সোমবার, ১৮ জুন ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
ছাত্রীর সঙ্গে শিক্ষকের কুকীর্তি ফাঁস!  » «   মায়ের পছন্দ ব্রাজিল, সমর্থক জয়ও  » «   পুলিশ কমিশনার‘ঈদগাহে ছাতা ও জায়নামাজ ছাড়া অন্য কিছু নয়’  » «   ‘আমিও প্রেগনেন্ট হয়েছি, অনেকবার অ্যাবরশনও করিয়েছি’  » «   গুগল পেজ ইরর দেখায় কেন?  » «   রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, সিইসি কে কোথায় ঈদ করছেন  » «   ইসি সচিব : তিন সিটি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা  » «   বিপজ্জনক রূপ নিয়েছে মনু ও ধলাই  » «   বিশ্বকাপের একদিন আগে বরখাস্ত স্পেন কোচ!  » «   ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কে ৭ কি.মি. যানজট  » «   শারীরিক সম্পর্ক নিয়ে আলিয়ার সোজা কথা!  » «   যে কারণে ইউনাইটেড হাসপাতালে যেতে চান খালেদা  » «   খালেদা চিকিৎসা চান নাকি রাজনীতি করছেন : সেতুমন্ত্রী  » «   যানজটের কথা শুনিনি, কেউ অভিযোগও করেননি  » «   ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান ‘বকশিসের নামে নীরব চাঁদাবাজি নেই’  » «  

অপরাধ ‘কন্যা’ হয়ে জন্ম, হাসপাতালে রেখেই বাবা-মায়ের চম্পট



Koyinna_BG20160422182618নিউজ ডেস্ক:: ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ২০৫ নম্বর শিশু সার্জারি ওয়ার্ডের ২ নম্বর বিছানায় (পর্যবেক্ষণ) ফুটফুটে কন্যার অভিভাবক এখন সবাই।

হাসপাতালের ডাক্তার, নার্স, ব্রাদার, চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী, চিকিৎসাধীন রোগীর স্বজন সবার নয়নের মণি সাতদিন বয়সী ওই নবজাতক।

কাজের ফাঁকে, অবসরে সময় বের করে সবাই তাকে আদর করছে। খোঁজ-খবর নিচ্ছে।

গত ১৬ এপ্রিল ঢামেক হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ফুটফুটে শিশুটির জন্ম হয়। কিন্তু জন্ম হয় তার কিছু শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়ে। এই সাত দিনের মধ্যে শিশুটির শরীরে একটি অস্ত্রোপচারও করা হয়।

তবে শুরু থেকেই অসন্তুষ্ট শিশুটির বাবা-মা। শিশুটির মা ওয়ার্ডে থাকা রোগীর স্বজনদের বলেন, ‘ছেলে হলেই ভালো হতো। এবারও কন্যা সন্তান। আগেও আমার মেয়ে হয়েছে। আমার স্বামী আমাকে তালাক দেবে’।

গত চারদিন যাবৎ শিশুটির বাবা-মা লাপাত্তা। ওয়ার্ড বয় ওসমান জানান, কন্যা সন্তান হওয়ায় শিশুটির বাবা-মা তাকে ফেলে গেছে। অন্যান্য রোগীর সঙ্গে থাকা স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে আমরা এমনটাই জানতে পেরেছি।

শিশুটির ভর্তি ফাইলে অভিভাবকের নাম লেখা রয়েছে মনির।

একই ওয়ার্ডের ২৫ নম্বর বিছানায় চিকিৎসাধীন হামিম (৭)। তার মা হেনা বেগম জানান, ফুটফুটে শিশুটির মা আমাকেও বলেছে- ‘কন্যা সন্তান হয়েছে, আমার স্বামী আমাকে তালাক দেবে’। মায়ের বয়স ১৭ বছর হবে, তার স্বামীর বয়সও ২০ বছরের বেশি হবে না।

হেনা আরও বলেন, শিশুটিকে দেখতে ওর বাবা এসেছিলো। কোলে নিয়ে আদর করে গেছে। কিন্তু গত চারদিন থেকে কেউ আসছে না।

এ প্রসঙ্গে ওয়ার্ডের অ্যাসিসট্যান্ট রেজিস্টার ডা. ফাতেমা সাঈদ বলেন, শিশুটি কিছুটা প্রতিবন্ধকতা নিয়ে জন্মেছিলো। ওর পেটে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। এখনও কেবল স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে। মুখে কোনো খাবার দেওয়া হচ্ছে না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধায়নেই রয়েছে শিশুটি। কিন্তু গত চারদিন তার কোনো স্বজনকে দেখা যায়নি।

এ প্রসঙ্গে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) খাজা আবদুল গফুর বলেন, চারদিন যাবৎ শিশুটির বাবা-মা কেউ আসেননি আমিও শুনেছি। শিশুটিকে তারা ফেলে গেছে এখনই এমন বলা যাবে না। এখন শিশুটির সুস্থতাই সবচেয়ে বড় বিষয়। আমরা লক্ষ্য রাখছি অস্ত্রোপচারের পরে যেন কোনো ধরণের জটিলটা সৃষ্টি না হয়। ইনফেকশন যেন না হয়।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: