার জন্য কাজ করবো, আমি তো তোমার জন্যেই এতসব করছিলাম। তুমি বুঝলে না।এখন আমি তোমায় অনেক ভালবাসি আর তাঁরাদের ভীড়ে খুঁজি।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: