রবিবার, ১৯ মে ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
ভেঙ্গে যাচ্ছে সিলেট জেলা বিএনপির কমিটি!  » «   বিদেশে অবস্থানরত শ্রমিকদের প্রতি মিশনগুলোর ধারণা নেতিবাচক: পররাষ্ট্রমন্ত্রী  » «   হিজাব পরে অস্ট্রিয়ার অমুসলিম নারী সাংসদের অভিনব প্রতিবাদ  » «   গাড়ি নষ্ট, রিকশায় চড়ে অভিযানে মেয়র আরিফ  » «   মুক্তিযোদ্ধাদের ন্যূনতম বয়সের পরিপত্র অবৈধ: হাইকোর্ট  » «   কৃষক রক্ষা না করলে অভিশাপ নেমে আসবে: রিজভী  » «   ১৫তম শিক্ষক নিবন্ধনের ফল প্রকাশ, পাসের হার ২০.৫৩%  » «   মুক্তিযোদ্ধা, এতিম ও আলেমদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ইফতার আজ  » «   রাতভর ধ্যানের পর বদ্রিনাথের পথে মোদি, রেকর্ড সংখ্যায় ভোট দেওয়ার আহ্বান  » «   জুলাই থেকে ১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্ট দেয়া হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী  » «   ফখরুলের আসনে মান্নাকে উপনির্বাচন করার প্রস্তাব  » «   বিমান ছিনতাই চেষ্টা: শিমলার হদিস পাচ্ছে না পুলিশ  » «   এবারের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক হবে: ওবায়দুল কাদের  » «   লন্ডনের ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হলেন সিলেটের আহবাব  » «   আজ থেকে বাণিজ্যিক কার্যক্রমে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট  » «  

আইএসের যৌনদাসী থেকে শান্তিতে নোবেলজয়ী



আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: যুদ্ধক্ষেত্রে নারীর ওপর যৌন নির্যাতন বন্ধে কাজ করায় এ বছর ডেনিস মুকওয়েজির সঙ্গে যৌথভাবে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার জিতে নিয়েছেন নাদিয়া মুরাদ।

ইয়াজিদি সম্প্রদায়ের মেয়ে মুরাদ ২০১৪ সালে তথাকথিত ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর হাতে বন্দি হওয়ার পর তাকে যৌনদাসী বানিয়ে ধর্ষণ করে জঙ্গিরা। চরম বেদনাদায়ক এই অভিজ্ঞতার পর মুরাদ ইরাকের ইয়াজিদিদের অধিকার থেকে শুরু করে বৃহত্তর ক্ষেত্রে শরণার্থী ও নারীর অধিকার নিয়ে কাজ করা শুরু করেন।

২০১৪ সালে আইএস জঙ্গিরা ইরাকের কুর্দিস্তানের কোচো গ্রামে হামলা চালানোর পর থেকে শুরু হয় মুরাদের দুর্দিন। তার মা ও ছয় ভাইকে হত্যা করে আইএস জঙ্গিরা। বহু অবিবাহিত নারীকে তাদের গ্রাম থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে জঙ্গিদের যৌনদাসী হিসেবে হাত বদল করা হতে থাকে।

২০১৪ সালের ৩ আগস্ট সিএনএনকে এক সাক্ষাৎকারে মুরাদ বলেন, ‘ওই দিন প্রায় সাড়ে ছয় হাজার ইয়াজিদি নারী ও শিশুকে অপহরণ এবং প্রায় পাঁচ হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল। প্রায় আট মাস আমাদের মা, বোন, ও ভাইদের কাছ থেকে আমাদের আলাদা করে রাখা হয়। এদের অনেককে হত্যা করা হয়েছে, অনেকে নিখোঁজ হয়ে গেছে।’

১৯৯৩ সালে জন্ম নেয়া মুরাদ আইএএসের হামলার সময় হাইস্কুলে পড়তেন। তার লক্ষ্য ছিল ইতিহাসের শিক্ষক বা মেকআপ আর্টিস্ট হওয়া। কিন্তু জঙ্গিরা ইরাক থেকে সব ইয়াজিদিকে নির্মূল করার পরিকল্পনা করায় তার স্বপ্ন লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়।

মুরাদ এ সময় জঙ্গিদের হাত থেকে পালিয়ে মসুলে চলে আসতে সক্ষম হন। সেখানে একটি মুসলিম পরিবার তাকে ইসলামি পরিচয়পত্র জোগাড় করে দেয়, যেটা ব্যবহার করে সে আইএস নিয়ন্ত্রিত এলাকা পার হয়ে যেতে সক্ষম হন।

মুরাদ আগে ভাক্লাভ হ্যাভেল হিউম্যান রাইটস অ্যাওয়ার্ড, সাখারভ প্রাইজ, ক্লিনটন গ্লোবাল সিটিজেন অ্যাওয়ার্ড স্পেনের ইউএন অ্যাসোসিয়েশনের পিস প্রাইজ পেয়েছেন।তার আত্মজীবনী ‘দ্য লাস্ট গার্ল’ নিউইয়র্ক টাইমসের সর্বাধিক বিক্রিত বইয়ের তালিকায় রয়েছে।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের কাছে মুরাদ তার দুঃসহ অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, পালানোর চেষ্টা করায় আইএস জঙ্গিরা তাকে বার বার গণধর্ষণ করে। ইয়াজিদিরা মুসলিম না হওয়ায় তাদেরকে দাসী হিসেবে ব্যবহার করে জঙ্গিরা।

‘কমবয়সী মেয়েদের বিক্রি করাটা ইসলাম সমর্থন করে বলে মনে করে আইএস।ওরা শুধু কয়েকজন মানুষকে আক্রমণ করতে আসেনি,ওরা সব ইয়াজিদির জন্যই এসেছিল,’বলেন তিনি।আইএস সন্ত্রাসীরা নারী ও মেয়েদের বিক্রির জন্য দাস বাজার গড়ে তুলেছিল।ইয়াজিদি নারীদের তারা জোর করে ধর্মান্তরিত করতো।

মসুল থেকে পালিয়ে আসার পর মুরাদ ইরাকের কুর্দিস্তানে ইয়াজিদি শরণার্থীদের ক্যাম্পে এসে আশ্রয় নেন। ইয়াজিদিদের সাহায্য করে এমন একটি সংস্থার মাধ্যমে তিনি জার্মানিতে তার বোনের কাছে যেতে সক্ষম হন। বর্তমানে তিনি সেখানেই বসবাস করছেন।

যৌন নির্যাতনের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে ‘মি টু’ হ্যাশ ট্যাগ আন্দোলন শুরু হওয়ার অনেক আগে থেকেই মুরাদ এই বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: