বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
ফোনালাপ ফাঁস: খন্দকার মোশাররফের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ  » «   নির্বাচনে এজেন্ট পাওয়া নিয়ে চিন্তায় বিএনপি  » «   ফেসবুকের প্রধান কার্যালয়ে বোমা হামলার হুমকি  » «   ডিসিদেরকে রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ কেন অবৈধ নয়: হাইকোর্ট  » «   বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী  » «   নাজিব রাজাকের বিরুদ্ধে নতুন দুর্নীতির মামলা  » «   সিলেটে ঐক্যফ্রন্টের জনসভা বাতিল  » «   টাইম ম্যাগাজিনে বর্ষসেরায় খাসোগিসহ চার সাংবাদিক!  » «   সৌদির অনুমোদন নিয়ে আরাফাতকে হত্যা: বাসাম  » «   ফাইনালের আগেই থেমে গেল মোদির বিজয়রথ!  » «   ফখরুলের গাড়িবহরে হামলায় ইসি বিব্রত: সিইসি  » «   খালেদা জিয়ার প্রার্থিতা: অনুলিপি না লেখায় সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে ফেরত  » «   ‘নতুন বোতলে পুরাতন বিষ জামায়াত এখন ধানের শীষ’  » «   আজ সিলেট থেকে ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনী প্রচার শুরু  » «   ঐক্যফ্রন্টের টার্গেট তরুণ ভোটার, সুশাসন ও ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ  » «  

আকাশের তাঁরা গুণতে যেয়ে আজ চাঁদটাকে হারিয়ে ফেললাম



নিকিতা জান্নাত ::বিয়ের প্রায় তিন বছর, উহু এতেই বুঝা যায় জীবন কতটা জটিল। মিরা ভাবতো,এখনো নিজেকে গুছানোর মতো বড় আমি হয়ে উঠিনি। যার সাথে জীবন কাটাবো সে ই আমাকে গুছিয়ে নিবে। এরকম স্বপ্ন দেখেই দিন যেত। কিন্তু আজ তাকে সব কিছু মানিয়ে নিতে হয়, গুছিয়েনিতে হয়, গুছাতে হয়।

স্বামী অফিসের কাজে ব্যস্ত থাকায়, সারাটা দিন মিরা একা একা ঘরের এপাশ ওপাশ করেই দিন যায়। কখন রাত হবে অনু ঘরে ফিরবে। কখনো সাজগুজ করেও ওয়েট করে। কিন্তু বেচারা অনু সারাদিনের ব্যস্ততা শেষে ঘরে ফিরে এত ক্লান্ত থাকে যে মিরার সাথে গল্প বা খুনশুটি করার মানসিকতা বা সময় থাকে না।কারণ পরের দিন আবার অফিসের কাজ।

অপরদিকে, মিরা এক বিছানায় শুয়ে, পাশ ফিরে চোখের জ্বলে রাত কাটায়। আর ভাবে, তখন আর সেই সময় থাকবেনা জানো তোমার বুকের বা পাশটা একদম শূন্য হয়ে যাবে অনু, তখন বুঝবে তোমার পাগলী তোমার জীবনের কতোটা জুড়ে ছিলো।
আমার নিথর দেহ তোমার পাশেই পড়ে রইবে, তুমি তখন থেকেই আমাকে ভালোবাসতে শুরু করবে কিন্তু হায়! আফসোস,আমি আর থাকবোনা তখন।

তখন তোমার কাজের চাপ কমে যাবে, রাগ/অভিমান টাও কমে যাবে কিন্তু ভালবাসা বেড়ে যাবে।

এভাবেই চলছে তো চলুক না। মিরা টা না বড্ড অভিমানী, সে ও অভিমান পুষে চুপচাপ হয়ে যায়, একসময় মানিয়ে নেয় এই জীবন টার সাথে।

কিছুদিন পর মিরা প্রচন্ড অসুস্হ হলো, হাসপাতালে ভর্তি। কারো মুখে কোন কথা নেই। অনু মিরার হাত ধরে খুব কাদঁছে, অঝোরে কাদঁছে।

মিরা বলল, এতো ভালবাসো? কই আগে তো কখনো বুঝতে দাওনি।
এই যাওয়ার বেলায় এতো মায়া বাড়িওনা তো। আমি অন্ধকার কবরে একা একা কীভাবে থাকবো তোমায় ছাড়া? বড্ড কষ্ট হবে গো আমার।

অনু বলছে, ইশ আরো কয়েকটা দিন সময় পেলে তোমাকে আমি খুব যত্ন নিতাম, সময় দিতাম, আর আরো ভালোবাসতাম।

মিরা আজ আর কাদঁছেনা। শুধু ভাবছে এই ভালবাসা টা যদি আগে দেখাতে তাহলে হয়তো আমি বেচেঁ যেতাম। অনেক দেরি করে ফেললে অনু।

ক্যারিয়ারের পিছনে ছুটে অনেকে হয়তো প্রিয়তমা স্ত্রীর খবর রাখতে পারেন না, ভালোবাসেন হয়তো প্রকাশ করতে পারেন না। কিন্তু এই প্রকাশ না করাটাই যে একটা দূর্ঘটনার কারন হতে পারে। অনু ভিড় ভিড় করে বলছে, আমি আকাশের তারা গুণতে যেয়ে আজ চাদঁ টা কে হারিয়ে ফেললাম।

অল্প সম্পদ তো যথেষ্ট ছিলো, যদি মিরা পাশে থাকতো তাহলে তো সব সুখ ছিলো। হুমম মিরা, আজ আমি অবসর, হাতে একদম কাজ নেই। কার জন্য কাজ করবো, আমি তো তোমার জন্যেই এতসব করছিলাম। তুমি বুঝলে না।এখন আমি তোমায় অনেক ভালবাসি আর তাঁরাদের ভীড়ে খুঁজি।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: