মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ১৩ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
দিল্লির বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক সংঘর্ষে চার জন নিহত ও ৫০ জন আহত  » «   পুলিশের কব্জায় অটোরিকশা, মায়ের ক্যান্সার চিকিৎসায় শেষ সম্বলও বিক্রি  » «   ১০ লাখ শিক্ষার্থী পাবে ২৯২ কোটি টাকা  » «   ৩৪০০ টাকার পাসপোর্ট ফি ৫২০০ টাকা চেয়ে দুদকের হাতে ধরা  » «   কিশোরগঞ্জে ভাবিকে হত্যার দায়ে দেবরের মৃত্যুদণ্ড  » «   ক্ষমতাসীনরা দেশকে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যাচ্ছে  » «   চট্টগ্রামে শিশু গৃহকর্মীর রহস্যজনক মৃত্যু  » «   মামলা তুলে না নেয়ায় স্ত্রীকে মেরেই ফেললেন স্বামী  » «   ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদে চাকরি, চার পুলিশ সদস্য কারাগারে  » «   করোনাভাইরাস : জাপানি প্রমোদতরীর আরও এক যাত্রীর মৃত্যু  » «   বঙ্গবন্ধু উপাধির ৫১ বছর  » «   ঢাকা-সিলেট ৬ লেনে এডিবির অর্থ ফেরত যাওয়ার শঙ্কা  » «   বাঈজী সরদারনি যুব মহিলালীগ নেত্রী পাপিয়ার উত্থান যেভাবে  » «   কী আছে পাপিয়ার ভিডিও ক্লিপে?  » «   ইতালিতে করোনায় আক্রান্ত ৭৯  » «  

অ্যামাজন বন পুড়ছে কেন! নেপথ্যে যে রহস্য



আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: গত তিন সপ্তাহ ধরে যে ভয়ঙ্কর দাবানল চলছে ‘পৃথিবীর ফুসফুস’ বলে পরিচিত অ্যামাজন বন। বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন বিশ্ববাসী। পৃথিবীর মোট অক্সিজেন-চাহিদার ২০ শতাংশ জোগায় যে অরণ্য তা এভাবে পুড়ে ছাড়খার হয়ে গেলে শংকায় পড়বে পৃথিবীর জলবায়ু। ইতিমধ্যে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, আমাজনের এই দাবানল এক অশনি সঙ্কেত!এক ভয়ঙ্কর ভবিষ্যতের ইঙ্গিতবাহী।

এদিকে আমাজন বনাঞ্চলে চলতি বছরের রেকর্ড অগ্নিকাণ্ডকে ‘আন্তর্জাতিক সংকট’ বলে অভিহিত করেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। বিষয়টি জি-৭ সম্মেলনের আলোচ্যসূচির শীর্ষে থাকা উচিত বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে নড়েচড়ে বসেছেন পরিবেশবিদসহ বিশ্লেষকরা। কি কারণে বছর বছর অ্যামাজনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে তা খতিয়ে দেখেছেন তারা।

তারা বলছেন, আর কিছুই নয় অবৈধ উপায়ে নজিরবিহীনভাবে সোনার খনির খোঁজ করাই অ্যামাজনে আগুন লাগার পেছনে দায়ি। নয় দেশে বিস্তৃত আমাজনের ২৪৫টি এলাকায় ২ হাজার ৩১২টি অবৈধ খনি রয়েছে বলে জানিয়েছে আমাজন সোশিও-এনভায়রনমেন্টাল।এসব খনি থেকে স্বর্ণ উত্তোলনের লোভে ও এর বাণিজ্য বিস্তারে আমাজন ঘিরে বেড়ে উঠেছে বহু সভ্য জনপদ। এভাবেই দিনে দিনে অবৈধ খনি বাণিজ্যের অভয়ারণ্য হয়ে উঠেছে আমাজনের গহিন অরণ্য।

এক আর্ন্তজাতিক গণমাধ্যম জানায়, ব্রাজিলের আমাজন অঞ্চলের প্যারা স্টেটের ট্যাপাজোস নদীর তটজুড়ে শত শত কুড়েঘড় স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে সোনার খনি খননের কাজে নিয়োজিত কর্মীরা থাকছেন। অবৈধভাবে খনি খননকারী ব্যক্তিদের মধ্যে একজন হলেন জোসে অ্যান্তনিও। তার কুড়েঘরের পাশেই স্তুপাকারে রাখা কয়লা আর উচ্চশব্দ তৈরিকারক হাইড্রোলিক ড্রিল মেশিন।

অ্যামাজনের ভেতরে বাদামি রঙের এমন দানব খনন মেশিন শত শত রয়েছে বলে জানালেন জোসে অ্যান্তনিও। তিনি জানান, ব্রাজিল সরকারের নিষ্ক্রিয় আইন ও দুর্বল প্রয়োগ, আন্তর্জাতিক বাজারে চড়া মূল্যের গুঞ্জনে আমাজনে এখন অবৈধ উপায়ে নজিরবিহীনভাবে সোনার খনির খোঁজ করছেন স্থানীয় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ। হাজার হাজার অবৈধ খনির সন্ধানকারীরা সোনার খোঁজে খনন কাজ পরিচালনা করছেন।

এ জন্য আদিবাসীদের জমি দখল করে আমাজনের গাছ কেটে, নদী দূষণ করে এবং আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে বনকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়া হচ্ছে। এর জন্য ব্রাজিলের ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট জার বোলসোনারো দায়ী বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক রিপোর্টে প্রকাশ, নির্বাচনের আগে সংরক্ষিত আদিবাসীদের এলাকায় খনি খনন কাজকে বৈধ করার কথা দিয়েছিলেন বোলসোনারো। তিনি খনি খনন ও খনিজ পদার্থ সমৃদ্ধ আদিবাসীদের ভূমি আইনের মাধ্যমে উন্মুক্ত করে দেয়ার অঙ্গীকার করেন।

রিপোর্টে আরও বলা হয়, আশির দশকে একটি অবৈধ সোনার খনিতে কাজ করতেন বোলসোনারো নিজেই। সে কারণে অবৈধ খনি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রয়েছে তার। প্রেসিডেন্ট হতে তাদের সমর্থন কাজে লেগেছে তার। বোলসোনারো সরকারের সঙ্গে সোনার খনির সন্ধানকারীদের মিত্র সম্পর্ক রয়েছে।

সম্প্রতি এক লাইভেও বোলসোনারো বলেন, ‘আমি যতদূর উদ্বিগ্ন, তাতে যদি একজন আদিবাসী তার নিজের ভূমি থেকে খনিজ পদার্থ উত্তোলন করতে চান, তাহলে তিনি তা পারবেন।’

ক্লার্ক ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, আমাজন খনি ও তেল, গ্যাস উত্তোলনের ঝুঁকির মুখে রয়েছে। এছাড়া আগামী দুই দশকে এখানে বড় ধরনের অবকাঠামোগত প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

এছাড়াও গত বছরের ডিসেম্বরে করা এক গবেষণার প্রতিবেদন অনুসারে, সরকার ও বিনিয়োগকারীরা বড় ধরনের আঞ্চলিক প্রকল্প গ্রহণ করছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে রাস্তা নির্মাণ, রেলপথ স্থাপন, বন্দর ও নৌপথ নির্মাণ। এসব প্রকল্পের লক্ষ্য হল গভীর জঙ্গল এলাকায় মূল্যবান খনিজ, তেল, কয়লা ও প্রাকৃতিক গ্যাসসহ অন্যান্য সম্পদ উত্তোলন করা।

এসব করতে গিয়ে দ্রুত সাবাড় হচ্ছে বন, আগুন লাগার ঘটনা ঘটছে। দূষিত হয়ে পড়ছে বনের নদীগুলো। ট্যাপাজোস নদীর পানি কমলা বর্ণ ধারণ করেছে। আমাজনের ভূতত্ত্ব ও পরিবেশ নিয়ে কাজ করে দেশটির সংস্থা আমাজন জিও রেফারেন্সড সোসিও-এনভায়রনমেন্টাল ইনফরমেশন নেটওয়ার্ক।

সংস্থাটি বলছে, ব্রাজিল ভূখণ্ডাধীন চিরহরিৎ এই বনাঞ্চলের বিভিন্নস্থানে সাড়ে ৪০০ এর বেশি অবৈধ খনি খনন স্থাপনা রয়েছে। ব্রাজিলের জাতীয় খনি সংস্থা দেশটির কংগ্রেসের কাছে হস্তান্তর করা এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, বছরে অনন্ত৩০ টন স্বর্ণ অবৈধভাবে কেনাবেচা হয় অ্যামাজনে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বৈধ উপায়ে আমাজনের জঙ্গলে প্রতিবছর যে পরিমাণ স্বর্ণ কেনা-বেচা হয়, তার চেয়ে ছয়গুণ (এক দশমিক এক বিলিয়ন ডলার) বেশি হয় অবৈধভাবে।

হাজার হাজার অবৈধ সোনার খনি খননে অ্যামজন বন উজার হচ্ছে, আগুন লাগছে বলে যখন অভিযোগ করছেন পরিবেশবিদরা তখন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জার বোলসোনারোর মুখে শোনা গেল ভিন্ন কথা। সরকারকে লজ্জায় ফেলতে এনজিওগুলো অ্যামাজন বনাঞ্চলে ‘আগুন দিচ্ছে’ বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

সূত্র: বিবিসি, আলজাজিরা

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: