মঙ্গলবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ আশ্বিন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
পর্নোগ্রাফির মামলা নিয়ে ভাবছেন না কুসুম শিকদার  » «   ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত আশরাফুল  » «   ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সন্তান পরিচয় দিয়ে পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকুরী  » «   মানববন্ধনে রিজভীচাল নেই: সরকারি গোডাউনে ইঁদুর খেলা করছে  » «   নতুন বিয়ে নিয়ে মুখ খুললেন ময়ূরী  » «   ‘যৌন নিপীড়ন বন্ধে বাংলাদেশ জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে’  » «   মৌলভীবাজারে অং সান সুচির কুশপুত্তলিকা দাহ  » «   ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ুয়াদের অভিভাবকের নাম অন্তর্ভুক্তি চেয়ে রিট  » «   পদ্মায় নিখোঁজ কনস্টেবলের মরদেহ ২৪ ঘন্টায় উদ্ধার হয়নি  » «   রাজধানীর পানিতে ঝুঁকিপূর্ণ জীবন  » «   উপজেলা পর্যায়ে চালু হচ্ছে ওএমএস  » «   ‘মধ্যরাতে আমাকে ঘিরে ধরে মাতালেরা, এরপর শুরু করে…’  » «   ভদ্র চালকদের জন্য পুরস্কার  » «   শাহজালালে সিগারেটসহ ৬ ভারতীয় নাগরিক আটক  » «   ৮ সন্তানকে আনতে পেরেছি আরেকজন জেলে  » «  

আইনজীবী পাচ্ছেন সাংবাদিক প্রবীর সিকদার



probir_sikdar_sm_371576263নিউজ ডেস্ক: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের (আইসিটি) মামলায় গ্রেফতারকৃত সাংবাদিক প্রবীর সিকদার আইনজীবী পাচ্ছেন। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে তাকে আইনি সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতি।

এর আগে সকালে ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা এ মামলায় সাংবাদিক প্রবীর সিকদারের তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শেখ আখতার-উল ইসলাম বলেন, আমরা তার পরিবারের সঙ্গে আলাপ করেছি। এখন পাওয়ার অব অ্যাটর্নি নিয়ে ফরিদপুর আদালতে গিয়ে তার পক্ষে মামলা মোকাবেলা করা হবে।

রোববার (১৬ আগস্ট) রাতে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করে ফরিদপুরে নিয়ে যাওয়ার পর প্রবীর সিকদারকে সোমবার সন্ধ্যা পৌনে ছয়টায় থানা থেকে আদালতে হাজির করে পুলিশ।

সোমবার (১৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। সে সময় তাকে দশদিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন জানান মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিরাজুর রহমান। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১নং আমলি আদালতের বিচারক হামিদুল ইসলাম প্রবীর সিকদারকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়ে মঙ্গলবার রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করেন।

মঙ্গলবার তার তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন একই আদালত।

প্রবীর সিকদার নিউজপোর্টাল উত্তরাধিকার ৭১ নিউজ, বাংলা দৈনিক বাংলা ৭১ এবং উত্তরাধিকার নামের ত্রৈমাসিক পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক। রাজধানীর ইন্দিরা রোডে এসব পত্রিকার কার্যালয়।

ফেসবুক স্ট্যাটাসে মন্ত্রীর ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার অভিযোগে সাংবাদিক প্রবীর সিকদারের বিরুদ্ধে আইসিটি আইনের ৫৭ (২) ধারায় কোতোয়ালি থানায় মামলাটি দায়ের করেন ফরিদপুরের আওয়ামী লীগ নেতা, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের উপদেষ্টা এপিপি অ্যাডভোকেট স্বপন কুমার পাল।
রোববার বিকেলে তিনি ওই মামলা করার পর রাতে প্রবীর সিকদারকে তার রাজধানীর ইন্দিরা রোডের কার্যালয় থেকে গ্রেফতার করে ফরিদপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ওই মামলায় প্রবীর সিকদারকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

লিখিত এজাহারে বাদী অভিযোগ করেন, ‘গত ১০ আগস্ট বেলা ১১টা ১৫ মিনিটে ‘আমার জীবন শঙ্কা তথা মৃত্যুর জন্য যারা দায়ী থাকবেন’ শিরোনামে জনসমক্ষে একটি স্ট্যাটাস পোস্ট করেন। ওই পোস্টটি পড়ে আমার দৃঢ় বিশ্বাস হয় যে, প্রবীর সিকদার ইচ্ছাকৃতভাবে গণমানুষের প্রিয় নেতা মাননীয় মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন এমপি সম্পর্কে মিথ্যা অসত্য লেখা লিখে সেটি তার নিজস্ব ফেসবুকে পোস্ট করে মাননীয় মন্ত্রীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছেন এবং লেখাটি জনসমক্ষে প্রকাশের মাধ্যমে উস্কানি প্রদান করে শান্তিপ্রিয় মানুষের কাছে মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়কে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য বিদ্বেষ ছড়িয়েছেন। ফলে মাননীয় মন্ত্রীর মানহানি ঘটেছে। যা একটি ফৌজদারি অপরাধ।’

মামলার আরজিতে আরও বলা হয়, ওই ফেসবুক স্ট্যাটাসে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন দাবি করে প্রবীর সিকদার বলেন, তার মৃত্যু হলে স্থানীয় সরকার, সমবায় ও পল্লী উন্নয়নমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, বিতর্কিত ব্যবসায়ী মুসা বিন শমসের ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকার দায়ী থাকবেন।

তবে তার পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, রাজধানীর শেরেবাংলানগর থানায় নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে ব্যর্থ হয়ে প্রবীর সিকদার ওই স্ট্যাটাস দেন।

পরিবারের দাবি, রোববার সন্ধ্যায় প্রবীর সিকদারকে নিয়ে যান আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। তার ইন্দিরা রোডের কার্যালয় থেকে শেরেবাংলানগর থানা পুলিশের একটি দল প্রবীর সিকদারকে নিয়ে যায়। পরে তাকে মিন্টো রোডে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেওয়া হলেও রাতেই তাকে গ্রেফতার করে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

সাংবাদিক প্রবীর সিকদার মুক্তিযুদ্ধে শহীদ পরিবারের সন্তান। তার বাবাসহ পরিবারের ১৪ জন একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে শহীদ হয়েছিলেন। দৈনিক জনকণ্ঠের ফরিদপুরের নিজস্ব সংবাদদাতা থাকাকালে পত্রিকায় প্রকাশিত ‘সেই রাজাকার’ কলামে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মুসা বিন শমসেরের বিতর্কিত ভূমিকার বিবরণ তুলে ধরেন তিনি। এরপর ২০০১ সালের ২০ এপ্রিল সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতর আহত হন। বর্তমানে একটি পা হারিয়ে পঙ্গু জীবন যাপন করছেন তিনি।

ফরিদপুরের কানাইপুরের ঐতিহ্যবাহী জমিদার সিকদার বাড়ির সন্তান প্রবীর সিকদার দৈনিক জনকণ্ঠের ফরিদপুরের নিজস্ব সংবাদদাতা ও পরে পদোন্নতি পেয়ে স্টাফ রিপোর্টার পদে কর্মরত ছিলেন দীর্ঘদিন। পরে ঢাকায় এসে দৈনিক সমকাল ও দৈনিক কালের কণ্ঠে কাজ করেছেন তিনি।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: