বুধবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
বাংলাদেশে আরো সৌদি বিনিয়োগ চান প্রধানমন্ত্রী  » «   কানাডায় প্রকাশ্যে গাঁজা বিক্রি শুরু, ক্রেতাদের ভিড়  » «   ৩৮৭ কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার হবে সিলেট ওসমানী বিমানবন্দর  » «   ৪০ ঘণ্টা পর মানারত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী দুই নারী জঙ্গির আত্মসমর্পণ  » «   পূজায় বিজিবিকে মিষ্টি পাঠিয়েছে বিএসএফ  » «   উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ‘ট্রেনে কাটা’ পড়ে মৃত্যু  » «   আত্মসমর্পণের আহ্বানে সাড়া দিচ্ছে না জঙ্গিরা  » «   শিশু জয়নাব ধর্ষণ-হত্যা : ইমরানের ফাঁসি কার্যকর  » «   ‘বেত ও বেলুন দিয়ে মারে,পরে নখে সুই ঢুকিয়ে মাথার চুল কেটে দেয়’  » «   বউকে বৃষ্টিতে ফেলে ছাতা মাথায় ট্রাম্প!  » «   ঋণের পরিবর্তে শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব ব্যাংক ম্যানেজারের,অতঃপর..  » «   খাশোগি নিখোঁজ, বেনিফিট অব ডাউটের সুবিধা পাচ্ছে সৌদি  » «   নিরাপদ খাদ্যে আমরা অনেক পিছিয়ে আছি: ক্যাব সভাপতি  » «   শাবিপ্রবি’র ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ  » «   আত্মসমর্পণ না করলে ‘নিলুফা ভিলায়’ অভিযান আজ  » «  

অবৈধভাবে পলিমাটি বিক্রির মহৌৎসব চলছে বোয়ালখালীতে



সাফি-উল হাকিম ও পূজন সেন : বোয়ালখালীতে অবৈধভাবে ফসলি জমির পলি মাটি বিক্রির মহৌৎসব চললেও নির্বিকার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। উপজেলার আরাকান সড়কের দু’ধারে চোখের সামনেই পাল্টে যাওয়া এসব ফসলি জমিতে ঝুলছে সাইনবোর্ড। নির্মিতব্য ভবন নির্মাণের কাজ ও দেয়াল ছাড়া আগের মতো আর চোখে পড়ে না কৃষকের তৎপড়তা। কিছু দিনের মধ্যেই কোনো চিহ্নই হয়ত আর থাকবে না বোয়ালখালী উপজেলার হাজার একর কৃষি জমির!

এদিকে কৃষি জমির পরিবর্তনের সাথে স্থানীয় বিভিন্ন জীববৈচিত্র্য ও ফসলে বিবর্তন ঘটতে পারে বলে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় জানা গেছে।

প্রাণীবিজ্ঞানী প্রফেসর নোমান আহমেদ  বলেন, পরিবেশের প্রত্যেকটি উপাদান একে অপরের পরিপূরক। একটি উপাদানের বিচ্যুতি ঘটলে আরেকটি উপর প্রচন্ড রকম প্রভাব পড়ে। তবে এ প্রভাব দীর্ঘদিন পর একটি পরিবেশ বিপর্যয় হিসেবে আমাদের চোখে ধরা পড়বে। যদিও এখন স্বাভাবিক মনে হচ্ছে বলে তিনি জানান। কৃষকের কাঙ্খিত ফসল না হওয়া, উপকারি কীটপতঙ্গ বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া,এমনকি মানুষের মধ্যেও এই পরিবর্তনের প্রভাব পড়তে পারে বলে তিনি গবেষণায় দেখেছেন। তাই এটি ব্যক্তি স্বার্থে চিন্তা না করে জাতীয় স্বার্থে ভেবে দ্রুত এ ফসলি জমির মাটি বিক্রয় বন্ধ করা উচিত বলে মনে করেন প্রফেসর নোমান আহমেদ

উপজেলার পশ্চিম শাকপুরার ট্রাকে ট্রাকে ফসলি জমির উপরি ভাগের উর্বর মাটি কেটে নিয়ে ইটভাটায় ইট তৈরির জন্য ফসলি জমির উর্বর মাটি বিক্রি করছে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীরা। এতে জমির উর্বরতা শক্তি দ্রুত নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি চাষের উপযোগীতা হারাচ্ছে বলে জানিয়েছে কৃষকরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এশাধিক স্থানীয়রা জানান, দু’একজন ব্যক্তি বিরোধীয় ও সরকারি খাস জমির মাটি টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দেয় অসাধু ব্যবসায়ীদের কাছে। সেসব ব্যবসায়ীরা ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে মাটি কেটে উপজেলা বিভিন্ন ইটভাটায় ও জায়গা ভরাটের জন্য বিক্রি করছে। এতে পাশবর্তী জমিগুলো চাষের উপযোগিতা হারাচ্ছে বলেও জানান তারা। স্থানীয়দের দাবি প্রতিদিন সহস্রাধিক ট্রাক মাটি নিয়ে যাতায়াত করায় এলাকা রাস্তাঘাট খানাখন্দে পরিণত হচ্ছে।

পশ্চিম শাকপুরার মিলন ডাক্তারের বাড়ী এলাকার এক জমির মালিক মো. ওসমান জানান, তার পৈতৃক ৮০শতক জমি মাটি প্রতি ট্রাক আড়াইশত টাকায় সোহেল নামের এক ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করেছেন। এ জমিতে ৮বছর ধরে চাষাবাদ করছেন না জানিয়ে বলেন, এ জমিতে তিনি প্রজেক্ট করবেন। এছাড়া খতিয়ানে জমির শ্রেণি নাল উল্লেখ রয়েছে স্বীকার করে সংবাদটি প্রকাশ না করার অনুরোধ করেন তিনি।

এছাড়া ফারুখ নামের এক ব্যবসায়ী জমির মালিকদের কাছ থেকে কিনে নিয়ে পশ্চিম শাকপুরা মনা বাপের টেক এলাকায় জমির উর্বর মাটি উপজেলার হযরত মোহছেন আউলিয়া ইটভাটা ও রিভার ভিউ ইটভাটায় বিক্রি করছেন। ফারুখের সাথে মুঠো ফোনে কথা বলে জানা যায়, ৫/৬দিন আগে মাটি কাটা হয়েছিল। তবে মাটি কাটা এখনো চলছে বলে স্থানীয়রা নিশ্চিত করেছেন।

জমির উপরিভাগের মাটি কাটা বন্ধে জনসচেতনার বিকল্প নেই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আবু জাফর মো. মঈন উদ্দিন বলেন, কৃষি বিভাগের হাতে তেমন একটা আইনী ক্ষমতা না থাকায় আমরা কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে পারছি না। তবে এলাকা কৃষকদের বোঝানোর চেষ্টা করছি।

তিনি বলেন, জমির মালিকরা পুঁজি খাঁটি চাষ করার চেয়ে মাটি বিক্রি করে ৫হাজার টাকা পাওয়াকে লাভ মনে করছেন। এ বিষয়ে এলাকার জনপ্রতিনিধিরা যদি পদক্ষেপ নেন তবে এটি বন্ধ হতে পারে। এছাড়া কৃষি জমি সুরক্ষা আইন পাশ করতে যাচ্ছে সরকার।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বোয়ালখালীতে নীট আবাধি জমি রয়েছে ১৬ হাজার ৯২০একর। এর মধ্যে এক ফসলি জমি ৩হাজার ৫৩২ দশমিক ৪০ একর, দুই ফসলি জমি ১২হাজার ১৫২দশমিক ৪০একর ও তিন ফসলি জমি ১হাজার ১৩৬ দশমিক ২০একর। বর্তমানে তা আবাসন, মিল কারখানা, খাল ভরাটসহ বিভিন্ন কারণে দিনেরপর দিন কমেছে আসছে। এতে কৃষি জমির আবাদ প্রায় বন্ধ হতে চলছে।

২০১৭ সাল নাগাদ ভূমি জোনিংয়ের লক্ষ্য ঠিক করেছে সরকার। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও কৃষি জমি চিহ্নিত করার কথা বলেছেন।

ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী বলেন, আইনে ল্যান্ড জোনিংয়ের ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। যাতে কৃষি জমি, শিল্পে ব্যবহারের জমি সুরক্ষা করতে পারি। ল্যান্ড জোনিংয়ের ক্ষেত্রে একটি পাইলট প্রকল্প করার কথাও জানান মন্ত্রী।

মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট (এসআরডিআই) প্রতিবেদন অনুযায়ী বিভাগওয়ারি অকৃষি খাতে জমি চলে যাওয়ার প্রবণতা চট্টগ্রাম বিভাগে বেশি। এ বিভাগে প্রতিবছর ১৭ হাজার ৯৬৮ হেক্টর জমি অকৃষি খাতে চলে যাচ্ছে।

 

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: